বানিয়াচংয়ে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা, আটক ১

প্রকাশিত: ১০:৪৫ অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০২০

বানিয়াচংয়ে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা, আটক ১

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ৭নং বড়ইউড়ি ইউনিয়নের ছিলারাই গ্রামের ছিলারাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী সুবর্ণা সরকারকে (৯) ধর্ষণের পর শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেছে এক যুবক।

গত শনিবার (১৬ মে) রাত ৮টার দিকে তার বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করেছে বানিয়াচং থানা পুলিশ। উদ্ধার হওয়া স্কুল ছাত্রী ছিলারাই গ্রামের প্রভাত সরকারের মেয়ে। এই অভিযোগে প্রভাত সরকার বাদি হয়ে একই গ্রামের হগেন্দ্র সরকারের পুত্র রিংকু সরকারকে আসামি করে বানিয়াচং থানায় একটি এজাহার দাখিল করেছেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রভাত সরকারের স্কুল পড়ুয়া কন্যা সুবর্ণা সরকার গত ১৫ মে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাড়ির আঙ্গিনায় খেলাধুলা করছিল। কিছুক্ষণ পর খাবারের জন্য পরিবারের অন্য সদস্যরা একত্রিত হলে ঘরে আসেনি সুবর্ণা সরকার। অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর কোথাও না পেয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করেন প্রভাত সরকার। এই সময় প্রভাত সরকারের প্রতিবেশী রিংকু সরকারকে তার ঘরের আশেপাশে এসে ঘুরাঘুরি করতে দেখেন। তার আগে রিংকু সরকার সুবর্ণাকে প্রায়ই স্কুলে আসা যাওয়ার পথে প্রেমের প্রস্তাব দিত।

বিষয়টি এলাকার মুরুব্বি এবং রিংকু সরকারের পিতা-মাতাকে জানালে তারা কোনো কর্ণপাত করেননি। সুবর্ণা সরকার নিখোঁজ হওয়ার পর আসামি রিংকু সরকারের আচার-আচরণে সন্দেহ হওয়ায় তার উপর নজরদারি বাড়ান সুবর্ণার পরিবারের সদস্যরা। তার প্রতি সন্দেহ বাড়তে থাকায় স্থানীয় মেম্বার আবুল কালামসহ এলাকার কিছু মুরুব্বিদের নিয়ে ১৭ মে রোববার আসামি রিংকু সরকারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে রিংকু সরকার সুবর্ণাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ গুম করার কথা অকপটে স্বীকার করে।

সাথে সাথে বানিয়াচং থানা পুলিশকে খবর দিলে বানিয়াচং থানায় অবহিত করলে অফিসার ইনচার্জ এমরান হোসেন বিষয়টি হবিগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যাহকে জানান। পরে তার দিক নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বানিয়াচং সার্কেল) শেখ মো. সেলিমের নেতৃত্বে তদন্ত (ওসি) প্রজিত কুমার দাশ, এসআই হিরক চক্রবর্তী, এসআই আব্দুস সাত্তার, সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রিংকু সরকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এসময় ভিকটিম সুবর্ণা সরকারকে বাড়ির পূর্ব পাশে ধানের খলায় নিয়ে ধর্ষণ ও শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে লাশ ডোবায় ফেলে দেয় বলে জানায়।

এই ঘটনায় নিহত সুবর্ণার বাবা প্রভাত সরকার সোমবার (১৮ মে) বাদি হয়ে রিংকু সরকারের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ (সং/০৩) এর ৯(২) তৎসহ দণ্ডবিধি ২০১ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১৫। বানিয়াচং থানার এসআই আব্দুস সাত্তারের উপর তদন্তভার অর্পণ করা হয়েছে।

এদিকে ধৃত আসামি রিংকু সরকার মামলার ঘটনার সাথে নিজেকে জড়িয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বানিয়াচং সার্কেল) শেখ মো. সেলিম।


এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট