সিলেটে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের কর্মশালা

প্রকাশিত: ২:১৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১২, ২০২৬

সিলেটে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের কর্মশালা

সুবর্ণা হামিদ : সিলেটে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় বিচার ব্যবস্থা এবং এর প্রচার প্রসারে গণমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক একটি বিশেষ মতবিনিময় সভা ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় বক্তারা জানান, গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ অনুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ে দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ দ্রুত ও স্বল্প খরচে নিষ্পত্তির জন্য ইউনিয়ন পরিষদে এই আদালত গঠিত হয়। বর্তমানে গ্রাম আদালত সর্বোচ্চ ৩,০০,০০০ (তিন লক্ষ) টাকা মূল্যমানের মামলা নিষ্পত্তি করতে পারে। এতে কোনো আইনজীবীর প্রয়োজন হয় না বলে সাধারণ মানুষ অতি সহজে ন্যায়বিচার পায়।
ফৌজদারি মামলার জন্য মাত্র ১০ টাকা এবং দেওয়ানি মামলার জন্য ২০ টাকা ফি দিয়ে আবেদন করা যায়।
নারী সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রাম আদালতের প্যানেল সদস্য হিসেবে নারীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।
এখানে কোনো পক্ষকে পরাজিত না করে সমঝোতার ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়, যা সামাজিক শান্তি বজায় রাখে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মোঃ সারওয়ার আলম। তিনি গ্রাম আদালতকে তৃণমূলের মানুষের বিচার পাওয়ার শেষ ভরসাস্থল হিসেবে উল্লেখ করে এর যথাযথ বাস্তবায়নে দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (উপসচিব) সুবর্ণা সরকার। এছাড়া প্রকল্প সমন্বয়কারী এনালিস্ট ড. শঙ্কর পাল এবং লিগ্যাল এনালিস্ট ব্যারিস্টার মশিউর রহমান চৌধুরী গ্রাম আদালত আইন এবং এর প্রায়োগিক দিক নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা প্রদান করেন।
কর্মশালায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জানানো হয় যে, ধর্ষণ, খুন, অপহরণ, ডাকাতি এবং যৌতুকের মতো গুরুতর অপরাধগুলো গ্রাম আদালতের বিচার্য বিষয় নয়। এছাড়া স্থাবর সম্পত্তির স্বত্বাধিকার সংক্রান্ত জটিলতা এবং f৩ লক্ষ টাকার অতিরিক্ত মূল্যের কোনো বিরোধ এখানে নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়।
প্রকল্পের ৩য় পর্যায়ে গ্রাম আদালতকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, গ্রাম আদালতের কার্যক্রম গতিশীল হলে উচ্চতর আদালতের ওপর মামলার জট অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট