ছাতকে আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান

প্রকাশিত: ৯:৫৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২৬

ছাতকে আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান

সুনামগঞ্জের ছাতকে মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ ও উত্তেজনার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

গত শুক্রবার রাতে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্টে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরাও পৃথক মিছিল নিয়ে সেখানে এসে বিক্ষোভে অংশ নেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা গোবিন্দগঞ্জ-ছাতক-সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং পয়েন্ট এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তাদের ব্যবহৃত কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

উপজেলা ছাত্রদলের নেতা মাহবুব ও ইমন আহমদ অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

খবর পেয়ে ছাতক থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সড়ক থেকে টায়ার সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। তবে ঘটনার পর থেকেই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলা ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে। মামলার পর থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কতজন গ্রেপ্তার হয়েছেন, তা নিশ্চিত করেনি পুলিশ।

এদিকে মামলার অন্যতম অভিযুক্ত জাহেদ মিয়া তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি এলাকায় ছিলেন না। এরপরও তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ তার দোকানের তালা ভেঙে তল্লাশি চালালেও কোনো অবৈধ মালামাল পায়নি। তার দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করা হচ্ছে। ছাতক উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দাদের নামেও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তবে পুলিশ বলছে, অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনগত প্রক্রিয়ায় মামলা করা হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট