হজযাত্রায় বিমান ভাড়া ১ লাখ টাকার মধ্যে আনা সম্ভব : হাব সভাপতি

প্রকাশিত: ৯:১০ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০২৬


আগামী বছরের হজযাত্রায় বিমান ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার। তার মতে, বিমান সংস্থাগুলোর অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা বন্ধ করা গেলে হজযাত্রার টিকিট মূল্য ১ লাখ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে চলতি বছরের হজ কার্যক্রমের সর্বশেষ পরিস্থিতি ও সার্বিক অবস্থা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে হাব সভাপতি অভিযোগ করে বলেন, ‘হজ ডেডিকেটেড ফ্লাইটের নামে বিমান সংস্থাগুলো হজযাত্রীদের কাছ থেকে প্রায় ৫৪ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। তার মতে, এই একচেটিয়া ব্যবসার কারণে সাধারণ যাত্রীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।’

তিনি বলেন, টিকিটের দাম ও মোয়াল্লেমের খরচ বেড়ে যাওয়ায় হাজিদের সংখ্যা কমেছে। টিকিটের দাম যদি ১ লাখ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনা যেত, তাহলে প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার হাজি হজে যেতে পারত।

সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছর হজের বিমান ভাড়া আরও কমানো সম্ভব হবে।

সৈয়দ গোলাম সরওয়ার আরও বলেন, ‘মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা গেলে হজের সার্বিক খরচ অনেকটাই কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই থাকবে এই ধর্মীয় ইবাদত।’

সংবাদ সম্মেলনে ২০২৬ সালের হজ কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরেন হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার। তিনি বলেন, ‘নানামুখী চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ধর্ম মন্ত্রণালয়, হজ অফিস এবং হাবের সমন্বিত সহযোগিতায় এবারের হজ ব্যবস্থাপনা সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, অল্প সময়ের মধ্যে মোয়াল্লেম চুক্তি, বাড়ি ভাড়া, পরিবহন চুক্তি এবং তাঁবু নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করতে হয়েছে।

হজের বিমান ভাড়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাস্তবে বাংলাদেশ থেকে কোনো ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইট পরিচালিত হয় না। তবে এ নাম ব্যবহার করে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার মতে, বিমান ভাড়া আরও যৌক্তিক ও সহনীয় পর্যায়ে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে হাব নেতারা সৌদি সরকারের নতুন নির্দেশনার প্রসঙ্গ তুলে দেশের বিদ্যমান হজ ও ওমরাহ আইন দ্রুত সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা জানান, ভিসা ও ফ্লাইটসংক্রান্ত জটিলতা অনেকটাই কেটে গেছে। ফলে কোটা অনুযায়ী দেশের সব হজযাত্রী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছাতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বড় ধরনের কোনো শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই বলেও তারা উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে হাবের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং আশকোনা হজ ক্যাম্পের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট