২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১:৪৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২২
‘বানের জলে ঘর গিয়েছে। খাওনেরই নিশ্চয়তা নাই। আমাদের আবার কিসের ঈদ’- সাজ্জাদ মিয়ার কণ্ঠে এমন আক্ষেপ।
সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাওয়ের সাজ্জাদ মিয়ার মাটির ঘর বন্যা ভাসিয়ে নিয়েছে। এখন উদ্বাস্তু অবস্থায় প্রতিবেশির ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ঈদ আনন্দের নয়। আমাদের জন্য আরও কষ্টের। ঈদের দিনও বাচ্চাদের মুখে ভালো মন্দ কিছু খাবার তুলে দিতে পারছি না। এটা অনেক বেশি কষ্টের।
সোনাই বেগমের ঘর ভাঙেনি। তবু তিনি ঘরছাড়া। প্রায় ২০দিন ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রিতা হিসেবে আছেন সোনাই। ২০ দিনেও ঘর থেকে পানি নামেনি।
তিনি বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে গাগাগাদি করে আছি। রান্নার সুযোগ নেই। কোনমতে ইট বসিয়ে একটি চুলা তৈরি করেছি। এখানে ধারাবাহিকভাবে ৫/৬ টি পরিবারের রান্না হয়। ফলে এখানে ভালো মন্দ কিছু রান্নার সুযোগ নেই।
এখানকার আরেক আশ্রিতা আশরাফুল ইসলাম বলেন, এই অবস্থায় তো আমাদের কোন ঈদ নেই। কেউ যদি কোন খাবার উপহার দেয় তাহলে বাচ্চাকাচ্চাদের একটু খাওয়াতে পারতাম। কারণ তারা তো বন্যা-দুর্ভোগ এসব বুঝতে চায় না।
রোববার ঈদ। ঈদ মানে আনন্দ। কিন্তু সিলেটের বানভাসিদের মধ্যে নেই ঈদেও আনন্দ। বরং অন্য সকলে যখন উৎসবে মেতেছে তখন এখানকার বন্যাদুর্গতরা ব্যস্ত টিকে থাকার সংগ্রামে। জীবন আর জীবিকার দুঃশ্চিন্তায়। ঘর হারিয়ে অনেকেই এখন আশ্রয়হীন। কেউবা হারিয়ে ফেলেছেন ধান, আসবাবপত্র কিংবা কাজের সুযোগ। ভবিষ্যত নিয়েই দুঃশ্চিন্তায় থাকা এই মানুষদের কাছে ঈদেও আলাদা কোন বিশেষত্ব নেই।
পেশায় মৌসুমী শ্রমিক জাফর মিয়া (৩৭)। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ধোপাজান চলতি নদীর তীরে তার বাড়ি। দুই ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে ভালই চলছিল শ্রমজীবী পরিবারের সংসার। কিন্তু বন্যায় পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে সবকিছু। এখন তিনি একেবারে নিঃস্ব।
জাফর মিয়া বললেন, বন্যায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সব পানিত ভাইস্সা গেছে। বানের পাইন্নে বাড়ির ভিটায় খাল অইয়া গেছে। পরের বাড়িত থাকতাছি। ঈদে কিন্তু কোনতা করবার নাই। সাহায্য-সহযোগিতা পাইয়া কোন রকমে চলছি। শুনতাছি ঘর-বাড়ি ঠিক করার লাগি সরকার থাতি আমারারে ১০ হাজার কইরা টেকা দিব। এখনও টেকা-পয়সা পাইছি না। ’


EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D