‘গুপ্ত মামলা’ ও হয়রানির মাধ্যমে সিলেটে প্রবাসীর বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ

প্রকাশিত: ৫:৩১ অপরাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২৬

‘গুপ্ত মামলা’ ও হয়রানির মাধ্যমে সিলেটে প্রবাসীর বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ

সিলেট নগরের উত্তর বালুচরের বাসিন্দা ও স্পেন প্রবাসী ছালেহা বেগম অভিযোগ করেছেন, একটি সংঘবদ্ধ ভূমিদস্যু ও চাঁদাবাজ চক্র দীর্ঘদিন ধরে ‘গুপ্ত মামলা’, ভয়ভীতি ও হয়রানির মাধ্যমে তাদের বৈধভাবে কেনা বাড়ি দখলের চেষ্টা করছে।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে ছালেহা বেগম বলেন, তিনি ও তাঁর স্বামী ইংল্যান্ড প্রবাসী মো. ফজর আলী প্রবাস জীবনের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে ২০১৮ সালে সিলেট নগরের উত্তর বালুচরে একটি দ্বিতীয়তলা বাড়ি ক্রয় করেন। প্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রি, নামজারি ও খাজনা পরিশোধের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে তারা বাড়িটি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে রয়েছেন। বর্তমানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ওই বাড়িতেই বসবাস করছেন এবং তাঁর নাতি-নাতনিরা স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে।

তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি নগরের কাজীটুলা এলাকার জুয়েল আহমদ নিপুর নেতৃত্বাধীন একটি চক্র বাড়িটি দখলের উদ্দেশ্যে টাঙ্গাইলের শাহনাজ সিদ্দিকী ডোরা নামের এক নারীকে দিয়ে স্বত্ব মামলা দায়ের করায়। ওই মামলায় তাদের পক্ষভুক্ত না করেই রায় নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ছালেহা বেগমের ভাষ্য, ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর রায় বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও লোকজন নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়। পরে তারা জেলা জজ আদালতে স্বত্ব আপিল মামলা দায়ের করলে ওই রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, আপিল মামলা চলমান অবস্থায় প্রতিপক্ষ বিভিন্ন সময় আপসের নামে অর্থ দাবি, প্রাণনাশ, অপহরণ ও গুমের হুমকি দিচ্ছে। এমনকি পরিবারের শিক্ষার্থী সদস্যদেরও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

ছালেহা বেগম বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে তারা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। তবে সেটি যথাযথভাবে তদন্ত না করে নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক অভিযোগে পাল্টা জিডি করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন।

তিনি বলেন, এসব ঘটনায় তাদের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে এবং যেকোনো সময় জানমালের ক্ষতি হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে ছালেহা বেগম বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসন, সিলেট সিটি করপোরেশন এবং বিএনপির জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দের প্রতি বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট