সাগর-রুনি হত্যা মামলা: তদন্তে আরও ৬ মাস সময় দিলেন হাইকোর্ট

প্রকাশিত: ১০:৫১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৬, ২০২৬

সাগর-রুনি হত্যা মামলা: তদন্তে আরও ৬ মাস সময় দিলেন হাইকোর্ট

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করতে টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রোববার (২৬ এপ্রিল) বিচারপতি ফাতেমা নজীব এবং বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিম-এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আখতার হোসেন মো. আবদুল ওয়াহাব।

বাদীপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এবং রিট আবেদনকারী পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

শুনানিকালে অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতের কাছে তদন্তের জন্য আরও সময় প্রার্থনা করেন। তিনি জানান, মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে, তবে ১৩ বছরেও চার্জশিট দিতে না পারা দুঃখজনক। তদন্ত সম্পন্ন করতে আরও ছয় মাস সময় প্রয়োজন।

অন্যদিকে রিটকারীর আইনজীবীরা ছয় মাসের পরিবর্তে তিন মাস সময় দেওয়ার আবেদন জানান। তবে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে আরও ছয় মাস সময় দেন।

শুনানি শেষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, যাদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন তাদের অনেককে এখনও পাওয়া যাচ্ছে না। তদন্তই শেষ হচ্ছে না- এ অবস্থায় বিচার কবে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর এই মামলার তদন্তে ‘শেষবারের মতো’ ছয় মাস সময় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। তবে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আবারও সময় চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের নির্দেশে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এতে পুলিশের একজন প্রতিনিধি (অ্যাডিশনাল ডিআইজি পদমর্যাদার নিচে নয়), সিআইডির একজন প্রতিনিধি এবং র‌্যাবের একজন প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ।

এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট এই মামলার তদন্তে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন এবং ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে বলেন। একইসঙ্গে মামলার তদন্ত থেকে র‌্যাবকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিলও মামলার তদন্তে আরও ছয় মাস সময় বাড়ানো হয়েছিল।

দীর্ঘদিনেও আলোচিত এ হত্যা মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।