|
প্রকাশিত: ১০:৫০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২৬
মৌলভীবাজারের রাজনগরে প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নালিহুরী গ্রামে তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হওয়ার কথা ছিল।
এ উপলক্ষে কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজনসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। তবে প্রথম স্ত্রীর অভিযোগের পর বিষয়টি জানাজানি হলে বিয়েতে অসম্মতি জানায় কনেপক্ষ। ফলে শেষ পর্যন্ত বিয়ের আয়োজন ভেস্তে যায়।
অভিযুক্ত মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ধাইসার গ্রামের সৈয়দ চেরাগ আলীর ছেলে সৈয়দ কাওছার আলী (৪৫)। তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ের চেষ্টা এবং কনেপক্ষকে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।
তবে বরপক্ষের দাবি, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।
প্রথম স্ত্রীর অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে কাওছার আলীর সঙ্গে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার একাটুনা ইউনিয়নের বরমান গ্রামের মৃত মানিক মিয়ার মেয়ে আমিনা বেগমের বিয়ে হয়। আমিনা বেগম যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। বিয়ের পর তিনি স্বামীকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যান। সেখানে কয়েক বছর আগে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমোদন পাওয়ার পর কাওছার আলী তাঁর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন বলে জানা গেছে।
আমিনা বেগমের ছোট ভাই মো. আইয়ুব আলী বলেন, তাঁর বোনকে কিছু না জানিয়েই কাওছার আলী দেশে চলে আসেন। পরে তিনি দেশে দ্বিতীয় বিয়ে করতে যাচ্ছেন—এমন খবর পেয়ে আমিনা বেগম বাংলাদেশে আসেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজার মডেল থানায় কাওছার আলীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে কাওছার আলীর সঙ্গে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নালিহুরী গ্রামের এক তরুণীর বিয়ে ঠিক হয়। শুক্রবার দুপুরে মৌলভীবাজারের রুমেল কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হওয়ার কথা ছিল। এ উপলক্ষে অতিথিদের জন্য খাবার প্রস্তুত, সাজসজ্জাসহ প্রয়োজনীয় আয়োজনও সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু কাওছার আলীর আগের বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কনেপক্ষ বিয়েতে অসম্মতি জানায়।
কনেপক্ষের অভিযোগ, আগের বিয়ের তথ্য গোপন রেখে তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সামাজিকভাবে তাঁদের সম্মানহানি হয়েছে এবং মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও তাঁরা উদ্বিগ্ন।
কনের বাবা আব্দুল ওয়াহিদ অভিযোগ করেন, গত ১৬ অক্টোবর বিকেলে কাওছার আলী ও তাঁর বড় ভাই সৈয়দ সাহাদাত আলী তাঁদের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন এবং হুমকি-ধমকি দেন। এ ঘটনায় তিনি মৌলভীবাজার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে প্রায় ১০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, “কাওছার আলীর আগে বিয়ে হয়েছিল—এ বিষয়টি আমাদের জানানো হয়নি। প্রথম স্ত্রী থানায় অভিযোগ করার পর আমরা বিষয়টি জানতে পারি। কাওছার আলী ও তাঁর স্বজনেরা আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এতে আমরা আর্থিক ও সামাজিক—দুই ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কাওছার আলীর বড় ভাই সৈয়দ সাহাদাত আলী বলেন, ‘তাঁর ছোট ভাইয়ের সঙ্গে আমিনা বেগমের বিয়ে হলেও যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে।’
বিয়ে বন্ধ করার উদ্দেশ্যে আমিনা বেগম মিথ্যা অভিযোগ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রে বিবাহ বিচ্ছেদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মৌলভীবাজার মডেল থানার পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন বিয়ের বিষয়ে কনেপক্ষের স্বজনদেরও বিস্তারিত জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
মৌলভীবাজার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সিপু কুমার দাস বলেন, আমিনা বেগমের অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি বরপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বিয়ে বাংলাদেশে হলেও বরপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রে বিবাহ বিচ্ছেদের কিছু কাগজপত্র তাঁকে দিয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D