কুলাউড়ায় শ্রমিকদের সংঘর্ষে আহত ৩০, অর্ধশতাধিক সিএনজি-রিকশা ভাংচুর

প্রকাশিত: ৬:১৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০২০

কুলাউড়ায় শ্রমিকদের সংঘর্ষে আহত ৩০, অর্ধশতাধিক সিএনজি-রিকশা ভাংচুর

জেলার কুলাউড়ার পৌর শহরে সিএনজি অটোরিকশা-ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা শ্রমিকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। এসময় অর্ধশতাধিক সিএনজি-অটোরিকশা ভাংচুর করা হয়। বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা সাড়ে এগারোটা থেকে প্রায় তিনঘণ্টা ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়।

সিএনজি অটোরিকশা-ব্যটারীচালিত অটোরিকশা শ্রমিক এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়ায় অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধের দাবিতে মৌলভীবাজার জেলা অটো টেম্পো, অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি: নং চট্ট০-২৩৫৯) কুলাউড়া শাখার আয়োজনে পূর্ব ঘোষিত সিএনজি অটোরিকশা বন্ধ রেখে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি কর্মসূচি পৌর শহরের স্টেশন চৌমুহনীতে শুরু হয় বুধবার সকাল ১১টার দিকে। মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকরা স্টেশন চৌমুহনীতে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর চালায়। এরপর মৌলভীবাজার জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি: নং চট্ট: ২৪৫৩) কুলাউড়া উপজেলা শাখার শ্রমিকরা পাল্টা অবস্থান নেন পৌর শহরের উছলাপাড়া এলাকার প্রধান সড়কে।

এ সময় মানববন্ধনে অংশ নেওয়ার জন্য উপজেলার রবিরবাজার থেকে আসা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকদের একটি মিছিল আলালপুর এলাকায় পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ রিকশা শ্রমিকরা বাধা প্রদান করলে আরও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসময় দুই পক্ষের শ্রমিকরা সংঘর্ষে লিপ্ত হন এবং সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা ভাঙচুর করা হয়। দফায় দফায় তিন ঘণ্টা ব্যাপী চলা সংঘর্ষে উত্তেজিত দুপক্ষের শ্রমিকরা শহরের উত্তর রেল আউটার, চৌমুহনী, দক্ষিণ বাজার, মাগুরা, উছলাপাড়া, আলালপুর, স্কুল চৌমুহনী এলাকায় প্রায় ৪০-৪৫টি সিএনজি অটোরিকশা এবং অর্ধশতাধিক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়। এসময় সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকরা পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেন এবং উছলাপাড়ায় অবস্থিত মৌলভীবাজার জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন কুলাউড়া শাখার কার্যালয় ভাঙচুর চালান তারা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজরাতুন নাঈম এবং কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদেক কাওসার দস্তগীররের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান নেয়।

এদিকে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়কালীন সময়ে দুপুর ১টার দিকে সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকরা আলালপুর এলাকায় মৌলভীবাজার-কুলাউড়া প্রধান সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় আধা ঘণ্টা সেখানে অবস্থান নেওয়ার পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেন।

মৌলভীবাজার জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি: নং চট্ট: ২৪৫৩) কুলাউড়া উপজেলা শাখার সভাপতি আকাশ আহমদ জানান, চৌমুহনীতে সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকদের মানববন্ধন চলাকালে আমাদের একজন শ্রমিক সড়ক দিয়ে অটোরিকশা নিয়ে যাওয়ার সময় সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকরা হামলা চালিয়ে চালককে মারধর ও রিকশা ভাঙচুর করেন। পরে সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকরা হামলা চালিয়ে শহরে থাকা আমাদের ৫০টি রিকশা ও আমাদের কার্যালয় এবং কার্যালয়ে থাকা আসবাবপত্র ভাঙচুর করে গুড়িয়ে দেয়। হামলায় আমাদের সংগঠনের ২০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন।

অপরদিকে মৌলভীবাজার জেলা অটো টেম্পো, অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি: নং চট্ট০-২৩৫৯) কুলাউড়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. সোহাগ মিয়া জানান, অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধের দাবিতে স্টেশন চৌমুহনীতে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছিলাম। কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ ইয়ারদৌস হাসান আমাদের মানববন্ধন চলাকালে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দেন। এসময় আমাদের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য রবিরবাজার থেকে সিএনজি অটো রিকশা শ্রমিক নেতৃবৃন্দরা মিছিল নিয়ে শহরে আসার মুহূর্তে আলালপুর এলাকায় রিকশা শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের নেতৃত্বে শ্রমিকরা ওই মিছিলে বাধা প্রদান করে এবং হামলা চালায়। রিকশা শ্রমিকরা শহরের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে আমেদর ১২ জন শ্রমিককে আহত করে ও ৪০টির বেশি সিএনজি অটোরিকশা ভাঙচুর করে।

কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদেক কাওসার দস্তগীর জানান, সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা শ্রমিকদের সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ কঠোর অবস্থান নেওয়ায় পরিস্থিতি শান্ত এবং শহরে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ব্যাপারে কোন পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

তিনি আরও বলেন, আগামী রোববার বিষয়টি সমাধানে দু’পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করা হবে। দুপক্ষকেই শান্ত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট