৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:২৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০১৮
২৯ অক্টোবর ২০১৮, সোমবার : বহুল আলোচিত জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
সোমবার দুপুরে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের অস্থায়ী আদালতের বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান এই রায় দেন। অসুস্থ থাকায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।
এর আগে জিয়া অরফানেজ মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন একই আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া আদালতে না আসায় তার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে বলে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আখতারুজ্জামান আদেশ দেন।
এ আদেশ বাতিল চেয়ে রিভিশন আবেদন করলে ১৪ অক্টোবর হাইকোর্ট আবেদন খারিজ করে দেন। পরে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ১৫ অক্টোবর আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।
এর পর ১৬ অক্টোবর বিচারিক আদালত এ মামলার রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন। এ অবস্থায় আজকের জিয়া চ্যারিটেবল মামলার রায় হবে কি না, তা অনেকটা আপিল বিভাগের পরবর্তী আদেশের ওপর নির্ভর হয়ে পড়ে। আপিল বিভাগের আদেশের পর সেই বাধা কেটে যায়।
গত ৪ সেপ্টেম্বর আইন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারের একটি কক্ষকে আদালত হিসেবে ঘোষণা করেন। ৫ সেপ্টেম্বর সেখানে আদালত বসে। কারাগারে থাকা খালেদা জিয়া সেদিন আদালতে হাজির হয়ে আদালতকে বলেছিলেন, এ আদালতে ন্যায়বিচার নেই। তিনি অসুস্থ। আদালতে আসবেন না। যত দিন ইচ্ছা আদালত তাকে সাজা দিতে পারেন।
এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেন বিচারিক আদালত। রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে ওই দিন বিকেলে (৮ ফেব্রুয়ারি) নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা যেভাবে এগিয়েছে
বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে দুটি দুর্নীতির মামলা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে ‘জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’ দুর্নীতি মামলা অন্যতম।
ফেব্রুয়ারি মাসে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আদালতে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে খালেদা জিয়া প্রায় আটমাস যাবত কারাগারে আছেন।
খালেদা জিয়া কারাগারে যাবার পর সেপ্টেম্বর মাসে নাজিম উদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরাতন কারাগারের ভেতরে আদালতের এজলাস বসানো হয়।
গত ৫ ই সেপ্টেম্বর আদালতে এসে খালেদা জিয়া বলেন, তিনি অসুস্থ এবং বারবার আদালতে আসতে পারবেন না। খবর বিবিসির।
খালেদা জিয়া আদালতকে বলেন, ‘বারবার আসতে পারবো না। যত ইচ্ছা সাজা দিয়ে দেন।’
২০১০ সালে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট-এ অর্থের উৎস নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ২০১১ সালের আগস্ট মাসে দুর্নীতি দমন কমিশন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাটি দায়ের করে।
মামলা দায়ের করার পর দুর্নীতি দমন কমিশন একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়। প্রায় ১৭ মাস তদন্ত শেষে ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে চার্জশীট দাখিল করা হয় আদালতে। এর পর সেটিকে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করেন খালেদা জিয়া।
অভিযোগ পত্র দায়ের করার প্রায় ২৬ মাস পরে এ মামলার বিচার কাজ শুরু হয়। ২০১৪ সালের মার্চ মাসে এ মামলার অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কাজ শুরু হয়।
এরপর মামলার কার্যক্রম স্থগিতে আবেদন জানিয়ে উচ্চ আদালতে যান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য ২০১৪ সালের মে মাসে ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আদালতের অস্থায়ী এজলাস স্থাপন করা হয়। এর আগে মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের অন্যতম সদস্য মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেছেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি প্রায় দুই বছরের মতো কার্যক্রম স্থগিত ছিল। দীর্ঘদিন মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকার পরে আবারো নিম্ন আদালতে বিচারকার্য শুরু হয়।
২০১৬ সালের মার্চ মাসে এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করা হয়। এ মামলায় আদালতে মোট ৩২ জন সাক্ষী হাজির হয়েছিলেন। এ মামলায় দুর্নীতি কমিশনের পক্ষে সাক্ষী ছিলেন ১০ জনের বেশি।
এই মামলায় খালেদা জিয়া এবং অন্য অভিযুক্তরা তাদের পক্ষে কোন সাফাই সাক্ষী দেননি। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা এ মামলায় সাফাই সাক্ষী না দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
এ মামলার অনেক বিষয় খালেদা জিয়া এবং অন্য অভিযুক্তদের তরফ থেকে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আদালত পরিবর্তনের জন্যও আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু সেসব আবেদন খারিজ হয়ে যায়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী খুরশিদ আলম বলেছেন, মামলা তদন্ত কাজ এবং আদালত পরিবর্তনসহ নানা বিষয় চ্যালেঞ্জ করে অভিযুক্তদের তরফ থেকে ৩০ বারের বেশি উচ্চ আদালতে আবেদন করা হয়েছে।
‘দুর্নীতির মামলায় প্রত্যেকবারই সময়ের দরখাস্ত পড়ে। সেটা হাইকোর্টে হোক কিংবা সুপ্রিম কোর্টে। এভাবে সময়ক্ষেপণ হয়েছে,’ বলেন খুরশীদ আলম।
মামলার অভিযোগে কী বলা হয়েছে?
দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় খালেদা জিয়া তার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছেন।
ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ টাকা লেনদেন করা হয়েছে বলে মামালার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ টাকার কোন উৎস তারা দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়াও অন্য অভিযুক্তরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, তৎকালীন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান এবং হারিস চৌধুরীর একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না।
হারিস চৌধুরী ছাড়া বাকি সবাই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধানের মাধ্যমে জানতে পারে যে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট গঠন করে।
সেটির ট্রাস্টি ছিল খালেদা জিয়ার দুই ছেলে। সে ট্রাস্টের জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে টাকা সংগ্রহ করা হলেও সেটি দাতব্য কাজে খরচ করা হয়নি। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ফান্ডে প্রায় আট কোটি টাকা জমা হয়েছিল।
এর মধ্যে বিএনপির দলীয় ফান্ড থেকে যে টাকা এসেছে সেটি দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তে বাদ দেয়া হয়েছে।
বাকি তিন কোটি ১৫ লাখ টাকার কোন উৎস তারা দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে আদালতে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, এ টাকা যারা জোগাড় করেছেন তাদের মধ্যে মূল ব্যক্তি হলেন হারিস চৌধুরী।
এ টাকা জোগাড় করার জন্য হারিস চৌধুরী তার একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্নাকে ব্যবহার করেছেন।
এছাড়া তৎকালীন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকার এপিএস মনিরুল ইসলাম খানকে এ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বলে মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।
মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য-প্রণোদিত বলে বর্ণনা করেছেন তার আইনজীবীরা।
তারা বরাবরই বলেছেন, ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় খালেদা জিয়া কোন প্রভাব খাটিয়ে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের জন্য অর্থ জোগাড় করেন নি।
বিএনপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সহায়তায় এই ট্রাস্ট ফান্ড গড়ে উঠেছে বলে আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি প্রদান করেছেন।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D