|
প্রকাশিত: ৯:৪১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২৬
ডাঃ দেবাশীষ চৌধুরী : বর্তমান সময়ে লিভার রোগের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া সমস্যাগুলোর একটি হলো নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বা এনএএফএলডি। অর্থাৎ, অ্যালকোহল বা মদ্যপান ছাড়াও যখন ফ্যাটি লিভার দেখা দেয়, তাকে মূলত এনএএফএলডি বলে। এর থেকে শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার হয় যে, যাদের ধারণা ছিল কেবল মদে আসক্তদেরই লিভারের জটিলতা বা রোগ হয়, তারা সম্পূর্ণ ভুল জেনে এসেছেন।
বৈশ্বিক স্বাস্থ্য গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ফ্যাটি লিভারের উপস্থিতি রয়েছে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় এই হার আরও দ্রুত বাড়ছে। যার প্রধান কারণ স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, মেটাবলিক সিনড্রোমের বৃদ্ধি ইত্যাদি।
লিভার মানবদেহের বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ, গ্লাইকোজেন সংরক্ষণ, প্রোটিন উৎপাদন এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। কিন্তু যখন লিভার কোষে অতিরিক্ত ট্রাইগ্লিসারাইড জমতে শুরু করে, তখন তাকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি সিম্পল হেপাটিক স্টেটোসিস হিসেবে থাকে, যেখানে লিভারের কোষে চর্বি জমলেও তেমন প্রদাহ দেখা দেয় না। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি নন-অ্যালকোহলিক স্টিটোহেপাটাইটিস বা ন্যাশ-এ রূপ নিতে পারে, যেখানে প্রদাহ দেখা দেওয়ার পাশাপাশি কোষের ক্ষতি শুরু হয়। সময়মতো চিকিৎসা না হলে এটি ধীরে ধীরে ফাইব্রোসিস বা সিরোসিস-এর মতো জটিল অবস্থা দেখা দিতে পারে।
ফ্যাটি লিভারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো এটি সনাক্ত করা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তেমন জটিল কোন উপসর্গ দেখা দেয় না। মাঝে মাঝে ডান পাশের পেটে ভারী ভাব, ক্লান্তি বা অরুচি ছাড়া তেমন কিছু বোঝা যায় না। ফলে অনেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। অথচ নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিশেষ করে আল্ট্রাসনোগ্রাফি, লিভার ফাংশন টেস্ট (এএলটি, এএসটি) এবং প্রয়োজনে ফাইব্রোস্ক্যান করালে খুব সহজেই রোগ শনাক্ত করা সম্ভব।
গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৭–১০ শতাংশ কমাতে পারলে ফ্যাটি লিভারের জটিলতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত চিনি ও ট্রান্স-ফ্যাট পরিহার, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ইত্যাদির মাধ্যমে ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রেখে লিভারকে সুস্থ রাখা সম্ভব।
লিভারজনিত রোগের সঠিক পরীক্ষা ও ব্যবস্থাপনার জন্য অভিজ্ঞ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের তত্ত্বাবধান ও উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বাংলাদেশে এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সেবা পাওয়া যাচ্ছে। এখানে অত্যাধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি, উন্নত পরীক্ষাগার সুবিধা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধায়নে লিভার ও ডাইজেস্টিভ সিস্টেমের বিভিন্ন রোগের আধুনিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা হয়।
ফ্যাটি লিভার অনেক সময় শুরুতে তেমন উপসর্গ সৃষ্টি না করলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি গুরুতর লিভার জটিলতার কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই একে অবহেলা না করে সচেতন থাকা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমে সুস্থ লিভার ও দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
লেখক: সিনিয়র কনসালট্যান্ট গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি এন্ড হেপাটোলজি, এভারকেয়ার হসপিটাল, চট্টগ্রাম।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D