৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:০০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২২

‘মানুষ দৃষ্টিহীন বলেই অন্ধ নয়, মানুষ মূলত প্রজ্ঞাহীন বলেই অন্ধ’ এই স্লোগানেই এবারের অমর একুশে বইমেলায় নির্মিত হয়েছে ভিন্নধর্মী এক স্টল। দৃষ্টি হারানো মানুষের জন্য ব্রেইল পদ্ধতির বই নিয়ে স্পর্শ প্রকাশনার যাত্রা। উদ্দেশ্য বিনামূল্যে জ্ঞান আহরণের সীমাহীন এই ভাণ্ডার তুলে দেওয়া দৃষ্টিহীন মানুষের হাতে।
দৃষ্টি হারানো মানুষের জন্য বইমেলায় ব্যতিক্রমী আয়োজন
পরম মমতায় বইয়ের পাতায় হাত বুলিয়ে চলেছে ছোট্ট দুটো হাত। রবীন্দ্রনাথ, সুফিয়া কিংবা হুমায়ূনকে জানার আকুল আকাঙ্ক্ষা আটকে দিতে পারেনি আলো হারানো চোখজোড়া।
ক্রমাগত পৃষ্ঠা উল্টে চলেছে নামিরা। যেন এক মুহূর্ত স্বস্তি নেই। দেখে মনে হতে পারে বই কি কেউ কেড়ে নেবে কিসের এত তাড়া? কিন্তু না এ কেবলই ছোট্ট প্রাণের জানার আগ্রহ। নামিরা বলেন, আসলে আমি সব ধরনের বই পড়ি। তাহলে বিভিন্ন বিষয়ে জানা যায়।
ব্যতিক্রম নন নাজিম । বই পড়াই যার একমাত্র শখ। তাইতো রোজ ভোরে সুদূর নারায়ণগঞ্জ থেকে ছুটে আসা বইমেলা প্রাঙ্গণে। তবে বই পড়ার আনন্দকে ছাপিয়ে দৃষ্টি হারানো এই বালকের কণ্ঠে উঠে আসে আক্ষেপের সুর। নাজিম বলেন, বই মেলার প্রাঙ্গণে মানুষ ঘুরছে, পছন্দ করে বই কিনছে। তাহলে আমাদের জন্যে কেন একটি স্টল সিমাবদ্ধ থাকবে। আমরা চাই আরও তিন চারটা স্টলে একটি করে ব্রেইল বই থাকুক।
নামিরা, নাজিমের মতোই প্রকৃতির নিষ্ঠুর নিয়মে আটকেপড়া দৃষ্টিবঞ্চিত এসব মানুষের নিয়েই স্পর্শ ফাউন্ডেশনের আয়োজন। প্রাচীন ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়াশোনা করা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা যেন জ্ঞানের আলো থেকে বঞ্চিত না হন। বইমেলায় আসা আর পাঁচটা সাধারণ পাঠকের মতো তারাও যেন মনের মতো বইটি বেছে নিতে পারেন সেই জন্যই বরাবরের মতোই এবারের বইমেলায়ও স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনার ছোট্ট স্টলটি থাকছে সবার জন্য উন্মুক্ত। প্রকাশক নাজিয়া জাবীন বলেন, আপনার, আমার মতো ওরা গড়গড় করে বই পড়তে পারে না। প্রিয় লেখকের বই তারা খুঁজে বেড়াতেন এক সময়। এখন অন্তত তারা জানেন একট জায়গা আছে তাদের জন্যে।
এ বছর শততম ব্রেইল পদ্ধতির বই প্রকাশ করেছে স্পর্শ প্রকাশনা। দেশের প্রত্যেক কোণে দৃষ্টি হারানো মানুষের হাতে এসব বই পৌঁছে দেওয়ার আনন্দ যেমন আছে তেমনি পড়াশোনার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন এসব বঞ্চিত মানুষজন আছে সেই প্রত্যাশাও। এমনটায় জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভাষার মাসের প্রথম দিন থেকেই বাংলা একাডেমি চত্বরে বইমেলা শুরু হয়। রেওয়াজ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী এ বইমেলার উদ্বোধন করে থাকেন। কিন্তু মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে গত বছর থেকে এবছর পর্যন্ত মেলার সে রেওয়াজ অনুযায়ী একুশে গ্রন্থমেলা শুরু হতে বিলম্ব হয়েছে । এবার ও পনেরো দিন পিছিয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে মেলা । ২৮ ফেব্রুয়ারি আগামীকাল রোববার পর্যন্ত চলবে মেলা । কিন্তু লেখক প্রকাশক সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে পক্ষ থেকে বাংলা একাডেমির কাছে সুপারিশ করা হয়েছে আগামী ১৭ মার্চ পর্যন্ত এবারের বইমেলার সময় বাড়ানোর জন্য । সেই বিষয়টি আজ বিকেলে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন মহাপরিচালক কবি নুরুল হুদা ।
১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমির উদ্যোগে একটি বড় জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন হয়েছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।
সে উপলক্ষে সাত-আটজন প্রকাশক একাডেমির ভেতরে পূর্ব দিকের দেয়াল ঘেঁষে বই সাজিয়ে বসেছিলেন। সে বছরই প্রথম বাংলা একাডেমির বিক্রয়কেন্দ্রের বাইরে অন্য প্রকাশকদের বই বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।
১৯৮৩ সালে মনজুরে মওলা যখন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ছিলেন, তখন তিনি বাংলা একাডেমিতে প্রথম অমর একুশে গ্রন্থমেলার আয়োজন করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বইমেলা করা সম্ভব হয়নি। ১৯৮৪ সালে সাড়ম্বরে বর্তমানের অমর একুশে গ্রন্থমেলার সূচনা হয়।
বাংলা একাডেমির তথ্যানুযায়ী, ২০২১ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ৮২ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। নতুন বই প্রকাশিত হয়েছিল ৪ হাজার ৯১৯টি। বাংলা একাডেমি প্রকাশ করেছিল ৪১টি নতুন বই।
লেখক : প্রকাশক বাংলাদেশ জ্ঞান সৃজনশীল প্রকাশনা
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক : বাংলা পোস্ট

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D