১২ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:১৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২১
কঠোর লকডাউনে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রেখে মোটা অঙ্কের জরিমানা গুনছেন মালিকরা। গত কয়েক দিনে সারা দেশে অভিযানে সরকারি আদেশ অমান্য করে খোলা রাখা এসব প্রতিষ্ঠানমালিকদের করা হয়েছে জেল জরিমানাও। তবে কিন্ডারগার্টেন মালিকরা বলছেন, অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া নেয়ার জন্যই সীমিত পরিসরে তারা স্কুল খোলা রেখেছিলেন। ক্লাস বা পরীক্ষা নেয়ার জন্য নয়। আর শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনেই তারা শিক্ষাকার্যক্রমের অংশ হিসেবেই সীমিত পরিসরে প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়েছিল।
এদিকে জেল জরিমানার শিকার প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষকরা জানিয়েছেন, গত তিন-চার দিনে সারা দেশেই তারা প্রশাসনের হাতে নাজেহাল হয়েছেন। শুধু আর্থিকভাবেই ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা তারা জরিমানা গুনেছেন। এছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধও করে দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, লকডাউনের পর থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ৬০টি বেসরকারি স্কুল কলেজকে জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান মালিককে ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েশনের দেয়া তথ্য মতে, কুমিল্লা, গাজীপুর, জামালপুর, কুষ্টিয়া, রংপুর, বগুড়া, রাজবাড়ী, রাজশাহী, নোয়াখালী, শেরপুর, ঝিনাইদাহ, চুয়াডাঙ্গা, কিশোরগঞ্জ, নীলফামামারী, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, বরিশাল, ঠাকুরগাঁও ফরিদপুর, পাবনা, নওগাঁ, কুড়িগ্রাম কিশোরগঞ্জ জেলার ৫৬টি কিন্ডারগার্টেনকে জরিমানা করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে মোট জরিমানা করা হয়েছে ১৩ লাখ টাকার বেশি। আর ১২-১৪টি প্রতিষ্ঠান মালিককে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আবার বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মিজানুর রহমান নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, আমরা সরকারের নিয়মের বাইরে কখনোই যাবো না। শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট এবং জরুরি কিছু বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেয়ার জন্যই ক্লাসভিত্তিক শিক্ষার্থীদের শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিষ্ঠানে আসার অনুমতি দিয়েছিলাম। কিন্তু এর পরও আমাদের অনেক প্রতিষ্ঠানকে জেল জরিমানা করা হয়েছে এটা দুঃখজনক।
তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলে থাকেন, আপনারা চাকরির পিছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হন। আমরা ৪০ হাজার শিক্ষা উদ্যোক্তা এদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় সরকারের যে সাফল্য সর্বজন স্বীকৃত তার ৩০ ভাগ সহায়তা করে থাকি। আমাদের অনেকেই ইনকাম ট্যাক্সও দিয়ে থাকেন। অথচ কোভিড-১৯ এর কারণে আমরা এখন পথে বসেছি। উদ্যোক্তা হয়ে দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান রাখার পাশাপাশি বেকার সমস্যার সমাধান করেছি।
প্রতিষ্ঠান মালিকদের দুঃখ-দুর্দশার বর্ণনা দিয়ে তিনি আরো বলেন, একদিকে বাড়িভাড়া অন্যদিকে শিক্ষকদের বেতন এসব চিন্তায় অনেক শিক্ষক আত্মহত্যা পর্যন্ত করছেন। আমরা সরকারের সহযোগিতা চেয়ে বারবার আবেদন করেছি। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পাইনি। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকরা ধুঁকে ধুঁকে মারা যাক সেটা নিশ্চয়ই সরকার চায় না। আমরা নিরুপায় হয়েই মৃত্যুর কথা চিন্তা না করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ছাত্রদের শিক্ষাদান করছি।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D