শ্রীমঙ্গলের প্রকৃতিতে কৃষ্ণচূড়ার রঙ্গিন সুবাস বইছে

প্রকাশিত: ১২:৩০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২১, ২০২১

শ্রীমঙ্গলের প্রকৃতিতে কৃষ্ণচূড়ার রঙ্গিন সুবাস বইছে

গ্রীষ্মের খরতাপে প্রকৃতি যখন প্রখর রোদে পুড়ছে, কৃষ্ণচূড়া ফুল তখন জানান দিতে শুরু করেছে তার সৌন্দর্যের বার্তা। গ্রীষ্মের এই নিষ্প্রাণ রুক্ষতা ছাপিয়ে প্রকৃতিতে কৃষ্ণচূড়া নিজেকে মেলে ধরছে আপন মহিমায়। যেন লাল রঙে কৃষ্ণচূড়ার পসরা সাজিয়ে বসে আছে প্রকৃতি, যে কারো চোখে এনে দেয় শিল্পের দ্যোতনা।

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের প্রকৃতিতেও এখন কৃষ্ণচূড়ার রঙ্গিন সুবাস বইছে। এ সুবাস ছুঁয়ে যাচ্ছে ফুল ও প্রকৃতি প্রেমি মানুষের হৃদয়। পাখির ডানায়, হাওয়ায়-হাওয়ায় উড়ছে তার লাবণ্য। গাছে গাছে রক্তিম আভা নিয়ে জেগে থাকা কৃষ্ণচূড়া দৃষ্টি কাড়ছে ফুলপ্রেমি মানুষদের।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকজন ফুল ও প্রকৃতিপ্রেমি মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কৃষ্ণচূড়া একটি জনপ্রিয় ফুল। নানা বৈশিষ্ট্যে দৃষ্টিনন্দন এ ফুলের কদর রয়েছে সব মহলেই। বিশেষ করে বাংলা কাব্য, সাহিত্য, সংগীত ও বিভিন্ন উপমায় কৃষ্ণচূড়া ফুলের কথা বিস্তরভাবে উঠে এসেছে। ফুলটির রং এত তীব্র যে অনেক দূর থেকেই চোখে পড়ে। হঠাৎ দূর থেকে দেখলে মনে হবে, কৃষ্ণচূড়া গাছে যেন লাল রঙের আগুন লেগেছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি এলাকার কোথাও না কোথাও কৃষ্ণচূড়ার বংশ মিলেছে। এছাড়াও শ্রীমঙ্গল শহরের পাড়া-মহল্লায়ও ফুলটি সগর্বে জেগে রয়েছে। ইট-পাথরের মাঝেও গ্রীষ্মের চোখ জুড়ানো কৃষ্ণচূড়া ফুল বাঙালির মনকে নাড়া দেয় গভীরভাবে। আর গ্রামে-গঞ্জে গেলেও কিছুক্ষণ পর পর দেখা মিলবে গ্রীষ্মের এ রাজার।

সাধারণত বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ এ দুই মাস নিয়েই গ্রীষ্মকাল। আর গ্রীষ্মের ফুলের কথা বলতেই সবার চোখের সামনে ভেসে ওঠে কৃষ্ণচূড়ার কথা। সুমিষ্ট রসাল ফলের জন্য গ্রীষ্মকাল এগিয়ে রয়েছে, তবে ফুলের দিক থেকেও অন্যসব ঋতুর তুলনায় এগিয়ে রয়েছে গ্রীষ্মকাল। তাই গ্রীষ্মকালকেও ফুল উৎসবের ঋতু বলা যায়। কৃষ্ণচূড়ার ঐশ্বর্য, তার রঙের উজ্জ্বলতা অন্য ফুলকেও যেন হার মানিয়েছে। কৃষ্ণচূড়া যে কাউকে দিয়ে যাচ্ছে অন্যরকম এক ভালোলাগা।

স্বাধীনতার রূপক ও চেতনার অর্থে ফুলটিকে ব্যবহার করেছেন অনেক কবি, সাহিত্যিক। শুধু কবি নয়, শ্রীমঙ্গলের পথচারী থেকে শুরু করে সব শ্রেণি পেশার ফুলপ্রেমিদের আনন্দ ও মন কেড়েছে গ্রীষ্মের রাজা কৃষ্ণচূড়া। রঙে, রূপে, উজ্জ্বলতা ও কমনীয়তায় কোনও কিছুই যেন কৃষ্ণচূড়ার সমকক্ষ নয়। কৃষ্ণচূড়ার সৌন্দর্যে একবারের জন্য হলেও দৃষ্টি আটকে যায় না কিংবা থমকে দাঁড়ায় না- এমনটা হতেই পারে না।

ফুল ও প্রকৃতিপ্রেমী সিন্দুরখাঁন এলাকার কুঞ্জবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. একরামুল কবীর এই প্রতিবেদককে জানান, “ফরমালিন ভালোবাসার ফুলের কাছে এ যুগে আমরা কিছু মানুষ ফুল দিয়ে সাজাতে চাই পৃথিবী যে পৃথিবীতে কৃষ্ণচূড়ারা কেবল ফুল হয়ে ফুটবে আর আনন্দ দিবে অন্তরে প্রাণে।”

কবি জহিরুল মিঠু জানান, বসন্তে এলেও এই ফুল দীর্ঘ সময় থাকে। তাই এই ফুল মানুষকে কাছে টানে দীর্ঘ। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে লাল ফুল আমাদের লাল-সবুজ পতাকার কথাও মনে করিয়ে দেয়। দূর থেকেও এর সৌন্দর্য খুব উপভোগ্য! কৃষ্ণচূড়া আমাদের অনেক কবিতায় এসেছে। এখন মনে পড়ছে, কবি মহাদেব সাহার “চৈত্রে হয়তো ফোটেনি কৃষ্ণচূড়া তাতে ক্ষতি নেই; তোমার ঠোঁটেই দেখি এসেছে আবার কৃষ্ণচূড়ার ঋতু…।

কৃষ্ণচূড়ার বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিক্স রেজিয়া। এটি ফাবাসিয়ি গোত্রের অন্তর্গত একটি বৃক্ষ যার গুলমোহর নামেও পরিচিতি রয়েছে। বসন্তের শেষ দিকে সাধারণত কৃষ্ণচূড়ার পাতা ঝরে পড়তে শুরু করে। ধীরে ধীরে পত্রহীন বাঁকানো ডালগুলোতে দেখা যায় কলির আভাস। অন্যান্য ফুল গাছে যখন নতুন পাতা আসে কিন্তু ফুল আসে না, ঠিক তখনই কৃষ্ণচূড়ার সব পাতা ঝরে গিয়ে ফুলের কলি দেখা দেয়। আর গ্রীষ্মের শুরুতেই দেখা যায় লালের আভাস। তারপর লালে লালে উজ্জ্বল হয়ে প্রকৃতিতে যেন আগুন লাগিয়ে দেয় কৃষ্ণচূড়া।