সিলেটে মামলার ভয় দেখিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা ও সোর্সের বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত: ৯:৪৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২৬

সিলেটে মামলার ভয় দেখিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা ও সোর্সের বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ

সিলেটে মামলার ভয় দেখিয়ে পুলিশ অফিসার ও সোর্সের বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা চাওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। অভিযুক্ত এসআই ননী গোপাল এসএমপির দক্ষিণ সুরমা থানায় কর্মরত। তিনি নিজে ভুক্তভোগীকে ডেকে এনে এবং কামাল নামে সোর্সের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা দাবি করেন।

শনিবার (২৭ জুন) বেলা ২টায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন দক্ষিণ সুরমার লাউয়াই এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহেদ খান স্বপন। তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান তারই ছেলে সাগর খান।

শাহেদ খান লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন তার বাবা মরহুম তৈমুর খান সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি ইউনিয়নের দুই বারের সাবেক নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২৯ নং ওয়ার্ডের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী হিসেবে তিনি এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। কিন্তু একটি মহল এলাকায় ভাবমুর্তি নষ্ট করতে চক্রান্ত করে তার ছেলে সাগর খানকে মোটরসাইকেল চুরির নাটক সাজিয়ে মামলায় অভিযুক্ত করে এসএমপির দক্ষিণ সুরমা থানায় অভিযোগ দেয়। অভিযোগকারী লাউয়াই হেলাল মিয়ার ছেলে তাওহিদ আহমেদ। অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্ব পান দক্ষিণ সুরমা থানার উপ পরিদর্শক এসআই ননী গোপাল। এরপর পুলিশের সোর্স কামাল ফোন করে এক লাখ টাকা নিয়ে ননী গোপালের সাথে দেখা করতে বলেন, নয়তো ছেলেকে একটি মোটরসাইকেল চুরির মামলায় আসামি করা হবে। গত ২১ জুন রাত ৮টার দিকে সোর্স কামাল তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে এমন হুমকি দেন। তিনি আমাকে জানান, লাউয়াই এলাকার হেলাল মিয়ার ছেলে তাওহিদ আহমেদের মোটর সাইকেল নর্থ ইষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হতে চুরি হয়েছে। পুলিশের হয়রানী থেকে বাঁচতে হলে এক লাখ টাকা নিয়ে এসআই ননী গোপালের সাথে দেখা করেন। এরপর এসআই ননী গোপালের মোবাইল থেকে কল করে দেখা করতে বলা হয়। সে সুবাদে ওইদিন রাত অনুমান সাড়ে ১১ টার দিকে চন্ডিপুল গিয়ে দেখা করলে টাকা না আনার ব্যাপারে এসআই ননী গোপাল বলেন, “সোর্স কামাল টাকার ব্যাপারে আপনাকে কোন কিছু বলেনি?” তখন ক্ষিপ্ত হয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বার বার চুরি যাওয়া মোটরসাইকেল ফেরৎ দিতে বল প্রয়োগ করেন। তিনি তাকে বুঝাতে চেষ্টা করলেও তার ছেলেকে চোর ছিনতাইকারী সাব্যস্ত করে বলেন, সে বিভিন্ন সময় নাকি চুরি-ছিনতাই করে জীবিকা নির্বাহ করে। তখন ওই পুলিশ অফিসারকে ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, তাদের মোটরসাইকেল কালো দাবি করেছে, অথচ ফুটেজে দেখা যায়, দুজন লোক লাল মোটরসাইকেল নিয়ে গেছে। অভিযুক্ত হওয়ার আগেই অনলাইন মাধ্যমে সংবাদ প্রচার করিয়ে এলাকায় তার মানক্ষুন্ন করা হয়। মামলার বিষয়টি ফোনে এলাকায় অপপ্রচার চালানো হয়। পরিবার পরিজনকেও ফোন করে জানানো হয়।

পরে তারাই আবার মোটরসাইকেল নিয়ে পুলিশের কাছে নিয়ে যায়। এতে প্রতিয়মান হয়, তারা নিজেরাই মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা সাজিয়েছে। তাছাড়া শাহেদ আহমদ থানায় এসআই ননী গোপাল ও সোর্স কামালের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন। তখন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সেকেন্ড অফিসারের সামনে ননী গোপাল তার কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চান।

শাহেদ আহমদ স্বপনের লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতেগড়া জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত। আগেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও অল্প ভোটের কারণে তাকে পরাজিত দেখানো হয়। আগামী নির্বাচনে আবারো প্রার্থী হতে চাওয়ায় একটি কুচক্রিমহল ঈর্ষান্নিত হয়ে সুনাম ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এলাকায় তার সুনাম ক্ষুন্ন করতে অবশেষে ছেলেকে অপরাধী বানাতে চেষ্টা করে। আর এই সুযোগে পুলিশের পদস্থ এই কর্মকর্তা ও সোর্সকে ব্যবহার করেছে তারা। পরে ওই ঘটনায় কর্মকর্তারা এসআই ননী গোপালকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি সত্যতা স্বীকার করেন এবং তাকে ভৎসনা করা হয়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছুটিতে আছেন দেখিয়ে তার মামলাটি রেকর্ড করা হয়নি। পরে জানতে পেরেছি, প্রতিপক্ষের মামলাটি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এখানে প্রশ্ন থাকে, মোটরসাইকেল চুরি হলে বাদি পক্ষ আবার সেটি থানায় নিয়ে আসলো কিভাবে? এই ঘটনায় এলাকায় তার প্রতি মানুষের বিরূপ ধারণা তৈরী হয়েছে। তারা নিজেদের মোটরসাইকেল তাদের হেফাজতে রেখে চুরির নাটক সাজিয়ে এলাকায় আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চালিয়েছে। সেটা কোনো মূল্যে পূরণ করার নয়, বলেন তিনি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করলে আসল সত্য বেরিয়ে আসবে বলেও দাবি করেন তিনি।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট