|
প্রকাশিত: ৯:৫৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২৬
সিলেট নগরীর আলোচিত তিন হত্যাকাণ্ডে নিহত প্রবীণ ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার ও তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগমের মরদেহ দেখতে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেই সরাসরি হাসপাতালের মর্গে ছুটে গেছেন তাঁদের দুই মেয়ে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে তারা সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে সেখান থেকে সরাসরি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে যান। সেখানে তাঁদের বাবা-মা ও গৃহকর্মীর মরদেহ রাখা রয়েছে। মর্গে পৌঁছেই কান্নায় ভেঙে পড়েন দুই মেয়ে। বাবা-মায়ের মরদেহ দেখে শোকে স্তব্ধ হয়ে যান তারা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মর্গ থেকে তারা কোতোয়ালি থানায় গিয়ে হত্যা মামলার কার্যক্রম শুরু করবেন। শুক্রবার নয়াসড়কস্থ হযরত মানিক পীর (রহ.) মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে নিহতদের দাফন সম্পন্ন হবে।
নিহত আব্দুস সাত্তারের চার সন্তানের সবাই প্রবাসে বসবাস করেন। তাঁদের মধ্যে দুই মেয়ে যুক্তরাজ্যে এবং আরেক ছেলে ও মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। যুক্তরাজ্যপ্রবাসী দুই মেয়ে আজ দেশে ফিরলেও তাঁদের ছেলে আরিফ ইফতেখার শুক্রবার দেশে পৌঁছাবেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, ময়নাতদন্ত শেষে তাদের লাশ পরিবারের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত গৃহকর্মী তাহমিনার মরদেহ হযরত মানিক পীর (রহ.) মাজারসংলগ্ন গোসলখানায় গোসল করানো হয়। পরে স্বজনরা তার লাশ নিয়ে সুনামগঞ্জে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার সকালে রায়নগরের মিতালী এলাকার ১১১ নম্বর বাসায় ঘটে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ঘটনার চার ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ রহস্য উদঘাটনের দাবি করে। জিজ্ঞাসাবাদে গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের প্রেমিক বাবুল মিয়া (৪০) একাই তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন সকালে তাহমিনার সম্মতিতে বাবুল বাসায় প্রবেশ করে। পরে অনৈতিক প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে বিরোধ বাধে। একপর্যায়ে বাবুল ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে হত্যা করে। তাহমিনার চিৎকারে এগিয়ে আসা গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং পরে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তারকেও একইভাবে হত্যা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যায় এবং কাছের একটি ঝোপে ছুরিটি ফেলে দেয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজের সহায়তায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয় এবং ঝোপঝাড় থেকে ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো সিলেট নগরীতে শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, এমন নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D