নুরের মুখে হামলার বিবরণ

প্রকাশিত: ১১:৪৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৩, ২০১৯

নুরের মুখে হামলার বিবরণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনের নিজ কক্ষে হামলার শিকার হন ভিপি নুরুল হক নুর। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসারত নুর জানালেন হামলার বিবরণ।

সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেন, গত ১৭ ডিসেম্বর যে আমার আঙুল ভেঙেছিল, এটার ফলোআপ করার জন্য রবিবার (২২ ডিসেম্বর) ঢাকা মেডিকেলে গিয়েছিলাম। ডাক্তার দেখানোর সময় আমার সংগঠনের কর্মীরা ছিল আমার সঙ্গে। ডাক্তার দেখিয়ে আমি ডাকসুতে উঠেই সবেমাত্র রুমে ঢুকেছি। এর মধ্যেই পেছন থেকে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ এবং মধুর ক্যান্টিনে থাকা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা রড, বাঁশ, লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে।

তিনি বলেন, আমার রুমে চেয়ার ছিল, এগুলো নিয়ে ঘুরে দাঁড়ালেই ওরা নিচে চলে যায়। এরপর আমরা ভেবেছি যে ওরা আর আসবে না। আমরা তখন রুমে বসি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওরা বাইরে থেকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনে নিজ কক্ষে রবিবার হামলার শিকার হন সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর। গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে হামলার বিবরণ দেন নুর।

তিনি বলেন, ‘গতকালকে আমি ঢাকা মেডিকেলে গিয়েছিলাম। গত ১৭ ডিসেম্বর যে আমার আঙুল ভেঙেছিল, এটার ফলোআপ করার জন্য। ডাক্তার দেখানোর সময় আমার সঙ্গে আমার সংগঠনের ২০-২৫ জন নেতাকর্মী ছিল। ডাক্তার দেখিয়ে আমি ডাকসুতে উঠেই সবেমাত্র রুমে ঢুকেছি, অর্ধেক ঢুকতে পেরেছে আর অর্ধেক ঢুকতে পারেনি। এর মধ্যেই পেছন থেকে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ এবং মধুর ক্যান্টিনে থাকা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রড, বাঁশ, লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে। আমি সবাইকে বলেছি যে, সবাই যেন বসে। তারপর ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত, তারা গেটের কলাপসিবল খুলে তাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে রুমে ঢুকে। ঢুকেই তারা আমার আশপাশে যারা ছিল, ওদের মারতে শুরু করে।

নুর বলেন, এখন আমরা যেহেতু ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব করি, এই কারণে ক্ষোভটা আমাদের ওপর বেশি। মুখবন্ধ রাখার চেষ্টা তো আগেও করেছে। কিন্তু হত্যা চেষ্টা করেছে একেবারে। আমার ওপর তিন দফায় হামলা করেছে, আহত না হওয়া পর্যন্ত চলেছে। আমার শরীরের ডান পাশ হয়তো অচল করে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ডাকসু তো কোনো ব্যক্তি না, ডাকসু একটা প্রতিষ্ঠান। ডাকসুতে ঢুকে ছাত্রলীগ প্রকাশ্যে এভাবে নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছে, যা পাকিস্তানি হানাদারদেরও হার মানিয়েছে। একজন একজন করে রুম থেকে ধরে নিয়ে মেরেছে। এই ঘটনাগুলোর যদি দেশবাসী প্রতিবাদ না করে, এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যদি প্রতিরোধ গড়ে না তোলে, আর কেউ কথা বলবে না। আবরার বুয়েটের ছাত্র, তাকে ঠেকাতে পারেনি, তাকে মেরে ফেলেছে ছাত্রলীগ। আমাদের যে এই আধমরা করে রেখেছে, প্রতিনিয়ত মার খাচ্ছি। ওদের বিরুদ্ধে যদি কথা না বলে, শুধু দেখতে আসলে, ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়ে সমবেদনা জানাতে হবে না।

এ ঘটনায় কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন কি না? জবাবে নুর বলেন, আইনানুগ ব্যবস্থা এখন সাধারণ মানুষের জন্য আছে? আমি গত ১৮ ডিসেম্বর হত্যা অপচেষ্টার মামলা করেছিলাম, তারপরেও এই হত্যা চেষ্টার শিকার হয়েছি। আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে তো কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। এর আগে, বগুড়াতে মামলা করতে গিয়েছি, মামলা নেয়নি। আমি নিজে জিডি করতে গিয়েছিলাম, জিডি নেয়নি।