করোনা মোকাবেলায় একজোট বিজেপি-তৃণমূল!

প্রকাশিত: ৩:৫৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৬, ২০২০

করোনা মোকাবেলায় একজোট বিজেপি-তৃণমূল!

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) বিশ্বব্যাপী সাড়ে ছয় হাজারের বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভাইরাসটির সংক্রমণের আতঙ্কে পশ্চিমবঙ্গে পৌরসভার ভোট পেছানোর প্রস্তাব করেছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি।

রবিবার (১৫ মার্চ) বিবৃতির মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের কাছে আসন্ন ভোট পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে। যদিও রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষও ইতোমধ্যে বলেছেন, বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকলে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়াই শ্রেয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, করোনা ভাইরাসকে এরই মধ্যে মহামারি বলে ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তাই জনগণের সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে বিভিন্ন নির্দেশিকা জারি ও একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। চলমান সংকটময় মুহূর্তে রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের কাছে পৌরসভার ভোট পেছানোর আবেদন জানাচ্ছি।

তৃণমূলের দাবি, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের উচিত এখন জনসাধারণের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই করা। নির্বাচন তো সবসময় আসবে যাবে। এই ভয়ের সময় রাজনৈতিক দলগুলোকে হাতে হাত মিলিয়ে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

এ দিকে পৌরসভার ভোট পেছানো নিয়ে আলোচনার জন্য সোমবার (১৬ মার্চ) রাজ্যের ১০টি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন। যদিও এই ভোট নিয়ে বিজেপির অবস্থান ইতোমধ্যে স্পষ্ট। দলের রাজ্য সভাপতির ভাষায়, বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকলে ভোট পেছানোই ভালো।

ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রাণঘাতী করোনার থাবায় দুইজনের প্রাণহানিসহ মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১১৪ জনে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, উৎপত্তিস্থল চীনের সীমা অতিক্রম করে এর মধ্যে বিশ্বের অন্তত ১৫৭টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। বিশ্বব্যাপী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ। আর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যাও এরই মধ্যে ৬ হাজার ৫১৬ জনে পৌঁছেছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাস মানুষ ও প্রাণীদের ফুসফুসে সংক্রমণ করতে পারে। ভাইরাসজনিত ঠান্ডা বা ফ্লুর মতো হাঁচি-কাশির মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস। ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হওয়ার প্রধান লক্ষণগুলো হলো- শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া ইত্যাদি। তাছাড়া শরীরের এক বা একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিষ্ক্রিয় হয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে।

বর্তমানে সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো ভাইরাসটি নতুন হওয়ায় এখনো কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। ভাইরাসটির সংক্রমণ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় সংক্রমিত ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকা। তাই মানুষের শরীরে এমন উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট