১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:৪২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২২
ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের অন্যতম একটি হচ্ছে হজ। হজের মাধ্যমে দুনিয়ার সব মুসলমানের মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব গড়ে ওঠে। মানুষ এক আদম ও হাওয়া আ:-এর সন্তান হলেও কালপরিক্রমায়এই জাতিতে বৈচিত্র্যময় পরিবর্তন এসেছে। বর্ণ-গোত্রে, চিন্তা-কর্মে, ভাষায়-বচনে, আচার-আচরণে এমনকি কৃষ্টি কালচারসহ নানাবিধ বিষয়ে এ পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। আল্লাহ তায়ালা চান সবার মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের নিবিড় বন্ধন ও ঐক্য অটুট থাকুক। এ জন্য কিছু ইবাদত বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন তিনি। হজ সেগুলোর অন্যতম একটি। হজের মাধ্যমে কিভাবে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্য তৈরি হতে পারে তা নিয়েই আজকের আলোচনা।
জিলহজ মাসের নির্ধারিত দিনগুলোতে নির্ধারিত পদ্ধতিতে কাবা শরিফ ও হজসংশ্লিষ্ট স্থানগুলো জিয়ারত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে বিশেষ কিছু কার্যাবলি সম্পাদন করাকে হজ বলে। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানদের জন্য জীবনে একবার হজ পালন করা ফরজ।
আমরা হজের সময় আরাফাতের ময়দানে একত্রিত হই। এই ময়দানে অবস্থান করা হজের অন্যতম প্রধান কাজ। এখানেই পারস্পরিক মতবিনিময় করি। নিজেদের মাঝে বিভিন্ন বিষয়াদির আদান-প্রদান করি। হজের এই আনুষ্ঠানিকতা বিশ্ব শান্তি, নিরাপত্তা, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রাসূল সা: এই আরাফার ময়দানেই বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ সা: জাতি-ধর্ম, বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সবার মাঝেই ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সুসম্পর্ক কামনা করতেন। ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পরিসীমার সব স্তরে সেই ভিতও প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তিনি। বিদায় হজের ভাষণ থেকে তার উজ্জ্বল প্রমাণ পাই। ভাষণে তিনি সবাইকে সতর্ক করে দেন জাহেলিয়াতের কৃষ্টি কালচার থেকে। নিরপরাধ মানুষের রক্তপাতকে হারাম ঘোষণা করেন। প্রথমে তিনি নিজের বংশের পক্ষ থেকে রাবিয়া বিন হারেস বিন আবদুল মোত্তালিবের রক্তের দাবি প্রত্যাহার করে নেন। যা ছিল বিশ্ব ইতিহাসের পাতায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
বিদায় হজের ভাষণে মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র থেকে সুদকে চিরদিনের জন্য হারাম ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এ জন্য নিজ চাচা আব্বাস ইবনে আবদুল মোত্তালিবের যাবতীয় সুদের দাবি প্রত্যাহার করে নেন বিশ্বনবী। সুদ এমন একটি জঘন্যতম জুলুম যার মাধ্যমে সুদখোররা আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়। অর্থের পাহাড় গড়ে তোলে। অপর দিকে অসহায় অভাবী লোকজন হয় আরো দরিদ্র, হতদরিদ্র। রাসূল সা: বিশ্বমানবতার অর্থনৈতিক ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ দেখতে চেয়েছেন। সুদ হারাম ঘোষণার মাধ্যমে তা প্রমাণ করেছেন। জাতি উপকৃত হয়েছিল।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D