২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১২, ২০২২
সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের আগেই বিভক্তি শুরু হয়ে গেছে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগে। নির্বাচনের আগেই প্রচারণায় অংশ নেওয়া নিয়ে শুরু হয়েছে প্রার্থীদের দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়ছে মহানগরীর সবকটি ওয়ার্ডে। বিষয়টিকে দলীয় বিভাজনের আলামত হিসেবে দেখছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, দলের মহানগর শাখা থেকে মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন অন্তত ৮ জন। এ অবস্থায় দলের ওয়ার্ড শাখার দায়িত্বশীল নেতা কর্মী শুধুমাত্র একজন প্রার্থীর ডাকে সাড়া দিলে বিষয়টি হবে প্রশ্নবিদ্ধ। এই অবস্থা দলের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে অনেকেরই আশংকা।
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় বাকি এখনও প্রায় ১ বছর। তবে তর সইছেনা প্রার্থীদের। হাতে যথেষ্ট সময় থাকলেও শুরু হয়ে গেছে প্রচারণা। কৌশল হিসেবে রমজানের আগ থেকেই নগরীর মসজিদ গুলোকে বেছে নেওয়া হয়। প্রতি জুম্মার দিনে এক একটি মসজিদে নামাজ আদায় করেন প্রার্থীরা। কেউ কেউ নির্বাচনের আগেই শুরু করেছেন উঠোন বৈঠক। রমজান মাসেও থেমে নেই প্রার্থীরা। সিসিকের ২৭ ওয়ার্ডের পাশাপাশি বর্ধিত অংশেও চলছে প্রচার প্রচারণা। এই সব প্রচারণায় টানছেন দলের ওয়ার্ড শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের। এ নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহনেচ্ছুক প্রার্থীদের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে নেতাকর্মীদের।
বিগত দিনে সিলেট সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। তাঁর মৃত্যুতে এবার নতুন মুখ হিসেবে কে দলটির মনোনয়ন পাবেন তা নিয়ে এখন চলছে জোর আলোচনা।
সিসিকের মেয়র পদে এবার নির্বাচনে মাঠে নামতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অন্তত ৮ থেকে ৯ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ৪ জন বিগত নির্বাচনেও দল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। এর মধ্যে রয়েছেন দলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়জুর আনোয়ার আলাওর ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিটি কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ। তাদের সাথে এবার নতুন করে মাঠে নেমেছেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এটিএম হাসান জেবুল ও সাংগঠনিক সম্পাদক কামরানপুত্র ডা. আরমান আহমদ শিপলু ও সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রিন্স সদরুজ্জামান চৌধুরী। তবে এবারের নির্বাচনে মেয়র নির্বাচনে চমক আসতে পারে বলে জানিয়েছেন দলের প্রেসিডিয়ামের সাথে ঘণিষ্ট একটি সুত্র। মেয়র নির্বাচনে তিনজনকেই অগ্রাধিকার দিতে চায় সুত্রটি। তাদের বিশ্বাস, সিসিক নির্বাচনে তিনজন প্রার্থীকে নিয়েই চিন্তাভাবনা কেন্দ্রের। সুত্রের দাবি অনুযায়ী ওই তিনজনের মধ্যে হলেন, সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, দলের মহানগর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাশুক উদ্দিন আহমদ ও দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন।
অতীতে বদর উদ্দিন আহমদ কামরানসহ অন্যান্য প্রার্থীরা কোন বিভক্তি ছাড়াই নিজেদের প্রচারণা চালিয়ে গেলেও এবার তা হচ্ছে না। নির্বাচনের এক বছর আগেই সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগে দেখা দিয়েছে চরম বিভক্তি। যা আগামী নির্বাচনে দলের প্রার্থীর জন্য বড় সমস্যার কারণ হতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
জানা গেছে, নগরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ এবং সিটি কর্পোরেশনের নতুন অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোতে যোগাযোগ বৃদ্ধি করার জন্য জুম্মার নামাজকে বেছে নিয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। প্রতি শুক্রবারেই বিভিন্ন মসজিদে নামাজ আদায় করে স্থানীয়দের সাথে কুশল বিনিময় করে ব্যক্তিগত প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা৷ আর এখানেই দেখা দিয়েছে বিভক্তি।
তবে প্রচারণাকালে দলীয় কর্মীদের ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে দলের মহানগর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেনের উপর। ব্যক্তিগত প্রচারণায় সকল প্রার্থীই একা বিভিন্ন এলাকায় গেলেও এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন। তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির ১৫-২০ জন নেতাকে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় তাঁর সাথে নিয়ে যান। কোন কোন দিন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাদেরও তাঁর সাথে রাখেন। বিষয়টি স্বীকার করেছেন দলের ১৬ নং ওয়ার্ড শাখার এক দায়িত্বশীল নেতা। তিনি বলেন, এতে করে অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাথে তাঁর সাথে যাওয়া নেতাদের দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে।
বিষয়টি অবগত দলের মহানগর নেতৃবৃন্দ। তবে মুখ খুলছেন না কেউই ৷ নগরীর ২৭ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মো. ছয়েফ খানও বিষয়টি নিয়ে বিব্রত। তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহনেচ্ছুক দলের যেকোনো প্রার্থীই কর্মীদের নিয়ে সভা সমিতি করার ক্ষমতা রাখেন। সেক্ষেত্রে যেহেতু দল থেকে এখনও প্রার্থী চুড়ান্ত হয়নি, সেহেতু প্রার্থীরা নেতাকর্মীদের ব্যবহার করলে দলের জন্য ক্ষতির কারণ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে দলের মহানগর সভাপতি মাশুক উদ্দিন আহমদ বলেন, অবশ্যই বিষয়টি দলের জন্য ক্ষতির কারণ। তিনি বলেন, দল থেকে এখনও কোনো প্রার্থীকে এককভাবে প্রস্তুতি গ্রহণের কথা বলা হয়নি। সে হিসেবে দলীয় কর্মীদের কেউ এককভাবে ব্যবহার করতে পারে না। তিনি বলেন, প্রচারণা যে কেউ চালাতে পারে ব্যক্তিগতভাবে। প্রচারণা বিষয়ে দলীয় কর্মীদের ব্যবহার নিয়ে অনেক অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি কেন্দ্রে জানানো হবে বলে তিনি প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেন।
দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এটিএম জেবুল হাসান বলেন, দলের যে কেউ মনোনয়ন চাওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করেন। কিন্তু দল যাকে মেয়র হিসেবে প্রার্থী ঘোষণা করবে, তাঁর পক্ষেই কাজ করবেন কর্মী ও সমর্থকরা। তিনি বলেন, আমি প্রচারণা চালাচ্ছি আমার মতো করে। কেউ যদি দলীয় কর্মীদের প্রচারণা কাজে ব্যবহার করে, তার দায় ওইসব কর্মী ও নেতাদের।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D