রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান একজন নিখাদ দেশপ্রেমিকের প্রতিকৃতি

প্রকাশিত: ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০১৬

 আতিকুর রহমান রুমন

‘এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ/মরণে তাহাই তুমি করে গেলে দান।’ কর্মনিষ্ঠ পুরুষ রিয়ার অ্যাডমিরাল এম এ খানের ক্ষেত্রে এ কথা যথার্থই খাটে। বাংলাদেশ সরকারের সাবেক যোগাযোগ উপদেষ্টা, কৃষিমন্ত্রী ও নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান কর্মগুণে ও চারিত্রিক মাধুর্যে আমাদের রাজনীতিতে নক্ষত্রের মতোই বিরাজ করছিলেন। তার অস্তিত্বজুড়ে ছিল যেমন অখণ্ড কর্মপ্রেরণা, তেমনি ছিল সততা ও দেশপ্রেমের বিরল চেতনা। তিনি বলতেন, ‘সততা ছাড়া দেশপ্রেম মূল্যহীন, সততা নিয়েই দেশের জন্য কাজ করে যেতে হবে।’ বাস্তবিকই স্বল্পপরিসর জীবনের সর্বস্তরে তিনি তার এই চেতনারই বাস্তবায়ন করে গেছেন অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে। আর এই কর্মগুণেই তিনি দেশের মানুষের অতি প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন জীবনের শেষ দিনগুলোতে। নিজ জীবনে যেমন সততাকে সাথী করেছিলেন, তেমনি অন্যদেরও সৎ থাকায় উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।

বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অধিকারী এই মহান পুরুষের গতকাল ৬ আগস্ট ছিল ৩২তম শাহাদতবার্ষিকী। গৌরবময় সুদীর্ঘ পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারক রিয়াল অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের জন্ম ১৯৩৪ সালের ৩ নভেম্বর সিলেটের বিরাহীমপুরের সম্ভ্রান্ত ও বিখ্যাত মুসলিম পরিবারে। তৎকালীন ভারতের ১৯০১ সালে প্রথম মুসলিম ব্যারিস্টার আহমেদ আলী খান তার পিতা। আহমেদ আলী খান ছিলেন নিখিল ভারতের আইন পরিষদের সদস্য এমএলএ ও আসাম কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট। যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আহমেদ আলী খান তিনটি বিষয়ে এমএ ডিগ্রি লাভ করেছিলেন। তিনি ছিলেন হায়দরাবাদ নিজামের প্রধান আইন উপদেষ্টা।
অন্য দিকে অবিভক্ত বিহার, আসাম ও উড়িষ্যার জমিদার খান বাহাদুর ওয়াসিউদ্দিন আহমেদের কন্যা যুবাইদা খাতুন ছিলেন মাহবুব আলী খানের মা। আর যুবাইদা খাতুনের দাদা ব্রিটিশদের থেকে অর্ডার অব এম্পায়ার খেতাব পান। ১৮৯৭ সালে ভারতে চতুর্থ মুসলিম হিসেবে আইসিএস লাভ করেছিলেন চাচা গজনফর আলী খান। গজনফর আলী খান ১৯৩০ সালে অর্ডার অব এম্পায়ার খেতাব পান।
এম এ খানের দাদা ছিলেন ভারতের বিশিষ্ট চিকিৎসক খান বাহাদুর আজদার আলী খান। তিনি বিহার ও আসামের দারভাঙ্গা মেডিক্যাল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও পাটনা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক। ১৯২৪ সালে তিনি সিলেটে নাফিজাবানু চ্যারিটেবল হাসপাতাল ও ১৯৩০ সালে ম্যাটার্নিটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন।
এম এ খানের পিতা আহমেদ আলীর মামা জাস্টিস আমীর আলী কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ছিলেন। দাদা খান বাহাদুর আজদার আলী ছিলেন সৈয়দ আমীর আলীর জামাতা। স্যার সৈয়দ আমীর আলী ছিলেন ইংল্যান্ডের রয়্যাল প্রিভিকাউন্সিল সদস্য ও ইন্ডিয়ান ভাইসরয় এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল সদস্য। স্যার সৈয়দ আমীর আলীর বিখ্যাত দু’টি গ্রন্থ ‘হিস্ট্রি অব সারাসেন’ ও ‘স্পিরিট অব ইসলাম’।
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানী ছিলেন এম এ খানের চাচাতো ভাই। শেরে সিলেট ও অবিভক্ত পাকিস্তানের মন্ত্রী মরহুম আজমল আলী চৌধুরী ছিলেন তার চাচাতো ভাই।
দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে এম এ খান ছোট। বড় বোন সাজেদা বেগম। মেজভাই চিকিৎসক সেকেন্দার আলী খান। সেকেন্দার আলী খানের মেয়ে আইরিন খান অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সিলেটের বিরাহীমপুর, কলকাতা ও পুরান ঢাকার ৬৭ পুরানা পল্টন লাইনের বাড়িতে এম এ খানের শৈশব ও কৈশোর কাটে। কলকাতা ও ঢাকায় তার প্রাথমিক শিক্ষাগ্রহণ হয়। ছোটবেলা থেকেই ছিলেন শান্ত, ধীর আর চিন্তাশীল। সুদর্শন, উন্নত শারীরিক গঠন ও ব্যক্তিত্বপূর্ণ অভিব্যক্তির কারণে সবার প্রিয় ছিলেন তিনি। খেলাধুলাও করতেন। ব্যাডমিন্টনে ছিলেন পারদর্শী। প্রতিদিন সকালে নামাজ আদায় করে পবিত্র কুরআন শরিফ তিলাওয়াত করতেন। যেকোনো কাজের আগে স্মরণ করতেন আল্লাহকে। ছিলেন খাদ্যরসিকও। গলদা চিংড়ি ও ইলিশ মাছ পছন্দ করতেন খুব।
১৯৫৫ সালে ২১ বছর বয়সে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন সৈয়দা ইকবালমান্দ বানুর সাথে। তাদের দুই কন্যা শাহিনা খান জামান (বিন্দু) এবং ডা: যুবাইদা রহমান (ঝুনু)। শাহিনা খান জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক স¤পর্ক বিভাগে পড়াশোনা করেন। ছোট কন্যা যুবাইদা রহমান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রি লাভ করেন। যুক্তরাজ্য থেকে তিনি প্রিভেনটিভ কার্ডিওলজি থেকে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। এতে ৫২টি দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অর্জন করেন প্রথম স্থান। বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমডোর সৈয়দ শফিউজ্জামান এম এ খানের জ্যেষ্ঠ জামাতা। তিনি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের সামরিক উপদেষ্টা ছিলেন। আর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার কনিষ্ঠ জামাতা। বাংলাদেশে ১/১১ সরকার আমলে আটকাবস্থায় নির্যাতনের শিকার তারেক রহমান বর্তমানে লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের কন্যা জাইমা রহমান এম এ খানের একমাত্র নাতনী।
১৯৫২ সালে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যোগ দেন এম এ খান। ক্যাডেট হিসেবে প্রশিক্ষণ লাভ করেন কোয়েটার সম্মিলিত বাহিনীর স্কুল থেকে। যুক্তরাজ্যের ডার্মউইথ রয়্যাল নেভাল কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেন। ১৯৫৪ সালে ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর রণতরী ট্রাম্পে প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৫৬ সালের পয়লা মে স্থায়ী কমিশন লাভ করেন। রয়্যাল কলেজ, গ্রিনিচসহ ইংল্যান্ডের রয়্যাল নেভাল ইনস্টিটিউশনে বিভিন্ন কোর্স সমাপ্ত করেন। ১৯৬৩ সালে কৃতী অফিসার হিসেবে যুক্তরাজ্যে রানী এলিজাবেথ তাকে পুরস্কৃত করেন। একই বছর যুক্তরাজ্যে ভূমি থেকে টর্পেডো ও অ্যান্টিসাবমেরিন ওয়ারফেয়ার অফিসার হিসেবে উত্তীর্ণ হন এবং পাকিস্তান নেভাল স্টাফ কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেন। করাচিতে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট থেকে সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট কোর্স সম্পন্ন করেন। এর আগে ১৯৬০ সালে পিএনএস তুগ্রিলের গানারি অফিসার হন। পরে ১৯৬৪ সালে পিএনএস টিপু সুলতানের টর্পেডো ও অ্যান্টি-সাবমেরিন অফিসার হন। ১৯৬৭-৬৮ সালে তিনি রাওয়ালপিন্ডিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে জয়েন্ট চিফ অব সেক্রেটারিয়েট স্টাফ অফিসার (ট্রেনিং এবং মিলিটারি অ্যাসিস্ট্যান্স) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭০ সালে পিএনএস হিমালয়ে টর্পেডো ও অ্যান্টিসাবমেরিন স্কুলের অফিসার ইন চার্জ ও করাচিতে সি-ওয়ার্ড ডিফেন্স অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন।
স্বাধীনতাযুদ্ধের আগে স্ত্রী ও দুই কন্যাসহ এম এ খান পশ্চিম পাকিস্তানে চাকরিরত ছিলেন। যুদ্ধকালীন সময়ে পরিবারসহ তিনি গৃহবন্দী হন। তিন বছর বন্দী থাকার পর ১৯৭৩ সালে স্ত্রী ও দুই কন্যাসহ আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে কৌশলে বাংলাদেশে পৌঁছেন।
এরপর ১৯৭৩ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রাম মার্কেন্টাইল অ্যাকাডেমির প্রথম বাঙালি কমান্ড্যান্ট নিযুক্ত হন। ১৯৭৪ সালে নৌ সদর দফতরে পারসোনেল বিভাগের পরিচালক পদে নিয়োগ পান। ১৯৭৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি নৌবাহিনীর সহকারী স্টাফ প্রধান (অপারেশন ও পারসোনেল) নিযুক্ত হন। ১৯৭৬ সালের ডিসেম্বরে রয়্যাল নেভির হস্তান্তরিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রথম রণতরী বিএনএস ওমর ফারুকের (সাবেক এইচএমএম ন্যাভডক) অধিনায়ক হন। রণতরীটি নিয়ে আলজেরিয়া, যুগো¯¬াভিয়া, মিসর, সৌদি আরব ও শ্রীলঙ্কার বন্দরগুলোতে শুভেচ্ছা সফর করেন। ১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর তিনি নৌবাহিনীর স্টাফ প্রধান নিযুক্ত হন এবং ১৯৮০ সালের পয়লা জানুয়ারি রিয়ার অ্যাডমিরাল হন।
স্বাধীনতাযুদ্ধের পর বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে বিশ্বমানের আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে তিনি কঠোর পরিশ্রম করেন। নৌবাহিনীর আইন প্রণয়ন করেছেন তিনি। দেশের সমুদ্রসীমা রক্ষা, সমুদ্রে জেগে ওঠা দ্বীপসহ দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপের দখল রক্ষা, জলদস্যু দমন, সুন্দরবনের নিরাপত্তায় নৌবাহিনীকে সচেষ্ট করতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। তিনি সরকারের সশস্ত্র বাহিনীর বেতন ও পেনশন কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। এ ছাড়া দেশের প্রশাসনিক পুনর্গঠনে জাতীয় বাস্তবায়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও ছিলেন। বাংলাদেশে উপজেলা পদ্ধতির প্রবক্তাও তিনি।
১৯৮২ সালে দেশে সামরিক আইন জারি হলে অ্যাডমিরাল এম এ খান উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত হন। এ সময় তাকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা করা হয়। ১৯৮২ সালের ১০ জুলাই থেকে ১৯৮৪ সালের ১ জুন পর্যন্ত তিনি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় শাহজালাল সেতু, লামাকারী সেতু, শেওলা সেতুসহ বড় বড় উন্নয়নকাজের সূচনা হয়।
১৯৮২ সালের এপ্রিল মাসে তিনি নৌ, রেল ও সড়ক প্রতিনিধিদলের নেতা হিসেবে চীন সফর করেন এবং চীনের নৌঘাঁটিগুলো পরিদর্শন করেন। জুন মাসে জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওআইসি সম্মেলনে রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেন। নভেম্বরে তিনি রাশিয়া যান এবং প্রেসিডেন্ট ব্রেজনেভের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ডিসেম্বরে জ্যামাইকায় অনুষ্ঠিত সমুদ্র আইনবিষয়ক সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেন ও কনভেনশন অন অব সি কনফারেন্সে স্বাক্ষর দেন। ১৯৮৩ সালের মার্চে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত রেলওয়ে মন্ত্রীদের সভায় তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। জুলাই মাসে তিনি কোরিয়া সফরে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। ১৯৮৪ সালের ৩০ মার্চ তিনি গিনির প্রেসিডেন্ট আহমদ সেকুতুরের শেষকৃত্যে বাংলাদেশের প্রতিনিধি ছিলেন।
জিয়াউর রহমানের বড় ভাই রেজাউর রহমান নৌবাহিনীতে এম এ খানের সহকর্মী ছিলেন। সেই সুবাদে জিয়াউর রহমানের সাথে এম এ খানের সম্পর্ক ছিল নিবিড়। এম এ খানকে বিশেষ সম্মান করতেন জিয়াউর রহমান। ১৯৭৫ সালে দেশে সিপাহি-জনতার বিপ্লবের পরে জিয়াউর রহমান সরকারের সময় নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি তৎকালীন সরকারের যোগাযোগ উপদেষ্টা ছিলেন। তবে সরকারি চাকরির কারণে দায়িত্বশীল কোনো পদ গ্রহণ করেননি। সৎ ও অভিজ্ঞ এম এ খানকে এরশাদ সরকার বাংলাদেশের যোগাযোগ ও কৃষিমন্ত্রী করেন।
এম এ খানের কোনো রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ ছিল না। তার লক্ষ্য ছিল স্থায়ী ও জনকল্যাণমূলক কাজ করা। তিনি সফলও হয়েছিলেন। শুধু সিলেটের নয়, সারা দেশের জন্যই তিনি নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষিমন্ত্রী। এম এ খান গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে পছন্দ করতেন; কিন্তু নিজে রাজনৈতিক দল করার স্বপ্ন দেখতেন না। তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাসহ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কৃষিবিপ্লব, অবকাঠামো উন্নয়নে মনোযোগী ছিলেন।
১৯৮৪ সালের ৬ আগস্ট সকালে ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দরে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান ভূপাতিত হলে এম এ খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেই সময় তার বুকে ব্যথা অনুভব করলে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মারা যান তিনি। মাত্র ৪৯ বছর বয়সে দেশপ্রেমিক এই মহানায়কের জীবনাবসান ঘটে।
রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান ছিলেন সমাজসেবক। স্ত্রী সৈয়দা ইকবালমান্দ বানুর প্রতিষ্ঠিত সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান ‘সুরভি’র জন্য ছিল তার পূর্ণ সহযোগিতা। সুরভির হাজার হাজার শিশুর মধ্যে আজো আমরা তাকে দেখতে পাই। সুরভির মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের দারিদ্র্যপীড়িত ছোট্ট শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করায় ও সমাজসেবায় বিশেষ অবদান বিবেচনা করে ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ সরকার এম এ খানের স্ত্রী সৈয়দা ইকবালমান্দ বানুকে স্বাধীনতা পদক দেয়। সুরভির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে বর্তমানে কাজ করছেন বড় মেয়ে শাহীনা জামান। এ ছাড়াও নারীর স্বাস্থ্যসেবা আরো বাড়াতে সিলেটের নাফিজা বানু চ্যারিটেবল হাসপাতাল ও ম্যাটার্নিটি হাসপাতাল উন্নয়নে এম এ খান বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট