১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০২২
সিলেট বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ নিয়ে উজ্জীবিত নেতাকর্মী। গণসমাবেশকে ঘিরে বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে এখন ব্যাপক তোড়জোড় এবং উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। ‘স্মরণকালের সবচেয়ে বড়’ সমাবেশে অন্তত চার লাখ লোক সমাগম ঘটানোই এখন তাদের লক্ষ্য। এই মহা গণসমাবেশ করে সরকারকে কড়া বার্তা দিতে চায় সিলেট বিএনপি।
গ্রেপ্তার আতঙ্ক থাকলেও নির্দেশনা অনুযায়ী দলের সবাই এখন সিলেটে অবস্থান করছেন। আগামী ১৯ নভেম্বরের এ গণসমাবেশে যোগ দিতে সিলেটের বাইরে থেকে যাঁরা আসবেন, তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে গণসমাবেশের মঞ্চ তৈরির কাজ। নগরীর চৌহাট্টা এলাকার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানে মঞ্চ তৈরির কাজ করছেন শ্রমিকরা।
জেলা বিএনপির নেতারা গণমাধ্যমকে জানান, বিভিন্ন বিভাগীয় গণসমাবেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তাঁরা নেতাকর্মীদেরকে কৌশলী নির্দেশনা দিয়েছেন। বিশেষ করে উপজেলা সদরের নেতাকর্মীর বাসাবাড়িতে দূরের নেতাকর্মীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। অন্যান্য বিভাগের মত গণসমাবেশের আগে সিলেটেও পরিবহন ধর্মঘট দেওয়া হতে পারে। এ জন্য জেলা সদরের নেতাকর্মীকে আগেই নগরীতে অবস্থান নিতে বলা হয়েছে। একই নির্দেশনা রয়েছে উপজেলার নেতাকর্মীর ওপরও। কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেটে আসবেন ১৭ নভেম্বর। এ জন্য ওইদিন থেকেই সমাবেশ মাঠে অবস্থান নেবেন নেতাকর্মীরা। বিভাগীয় গণসমাবেশ উপলক্ষে সিলেটে প্রতিদিনই সভা, প্রচারপত্র বিলি করছেন নেতাকর্মীরা।
স্মরণকালের সবচেয়ে বড় সমাবেশ হবে বলে জানিয়েছেন নগর বিএনপির সদস্য সচিব মিফতাহ সিদ্দিকী। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, তাঁদের নেতাকর্মী উজ্জীবিত, তারা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে যেসব নেতা বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিতে চান, তারাও গণসমাবেশ সফল করতে জোরেশোরে প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলীয় ও সাংগঠনিক সফর করছেন বিভিন্ন এলাকায়। সভা সমাবেশ করে জনগনের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করছেন।
সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী জানান, ইতিহাসের সেরা জনসভা উপহার দেবেন তাঁরা। এ উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শ্রমিকরা মঞ্চ নির্মাণ করছেন। সরকারি দল ও প্রশাসনিক অনেক বাধা আছে। এর পরও জনতা সিলেটে সমাবেশ সফল করবেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলে আশাবাদী তিনি।
আহুত গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে সিলেটে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। সমাবেশ সফল করতে কয়েক সপ্তাহ ধরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা প্রস্তুতি বৈঠক, গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করছেন। তাদের মধ্যে এখন সাজসাজ রব। সমাবেশস্থলের আশপাশ কয়েক কিলোমিটার এলাকা ইতোমধ্যে ডিজিটাল ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে ভরে গেছে। সাজসজ্জার কাজ ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়ে পুরো নগর ও সদর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে চলেছে। আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানের এক পাশে জড়ো করা হয়েছে বাঁশ ও কাঠ। ৩০ জন শ্রমিক ময়দানের একপাশে মঞ্চ তৈরির কাজ করছেন।
আহুত বিভাগীয় গণসমাবেশের আগে গত ৬ নভেম্বর রাতে সিলেট নগরীর আম্বরখানা বড়বাজারে জেলা বিএনপির সাবেক স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক আ ফ ম কামালকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। তবে পুলিশ বলছে, এ হত্যাকান্ড মূলত ব্যবসায়িক বিরোধ থেকে সংঘঠিত। কামাল হত্যার পর নগরীতে বিএনপি-ছাত্রদল নগরে পৃথক পৃথক বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এসময় নগরীর রিকাবিবাজার ও চৌহাট্টা এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সম্মেলন উপলক্ষে নির্মিত তোরণ ও ফেস্টুন ভাঙচুর করা হয়।
খবর পেয়ে রাতেই মাঠে নামেন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রীগের নেতাকর্মীরা। বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া করে ছাত্রলীগ। এসময় দু’টি মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারে অগ্নিসংযোগ ও কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করা হয়। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি অবমাননা ও ভাঙচুরের অভিযোগ এনে মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় কারো নামোল্লেখ করা না হলেও ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হলেও এ মামলায় কাউকে গ্রেফতার দেখায়নি পুলিশ।
এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর ও বরিশালে বিএনপির পাঁচটি বিভাগীয় গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ ১২ নভেম্বর শনিবার ফরিদপুরে বিভাগীয় গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি সমাবেশের আগে পরিবহণ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, এত প্রতিবন্ধকতার পরেও বিএনপির টার্গেট সিলেটে রেকর্ড গড়ার। সমাবেশ সফলে আমরা ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছি। বিভিন্ন উপজেলায় গিয়ে কেবল নেতাকর্মীই নয়, সাধারণ মানুষেরও স্বতঃফূর্ত সমর্থন পাচ্ছি। গণসমাবেশ স্থল প্রস্তুতেও কাজ চলছে। শত প্রতিকূলতার মাঝেও নেতাকর্মীরা সমাবেশ সফল করবেন বলে তিনি আশাবাদি। তিনি বলেন, ১৯ নভেম্বর পুরো সিলেট নগরী সমাবেশস্থলে পরিণত হবে। এরইমধ্যে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ কমিশনারকেও লিখিতভাবে অবহিত করেছি। নেতাকর্মীদের ধরপাকড়ের বিষয়ে কোনো অভিযোগ নেই। তবে অজ্ঞাত আসামি দিয়ে মামলা হলেও নেতাকর্মীদের অহেতুক হয়রানি করা হবে না, এমনটি আশাবাদি তিনি।
এদিকে সিলেটে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ সফলে ছয়টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটি সমাবেশ আয়োজনে যাবতীয় প্রস্তুতি নেবে বলে জানিয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী।
এরমধ্যে ‘আবাসন ব্যবস্থাপনা’ কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে। ‘ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা কমিটি’র আহ্বায়ক হিসেবে আছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। ‘প্রচার ও মিডিয়া কমিটি’তে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, ‘অভ্যর্থনা কমিটি’তে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল কাইয়ুম জালালী, ‘আপ্যায়ন কমিটি’তে মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন এবং ‘দপ্তর কমিটি’তে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ূন কবির শাহীনকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।
কমিটি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ সফলে সার্বিক তত্ত্বাবধানে আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল মঈন খান এবং যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন। এ ছাড়া ছয়টি আহ্বায়ক কমিটিতে সিলেট বিভাগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং বিএনপির জেলা, মহানগর, পৌরসভা, উপজেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারাও সদস্য হিসেবে আছেন। এসব কমিটির আহ্বায়কেরা নিজেদের প্রয়োজনমতো অন্যান্য নেতা-কর্মীদের সদস্য হিসেবে রাখবেন বলে জানানো হয়েছে।
ছয়টি কমিটিতে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এনামুল হক চৌধুরী, সিলেট বিভাগের দায়িত্বরত বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হাসান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ, ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক সহসম্পাদক আবদুর রাজ্জাক, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী ও মিজানুর রহমান চৌধুরী, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি নাসের রহমান, হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক জি কে গৌছ, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব মিফতাহ সিদ্দিকী প্রমুখ সম্পৃক্ত আছেন।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে নেতাদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের আগেই অঘোষিত ‘পরিবহণ ধর্মঘট’ দেখা গেছে। সিলেট বিভাগীয় সমাবেশের আগে একই পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন বিএনপি নেতারা। তবে ১৯ নভেম্বর বা এর আগে সিলেটে কোনো ধরনের পরিবহণ ধর্মঘট বা পরিবহণ শ্রমিকদের কর্মবিরতির কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. জিয়াউল কবির পলাশ। তিনি বলেন, পরিবহণ ধর্মঘট বা পরিবহণ শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে যাওয়ার কোনো খবর এখন পর্যন্ত তিনি পাননি। এ ধরণের কোনো সিদ্ধান্ত হলে গণমাধ্যমকে আগেই জানিয়ে দেওয়া হবে।
বিএনপি বিভাগীয় সমাবেশ সামনে রেখে নেতাকর্মীদের বাসা বাড়িতে পুলিশি অভিযানের অভিযোগ তুললেও তা সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার নিশারুল আরিফ। তিনি বলেন, আসামিদের গ্রেফতার করা পুলিশের রুটিন ওয়ার্ক। তবে অহেতুক কাউকে হয়রানি করা পুলিশের উদ্দেশ্য নয়।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D