রোহিঙ্গা ইস্যু ।। বাংলাদেশে কূটনৈতিক দল পাঠাচ্ছে মায়ানমার

প্রকাশিত: ৩:০০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৬, ২০১৭

Manual6 Ad Code

নাইপেদো: রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিয়ে প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে মায়ানমারের উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রীর নেতৃত্বে চলতি মাসের শেষের দিকে বাংলাদেশে একটি বিশেষ কূটনৈতিক দল পাঠানোর আশা প্রকাশ করছে দেশটি।

 বৃহস্পতিবার মায়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক কিয়াও জাইয়া একথা বলেন।

গত বছরের অক্টোবর থেকে মায়ানমারের উত্তর রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা শুরু হলে সেখান থেকে হাজার হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশসহ প্রতিবেশি কয়েকটি দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

কিয়াও জাইয়া বলেন, ‘এ মাসেই মায়ানমারের একটি বিশেষ কূটনৈতিক দলের বাংলাদেশ সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। সফরে কূটনৈতিক দলটি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কূটনৈতিক দলটি পাঠানোর ব্যবস্থা করব। সম্ভবত ডেপুটি পররাষ্ট্র মন্ত্রী কূটনৈতিক দলের নেতৃত্ব দেবেন। দলটিতে তিন বা চারজন সদস্য থাকবে। কিন্তু সফরের সঠিক তারিখ বলাটা কঠিন।’

এর আগে ডিসেম্বর একটি কূটনৈতিক টিম পাঠানোর কথা থাকলেও নিরাপত্তার কারণে সেটি স্থগিত করা হয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মায়ানমারের কাছে বেশ কয়েকবার অভিযোগ করা হয়েছে যে, মায়ানমার মংডুতে চলমান সহিংসতা থেকে বাঁচতে ৫০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

৩০ ডিসেম্বর মায়ানমার সরকার জানিয়েছে যে, তারা বাংলাদেশে বসবাসরত তাদের ২,৪১৫ জন নাগরিককে ফিরিয়ে নেবে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, তাদের দেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ৩ লাখ এবং মায়ানমারের উচিৎ তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়া।

Manual4 Ad Code

গেল বছরের ৯ অক্টোবর থেকে পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্য সংখ্যালঘু হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর রক্তাক্ত নির্যাতনের অভিযোগ উঠে দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। তাদের অমানবিক নির্যাতনে বাধ্য হয়ে এসব অসহায় রোহিঙ্গারা সীমান্ত অতিক্রম করে পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে শত শত রোহিঙ্গা গণধর্ষণ, ভয়ংকর নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে ওঠে আসছে।

সাম্প্রতিক নির্যাতনে প্রায় ৩০,০০০ রোহিঙ্গা তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে এবং উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে কয়েক হাজার ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে।

Manual3 Ad Code

গণধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ তদন্ত করতে বিদেশি সাংবাদিক, স্বাধীন তদন্ত সংস্থা ও মানবাধিকার কর্মীদের এসব অঞ্চলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে দেয়া হচ্ছে না।

Manual6 Ad Code

কয়েক প্রজন্ম ধরে এসব রোহিঙ্গারা বার্মায় বসবাস করে আসছে। তারপরেও তাদের নাগরিকত্বকে স্বীকার করা হয়নি। তারা বিবাহ, ধর্মপালন, সন্তান জন্মদানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তারা সেখানে বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত জনগণ হিসাবে বসবাস করছে।

Manual2 Ad Code

২০১২ সালে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে তাদের ঘর-বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয় এবং এরপর থেকে তারা পুলিশ পাহাড়ায় দারিদ্র্যপীড়িত ক্যাম্পে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে। সেখানে তারা স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং তাদের আন্দোলনকে প্রচণ্ডভাবে দমিয়ে রাখা হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code