২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬:১১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৯, ২০২৬
সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ ওভারসীজ সেন্টার ভবন ভাঙা ও লিজগ্রহীতা ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদে জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর মহামান্য হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ প্রদান করেছেন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেন এবং নির্দেশ দেন যে, যথাযথ বিশেষজ্ঞ (Expert) প্রতিবেদন ছাড়া ভবনের প্রকৃত অবস্থা কারিগরিভাবে মূল্যায়ন না করে কোনো উচ্ছেদ বা ভাঙার কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না; একই সঙ্গে আগামী তিন মাস আবেদনকারী ব্যবসায়ীদের অবস্থানে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদালত রুল জারি করে জেলা প্রশাসককে শোকজ করেন এবং জানতে চান—বিশেষজ্ঞ মতামত ছাড়া ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ হবে না।
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে জেলা প্রশাসন ভবনটিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করে লিজ বাতিল এবং ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে দোকান খালি করার নির্দেশ দেয়; তবে লিজগ্রহীতাদের দাবি, ২০১৯ সালে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকায় এই মার্কেটের নাম ছিল না। ১৯৭৮ সালে প্রবাসীদের বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৮২ সালে চালু হওয়া এই মার্কেটে ব্যবসায়ীরা গত ৪২ বছর ধরে নিয়মিত ভাড়া প্রদান করে আসছেন; ২০১০ সালে ট্রাস্টের ১০৯তম সভায় স্থায়ী লিজ প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও আজ পর্যন্ত কোনো নবায়নের লিখিত লিজ ডিড দেওয়া হয়নি, অথচ পরবর্তী সময়েও ভাড়া গ্রহণ অব্যাহত রাখা হয়েছে।
ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহিদুল ইসলাম মাহিদ বলেন, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল; বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন ছাড়া তড়িঘড়ি করে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ দেখিয়ে উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, আদালত তার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। আমাদের দাবি আইনগত ও মানবিক—১৯৮২ সালে জেলা প্রশাসনের আহ্বানে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে আমরা এখানে লিজ গ্রহণ করি, তাই ২০১০ সালের ১০৯তম সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে লিখিত স্থায়ী লিজ প্রদান করতে হবে।”
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ২০০২ সালে লিজের মেয়াদ শেষ হলেও পরবর্তীতে ভাড়া গ্রহণ অব্যাহত রাখা হয়; ২০১০ সালে স্থায়ী লিজ নবায়নের সিদ্ধান্ত কার্যকর না করেই ২০২৫ সালে হঠাৎ ভাড়া ৮ টাকা থেকে ১০০–১৫০ টাকায় বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং বিষয়টি নিষ্পত্তি না করেই ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। এমনকি রুল জারি থাকা অবস্থায়ও দোকান খালি করতে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, তারা উন্নয়নের বিপক্ষে নন; বরং আধুনিক ভবন নির্মাণ চান। তবে কোনো লিখিত চুক্তি, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের নিশ্চয়তা ছাড়া উচ্ছেদ গ্রহণযোগ্য নয়। তাই তাদের দাবি—২০১০ সালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থায়ী লিজ/মালিকানা প্রদান, উচ্ছেদের ক্ষেত্রে কমপক্ষে এক বছর সময় এবং উন্নয়নকালীন সময়ে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
এদিকে অনেক লিজগ্রহীতার জুন ২০২৬ পর্যন্ত জমিদারী খাজনা পরিশোধ করা থাকা সত্ত্বেও বারবার চাপ প্রয়োগ করে উচ্ছেদের চেষ্টা কেন করা হচ্ছে—এ প্রশ্ন এখন ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, একদিকে প্রশাসন নিয়মিত ভাড়া গ্রহণ করে রশিদ প্রদান করছে, অন্যদিকে একই সময়ে উচ্ছেদের জন্য চাপ প্রয়োগ করছে—যা পরস্পরবিরোধী ও আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
এর আগে গত ১৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ওভারসীজ সেন্টারের ব্যবসায়ীরা একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন, যেখানে ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহিদুল ইসলাম মাহিদ লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে তাদের সব দাবি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। বিজ্ঞপ্তি

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D