ইরানে হাসপাতালের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ বিমান হামলা

প্রকাশিত: ৪:৩০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০২৬

ইরানে হাসপাতালের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ বিমান হামলা

ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজ শহরের একটি বিশেষায়িত ক্যানসার হাসপাতালের ঠিক কাছাকাছি দফায় দফায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাহিনীর এই বিমান হামলার জেরে হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। হামলার পর চরম আতঙ্ক ও জীবন ঝুঁকির মুখে ক্যানসার আক্রান্ত শিশুসহ ২১১ জন গুরুতর রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

হাসপাতালের পরিচালক রেজা বাজারের বরাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, বাঘায়ি স্পেশালাইজড হাসপাতালের খুব কাছে মার্কিন বোমাবর্ষণের কারণে চিকিৎসাকেন্দ্রটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। হামলায় সরাসরি হাসপাতালের ভেতরে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিক সব রোগীকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপক ডা. মাজিদ বো’আজার আল-জাজিরাকে বলেন, চিকিৎসাধীন ২১১ জন রোগীকে বাধ্য হয়ে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হয়েছে। স্থানান্তরিত রোগীদের মধ্যে ক্যানসার আক্রান্ত শিশুসহ দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাধীন অনেক গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তি রয়েছেন।

হাসপাতালের এক কর্মী বর্তমান পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে আল-জাজিরাকে বলেন, হাসপাতালের আশপাশে ব্যাপক বোমাবর্ষণ হচ্ছিল। এখানে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ক্যানসার রোগীসহ বিশেষায়িত চিকিৎসাধীন ব্যক্তিরা ভর্তি ছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকেই অক্সিজেন ও ভেন্টিলেটরের ওপর নির্ভরশীল। হামলার সময় কেউ শিশুকে কোলে নিয়ে, কেউ হাতে স্যালাইনের বোতল ধরে, আবার কেউ হুইলচেয়ারে করে জীবন বাঁচাতে হাসপাতালের বাইরে বেরিয়ে আসেন।

এদিকে এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এই হামলাকে ‘বর্বরোচিত’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন এই হামলা মূলত গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার কথাই মনে করিয়ে দেয়। এই কাপুরুষোচিত হামলার কারণে কেমোথেরাপি নিতে আসা ২১১ জন রোগীকে চরম ভোগান্তি ও আতঙ্কের মুখে পড়তে হয়েছে।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হাসপাতাল খালি করার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু হাসপাতালটি ছিল কি না, সে বিষয়েও ওয়াশিংটন কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করেনি। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে তারা ইরানের অভ্যন্তরে নতুন করে এক দফা বিমান হামলা চালিয়েছে।

ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছের কেশম দ্বীপের পাশাপাশি বন্দর আব্বাস ও চাবাহার এলাকায় শক্তিশালী একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একটি বন্দরের দিকে অগ্রসর হওয়া একটি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে সেটিকে অচল করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে তেহরান দাবি করেছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানের সামরিক বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় হামলার হুমকি অব্যাহত রাখে, তবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সব অবকাঠামো ‘ইস্পাতের আঘাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে’।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট