৯ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:০৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০২২
নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে, নানা ঝড় সামলে দাঁড়িয়ে থাকা বইমেলা-২০২২ এবার সমাপ্তির পথে। গতকাল ১১ মার্চ বইমেলার ২৫তম দিন ও শেষ শুক্রবার। মেলা শুরু হয় সকাল ৯টায়। আজ মেলায় নতুন বই এসেছে মোট ৩১২টি। বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত প্রথানুসারে আজকেও ছিল শিশুপ্রহর। সকাল থেকেই চলেছে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেলায় মানুষের ভিড়ে দাঁড়ানোর জায়গা নেই। বিকালবেলা শিশুচত্বরে শিশুদের আবৃত্তি, গান ও নানা ধরণের পরিবেষণায় শিশু চত্বর ছিল জমজমাট। তবে শুক্রবার হলেও ভিড় অনুযায়ী বিক্রি নেই জানালেন একাধিক প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মী। তাদের মতে, মার্চে নেই ফেব্রুয়ারির সেই আমেজ।
ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় মার্চ মাসে বইমেলার বিক্রয় খুবই কম। দিনে দিনে পাঠক ও দর্শক ঠিকই বেড়েছে, বাড়েনি বিক্রয়। একাধিক বিক্রয়কর্মী, প্রকাশক ও দর্শনার্থী এমনটাই জানালেন।
মাওলা ব্রাদার্স’র স্টল ম্যানেজার শাহীন শিকদার বলেন, ‘শুক্রবারে যে ধরণের জমজমাট বিক্রয় হওয়ার কথা সে ধরণের বিক্রয় নেই। আশা করা যায় শেষের কয়েকঘণ্টায় বিক্রয়টা আরেকটু ভালো হবে। ফেব্রুয়ারি মাসে মেলার যে স্পিরিটটা থাকে, মার্চ মাসে সেটা থাকে না। আবহাওয়ার পরিবর্তন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত খুলে দিয়েছে বলে মেলা খুব একটা জমে উঠছে না। মানুষের ভিড় বেড়েছে, তবে বই কেনার মানুষ বাড়েনি। এ মাসে বিক্রয়ের কোনো উন্নতি হয়নি।’
জিনিয়াস পাবলিকেশন্স’র প্রকাশক মো. হাবীবুর রহমান বলেন, আজকে শুক্রবার বলে অন্যান্য দিন থেকে একটু বিক্রি ভালো। মেলাও গত বছরের তুলনায় এই বছর একটু ভালো। কিন্তু পাঠক বই কিনছে কম। নিয়মানুযায়ী মেলা ১ মাস করার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হলেও প্রভাবটা ততটা ভালো নয়। মেলার বিক্রয় ফেব্রুয়ারি মাসে ভালো ছিল। সময় বাড়িয়ে মার্চে আনা হলেও আশানুরূপ বিক্রয় বাড়েনি।’
ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশের বিক্রয়কর্মী রাকিব শরীফ বলেন, মেলার সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ভালো ছিল। বিক্রয়ও মোটামুটি চলছে। এর ফলে আমাদের সুযোগ সুবিধাও বেড়েছে। তবে বিক্রয়টা আরেকটু ভালো আশা করেছিলাম। শেষ সময়ে এসে বিক্রয় একটু কমেছে। আশা করছি সামনের কয়েকদিনে ভালো কিছু হবে।’
মেলায় আগত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মানজুর হোসাইনের সাথে কথা হয়। সময় বাড়ানোর পর মেলা কেমন জানতে চাওয়া হলে তিনিও একই মন্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘মার্চে এখন সবার স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খোলা। ফলে শিক্ষার্থীরা খুব একটা আসতে পারছে না। আবার খোঁজ নিলে দেখা যাবে অনেকে জানেই না বইমেলার সময় বাড়ানো হয়েছে। মানুষ ধরে নেয় বইমেলা ফেব্রুয়ারির বিষয়, তাই আর হয়ত খোঁজও রাখেন না। মেলায় এসে যা বুঝতে পারলাম ভিড় অনেক বেশি, তবে বেশিরভাগই শিক্ষার্থী নন এবং বইক্রেতা নন। তারা ঘুরতে এসেছেন, ছবি তুলছেন কিন্তু বই কিনছেন না। সেক্ষেত্রে মেলাটা যদি আরও আগে শুরু করে ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে চালানো যেত তবে আরও ভালো জমজমাট হতো।’
মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান:
গতকাল ( ১১ মার্চ শুক্রবার-) বিকাল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘নান্দনিক সমাজ গঠনে আবৃত্তির ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। সভাপতিত্ব করেন কবি জাহিদুল হক। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নিমাই মন্ডল এবং আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন লায়লা আফরোজ ও শাহাদাৎ হোসেন নিপু।
প্রাবন্ধিক বলেন, ‘যেকোনো শিল্পই শুভ-সুন্দর চেতনা দিয়ে নান্দনিক সমাজ গঠনে সহায়ক। আবৃত্তি একটি শিল্প বিধায় আবৃত্তিও নান্দনিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখে। আবৃত্তি মনকে পরিশুদ্ধ করে, চেতনাকে জাগ্রত করে। কবিতার বিষয় এবং পঙ্ক্তিসমূহ যদি যথাযথ আবৃত্তির মাধ্যমে অর্থসহ শ্রোতার কাছে পৌঁছানো যায়, তাহলে সেটা মানুষের নান্দনিক চিন্তা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।’
মেলার ‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন ড. মাসুদুজ্জামান এবং ড. মো. আলমগীর। অনুষ্ঠানে কবি নাহার আহমেদ এবং রাসেল আশেকী কবিতা পাঠ করেন।
এছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্বে রাজেশ দাসের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘উঠোন’, সুকান্ত গুপ্তের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘শ্রুতি সিলেট’ এবং মো. হায়দার আলীর পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘কৃষ্টিবন্ধন’-এর পরিবেশনা ছিল। অনুষ্ঠানে শিল্পী আলী হোসাইন এবং মো. রফিকুল ইসলাম সংগীত পরিবেশন করেন।
লেখক : সম্পাদনায়ঃ ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক: বাংলা পোস্ট |√| বিশেষ প্রতিবেদকঃ দৈনিক নয়াদেশ |√| ও প্রকাশক: বাংলাদেশ জ্ঞান সৃজনশীল প্রকাশনা |√|

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D