খাদিমুল কুরআন পরিষদের ৩ দিনব্যাপী তাফসির মাহফিল সম্পন্ন

প্রকাশিত: ১০:৩৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২৪

খাদিমুল কুরআন পরিষদের ৩ দিনব্যাপী তাফসির মাহফিল সম্পন্ন

খাদিমুল কুরআন পরিষদের ৩ দিনব্যাপী তাফসীর মাহফিলে শেষ দিন প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওলাদে রাসুল সায়্যিদ হযরত মাওলানা হাসান আসজাদ মাদানী- ভারত বলেন, বিশ্বনবী সাঃ জাহিলিয়াতের অন্ধকারকে কুরআন দিয়েই আলোকিত করেছিলেন। মুসলমানরা আজ কুরআন বিমূখতার কারণে সংখ্যার দিক দিয়ে অধিক হলেও শক্তির মানদণ্ডে অত্যন্ত দুর্বল। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিরা নিজেদের স্বাধীনতার জন্য ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। ফিলিস্তনিরা তাদের দেশ ও জনগণকে বাঁচাতে আত্মত্যাগ করছে। ইসরাইল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ আরব দেশগুলোতে পৌঁছালে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। মুসলিম বিশ্বের জনগণ ফিলিস্তিনের পক্ষে একাট্টা হলেও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামোর দুর্বলতার কারণে সরকারগুলোর কঠোর অবস্থান নিচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের মুসলমানদের ঈমানী শক্তি অত্যন্ত সুদৃঢ়। আর তা সম্ভব হয়েছে এ দেশের মাদ্রাসা শিক্ষার মাধ্যমে। বর্তমানে মানুষ পার্থিক জীবনের সুখ-শান্তির জন্য অনন্তকালের সফলতাকে ভুলে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে কুরআনের শিক্ষা ও আল্লাহ ভীতি মানুষের মধ্যে জাগ্রত করতে হবে। ইহ ও পরকালী মুক্তিলাভ লক্ষ্যে আমাদেরকে কুরআনের দাওয়াত সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে।

আওলাদে রাসুল সায়্যিদ আসজাদ মাদানী ২৬ জানুয়ারি শুক্রবার খাদিমুল কুরআন পরিষদ সিলেটের উদ্যোগে নগরীর ঐতিহাসিক সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে তিনদিন ব্যাপী ২৯তম তাফসিরুল কুরআন মহাসম্মেলনে সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি বয়নে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

তাফসির মাহফিলের বিভিন্ন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন আঙ্গুরা মুহাম্মদপুর মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা যিয়া উদ্দিন, জাওয়া মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুস সুবহান, কৌড়িয়া মাদরাসা মুহতামিম মাওলানা হাফিজ মুহসিন, মাওলানা রেজাউল করীম জালালী।

মাওলানা আবুল খায়ের বিথঙ্গলী ও মাওলানা নিয়ামত উল্লাহ খাসদবিরী এর যৌথ পরিচালনা মাহফিলে মহাগ্রন্থ আল কুরআন থেকে তাফসির পেশ করেন মাওলানা রশিদুর রহমান ফারুক শায়খে বরুনা, আল্লামা নূরুল ইসলাম ওলীপুরী, মাওলানা মুশতাক আহমদ খান ধনকান্দী, রফিকুল ইসলাম হরষপুরী, আব্দুল মতিন নবীগঞ্জী সহ স্থানীয় আলীমগণ।

কাজী লুৎফুর রহমানের তেলাওয়াতের মাধ্যমে সূচিত তাফসীর মাহফিলের শেষান্তে এবারের ৭ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেন মাওলানা আবুল খায়ের বিথঙ্গলী। প্রস্তাবনা সমূহ হচ্ছে-

২০২৪ সালে প্রণীত পাঠ্যপুস্তকসমূহ ট্রান্সজেন্ডারবাদ সহ অসংখ্য ভুলভ্রান্তির সাথে সাথে ইসলামী মূল্যবোধ বিলুপ্তিকরণ ও বিজাতীয় অন্ধ অনুকরণে ভরপুর হওয়ায় এ সকল পাঠ্যপুস্তক অনতিবিলম্বে বাতিল করতঃ এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের আওতায় এনে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে এবং এর স্থলে নতুন পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের জন্য পাঠ্য তালিকা প্রণয়ন কমিটিতে বিজ্ঞ ও হক্কানী উলামায়ে কেরামদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

স্কুল-কলেজের সিংহভাগ ছাত্র-ছাত্রী মুসলমান হওয়ার কারণে পাঠ্য তালিকায় প্রয়োজনীয় ইসলামী শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

আল্লাহ তাআ’লা, কুরআন, রাসুলুল্লাহ সা. ও ইসলামের বিরুদ্ধে কটুক্তিকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আইন জাতীয় সংসদে পাশ করতে হবে।

বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশসমূহের মত বাংলাদেশেও কাদিয়ানীদেরকে অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে।

বাউল গান ও মারিফতের নামে আল্লাহ, রাসূল ও কুরআন নিয়ে ভন্ডামী বন্ধে জাতীয় সংসদে আইন পাশ করতে হবে।

হিযবুত তাওহীদ, লা-মাযহাবী, আহলে কুরআন ও সাদপন্থীসহ সকল বাতিল ফেরকার অপতৎপরতা কঠোরহস্তে বন্ধ করতে হবে।

ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, চীন, ও মায়ানমারসহ বিশ্বের সকলদেশে মুসলমানদের উপর নির্যাতন বন্ধে কার্যকর কুটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে। বিশেষত ফিলিস্তিনি মালুমদের সর্বাত্মক সহযোগিতার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সাথে সাথে মহান আল্লাহর দরবারে ফিলিস্তিনের শহীদদের দরজা বুলন্দি ও আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করছি ।

খাদিমুল কুরআন পরিষদ সিলেটের উদ্যোগে আয়োজিত ২৯তম ৩দিনব্যাপী তাফসীরুল কুরআন মহাসম্মেলনে উপস্থিত সকলকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানান। বিশেষভাবে সিলেট জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, বিদ্যুৎ বিভাগ, সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়ীবৃন্দ ও সাংবাদিক বন্ধুগণসহ সর্বস্তরের জনগণকে আন্তরিক কৃতজ্ঞা প্রকাশ করে মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি, দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। বিজ্ঞপ্তি


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট