মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি ও ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা রেবুল’র বিরুদ্ধে বিভাগীয় কমিশনারসহ বিভিন্ন দপ্তরে ভুক্তভোগীর অভিযোগ

প্রকাশিত: ৯:৫৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি ও ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা রেবুল’র বিরুদ্ধে বিভাগীয় কমিশনারসহ বিভিন্ন দপ্তরে ভুক্তভোগীর অভিযোগ

সিলেট সংবাদ ডেস্ক :: ছাতকের একটি মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি ও ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা রেবুল’র বিরুদ্ধে বিভাগীয় কমিশনারসহ বিভিন্ন দপ্তরে এক ভুক্তভোগী অভিযোগ দাখিল করেছেন। বৃহস্পতিবার ( ১৫ অক্টোবর) সিলেট বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি সিলেট, জেলা প্রশাসক, সুনামগঞ্জ, সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার ও নৌ পুলিশ সুপার, সিলেট বরাবরে অভিযোগটি দাখিল করা হয়েছে। সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা চাটিবহর গ্রামের তৈমুজ আলীর ছেলে সুজন (৪৬) এ সকল অভিযোগ দাখিল করেন। তিনি তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন,তিনি নিয়মিত সিলেটে অবস্থান করে ব্যবসা করে আসছেন। কিন্তু সিলেট শহরে অবস্থান করেও ছাতক সদর ইউনিয়নের ভূমি উপসহকারি কর্মকর্তা রেবুল কুমার দাসের দায়ের করা ছাতক থানার (মামলা নং৩১(০৭)২৬ ইং), ২০১০ সনের বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনের ১৫(১)ধারায় মামলায় তাকে ১৫ নং আসামি করা হয়েছে। অথচ ঐ মামলার ঘটনার সময় ও তারিখে তিনি অন্যত্র অবস্থান করছিলেন। যা তার মোবাইল নাম্বারের সিডিআর, তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করলে পাওয়া যাবে। এছাড়া তিনি উক্ত ঘটনার বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা ছাতক থানার এসআই জয়ন্ত চন্দ্র দে এর সাথে যোগাযোগ করলে, তিনি বলেন মামলাটি সাজানো। মুল অপরাধীদের আড়াল করে নিরপরাধ লোকদের মামলায় আসামি করা হয়েছে ( এই মোবাইল ফোনের অডিও রেকর্ড) তার কাছে আছে।
তিনি লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, এই মামলায় নাম জড়ানোর বিষয়ে মামলার বাদি রেবুল কুমার দাসের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এই মামলা থেকে নাম বাদ দিতে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন (তার ভিডিও এবং অডিও রেকর্ড আছে) এবং ওই সময় সঙ্গে যারা ছিলেন তারাও সাক্ষী হিসেবে প্রয়োজনে সাক্ষী দিবে। আর ওই সময় রেবুল কুমার দাস তাকে বলেন যে, টাকা গুলো জেলা প্রশাসক, ইউএনও স্যার সহ সিনিয়র কর্মকর্তাদের দিতে হবে।
পরবর্তীতে সুজন খবর নিয়ে জানতে পারেন রেবুল কুমার দাস (৪৬)। জাতীয় পরিচয়পত্র নং ৯০২৮৯০৪২২২২৫৮। তিনি ছাতক সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা। তিনি সুনামগঞ্জের দোয়ারা বাজারের মান্নারগাঁও ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের মৃত যোগেশ চন্দ্র দাসের ছেলে। ছাতক-দোয়ারা সুনামগঞ্জের-৫ আসনের অন্তর্গত তার বাড়ি। রেবুল ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এমপি মুহিবুর রহমান মানিকের ঘনিষ্ঠজন।
তিনি একই আসনের বাসিন্দা হওয়ার কারণে তার দহরমমহরম সম্পর্ক রয়েছে পরিবেশ ধ্বংসকারী অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের সাথে। যার ফলে রেবুলের
শেল্টারে প্রকাশ্যে দিনে-রাতে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছে বালু খেকোরা।
বালু খেকোদের বিরুদ্ধে অভিযান হলেও আড়ালে থেকে যায় বালু লুটকারি মূল অপরাধীরা। কারণ অভিযানের আগেই খবর পৌছান রেবুল। জেলা প্রশাসন কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিলে তখনই রেবুল কুমার দাস নিরিহ লোকজনের নাম দিয়ে মামলার আসামি করান। আর ওই মামলা থেকে নাম বাদ দিতে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
সুজন তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, রেবুল কুমার দাসের শেল্টারে বা প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। রেবুলের ছত্রছায়ায় ছাতক ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুফি আলমের নেতৃত্বে তার বাহিনী সম্পুর্ন অবৈধভাবে নৌশাদের বাগান এবং মরা চেলা থেকে দিনে রাতে বালু উত্তোলন করে শতশত নৌকা দিয়ে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া এক সময়কার ছোট খাল গেদুর ঢালা থেকে প্রায় ১০ টি ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে তা নদীতে পরিনত করা হয়েছে। আর সীমান্তবর্তী সোনারপুর, পূর্ব সোনাপুরে রাতে দিনে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন হচ্ছে । বালু উত্তোলনের কারণে নদীর পাড় ও আশপাশের বাড়িঘর নদীতে বিলীন হচ্ছে। ওই এলাকায় থাকা সরকারি জায়গা দখল করে রেবুলের ইশারায় বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে হুমকির মুখে রয়েছে পরিবেশ। এদিকে, অবৈধ বালু উত্তোলনে জড়িত প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, টাস্কফোর্সে ও নৌ-পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-সদস্য জড়িত রয়েছেন।মূলত তাদের গভীর যোগাযোগের কারণে ইজারা ছাড়াই বালু উত্তোলন করছেন অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা। যার ফলে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রতি রাতে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য করছেন রেবুল ও তার সহযোগি বালু ব্যবসায়ীরা। বাণিজ্য চালু রাখতে বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সখ্যও যেন চোখে পড়ার মতো। দিনের পর দিন অবৈধ বালু ব্যবসা চললেও জেলা প্রশাসন কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। মাঝেমধ্যে প্রশাসনের অভিযানে ২-১টি ড্রেজার-বলগেট আটক করা হলেও থেমে থাকে না তাদের কার্যক্রম। প্রশাসন ম্যানেজ করে তারা বাণিজ্য চালান। আর এসকল কিছুর মূলে রয়েছেন রেবুল কুমার দাস।
তাই সুজনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত উদ্দেশ্যপ্রনোদিত মামলাটি তদন্তপূর্বক অব্যাহতির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে করা অনুরোধ জানান।
অপরদিকে দুর্নীতিবাজ ভূমি উপসহকারি কর্মকর্তা রেবুল কুমার দাসের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা উল্লেখ করা হয় ।
ভূমি উপসহকারি কর্মকর্তা রেবুল কুমার দাস জানান, তিনি সিনিয়র কর্মকর্তাদের নির্দেশে মামলা দাখিল করেছেন ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট