জকিগঞ্জে সরকারি চাল আত্মসাত ও লুটের ঘটনায় ৮ জন জেল হাজতে

প্রকাশিত: ১২:০২ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৮, ২০২০

জকিগঞ্জে সরকারি চাল আত্মসাত ও লুটের ঘটনায় ৮ জন জেল হাজতে

সিলেটের জকিগঞ্জের কালিগঞ্জে সরকারি চাল কেলেংকারি ও হরিলুটের ঘটনায় আটক ৮ জনকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তারা হচ্ছে, মিলার শফিক আহমদ, খাসেরাগ্রামের মৃত ফয়জুর রহমানের ছেলে কালিগঞ্জ বাজারের ডিলার জয়নাল আহমদ, আইয়র গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে কসকনকপুর গ্রামের ডিলার আব্দুল মুকিত, কসকনকপুর গ্রামের আছদ্দর আলীর ছেলে ট্রাক চালক কামরুল ইসলাম, বারগাত্তা গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে ও ট্রাক হেলপার সইফ উদ্দিন এবং নগরকান্দি গ্রামের আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে দেলোয়ার হোসেন ও দেওয়ানেরচক গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে বিপ্লব আহমদ, বারঠাকুরী ইউনিয়নের ডিলার আব্দুল আজিজ।
এ ঘটনায় এ ৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার রাতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বাদী হয়ে জকিগঞ্জ থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেন। সোমবার তাদের ৮ জনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজাতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকালের দিকে কালিগঞ্জ বাজারে ১০ টাকা দরের ৫৭০ বস্তা চাল আত্মসাতকালে চালভর্তি ট্রাক আটক করে স্থানীয় জনতা। পরে ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চালভর্তি ট্রাকে লুটপাট করা হয়। এ ঘটনায় জকিগঞ্জ থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক দুজন ডিলার, একজন ট্রাক চালক ও এক হেলপার এবং চাল লুটপাটে জড়িত সন্দেহে দুজন যুবকসহ মোট ৬ জনকে আটক করেছে। পরে কৌশলে সিলেটের মিলার শফিক আহমদকেও আটক করা হয়। আটককৃত সবাইকে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। মামলা রেকর্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জকিগঞ্জ থানার ওসি মীর মো. আব্দুন নাসের।

জানা গেছে, রবিবার সকাল ১১টার দিকে কালিগঞ্জ বাজারের হোসেন এন্ড সন্সের সামনে ট্রাক থামিয়ে ১০ টাকা দরের ৩০ কেজি ওজনের চালের বস্তা নামানোর সময় স্থানীয় জনতার সন্দেহ হয়। তখন ট্রাক চালককে চাল নামানোর বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে চালক জানায় চালগুলো কালিগঞ্জের দুই ব্যবসায়ীর। তারপর স্থানীয় জনতা ট্রাক চালকের কাছে চালের সরকারি কাগজপত্র দেখতে চাইলে সে তাৎক্ষনিক কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তখন ট্রাকসহ চাল আটক করে প্রশাসনকে খবর দেন স্থানীয়রা।

খবর পয়ে জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজন কুমার সিংহ, জকিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়, ওসি মীর মো. আব্দুন নাসের তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যান। এরই মাঝে ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে স্থানীয় জনতা চালের ট্রাকে লুটপাট শুরু করে। পরে পুলিশের পদক্ষেপে লুটপাট বন্ধ হয়। এরপরও হরিলুট করে ২২৪ বস্তা চাল নিয়ে যায় সমবেত লোকজন।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ একটি গুদাম থেকে চাল উদ্ধার অভিযানে থাকাকালে লোকজন চালভর্তি ট্রাকে লুটপাট শুরু করে। পরে পুলিশ কঠোর অভিযান করে ৩৪৬ বস্তা চাল উদ্ধার করে ও লুটপাটে জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করে।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট