|
প্রকাশিত: ১০:১৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাইডলাইনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক সাইড ইভেন্টে তিনি এসব প্রস্তাব দেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে—রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়ন; রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের বেসামরিক মানুষের ওপর সহিংসতা বন্ধ ও তাদের অধিকার-নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা; ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক বিচার ও তদন্ত ব্যবস্থাকে সহযোগিতা করা এবং মাদকপাচার, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা ও অবৈধ অস্ত্রসহ আন্তসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা বৈষম্য, নিপীড়ন ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছেন। ২০১৭ সালে সহিংসতার পর সংকট আরও গভীর হয়েছে। বাংলাদেশ এখনও ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে মিয়ানমারে সহিংসতার কারণে নতুন করে মানুষ পালিয়ে আসছে এবং শিবিরগুলোতে প্রতিবছর হাজার হাজার শিশুর জন্ম হচ্ছে।
বাংলাদেশ মানবিক কারণে সীমান্ত খুলে দিয়ে রোহিঙ্গাদের খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা নিশ্চিত করছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, প্রায় ৬ হাজার লার্নিং সেন্টারে মিয়ানমারের পাঠ্যক্রমভিত্তিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে তারা রাখাইন রাজ্যে পুনঃএকীভূত হওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে পারে।
তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের কারণে বাংলাদেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ বাড়ছে। এর সঙ্গে মানবপাচার, মাদকপাচার ও অন্যান্য আন্তসীমান্ত অপরাধের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। এই সংকট অমীমাংসিত থাকলে তা পুরো অঞ্চলের জন্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে।
মানবিক সহায়তার পরিমাণ কমে আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় ৯৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি সহায়তার আবেদন করা হলেও ২০২৬ সালের জন্য তা কমিয়ে প্রায় ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। প্রয়োজন বাড়লেও সহায়তা কমে যাওয়ার এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গারা এখনও জোরপূর্বক নিয়োগ, নির্বিচারে আটক, চলাচলে বিধিনিষেধ ও জোরপূর্বক শ্রমসহ বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মি—উভয়ের বিরুদ্ধেই গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন সহমর্মিতা থেকে সংকটের মূল কারণ ও সমাধানের দিকে এবং প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ চায় রোহিঙ্গারা নিরাপদে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদার সঙ্গে ও অধিকার সুরক্ষিত রেখে মিয়ানমারে নিজ ঘরে ফিরে যাক। প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরি হলে বাংলাদেশ প্রত্যাবাসনে সহায়তা করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও এ সংকট সমাধানে দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D