জৈন্তাপুরে এনসিপির গাড়ী বহরে হামলার অভিযোগ, আহত ২

প্রকাশিত: ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১, ২০২৬

জৈন্তাপুরে এনসিপির গাড়ী বহরে হামলার অভিযোগ, আহত ২

জৈন্তাপুরে জনসভা শেষ করে রাতে সিলেট নগরীতে ফেরার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাদের বহনকারী গাড়ি লক্ষ্য করে আবারও হামলা ও ঢিল নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশ বলছে, কোন হামলার ঘটনা ঘটেনি। এনসিপির নেতাদের সাথে সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরা ছিল।

শুক্রবার(৩১ জুলাই) রাত পৌনে ১১টার দিকে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশ করে এনসিপি। এতে অংশ নেন দলটির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, সংসদ সদস্য ও নারী শক্তির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব মাহমুদা মিতু।

এ বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং দলটির আহবায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম।

শুক্রবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটে একটি ভিডিওসহ পোস্ট দেন নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি লিখেন, ‘তারেক রহমান, আমাকে রক্তাক্ত করে আপনি একটি ভয়াবহ ভুল করেছেন। আপনি সন্ত্রাসের পথে গেলেন। জৈন্তাপুর পদযাত্রার শেষ কর্মসূচি শেষ করে ফেরার পথে…’।

এরপর রাত ১১টা ১১ মিনিটে একই ভিডিওসহ পোস্ট দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি লিখেন, ‘সিলেটের জৈন্তাপুরে জুলাই পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে এনসিপির গাড়িবহরে আবারও হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনী। হামলাকারীরা গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করে। ভাঙা কাঁচে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দুইজন আহত হন।’

দুটি পোস্টেই চলতি গাড়ির ভিতর থেকে ধারণকৃত একটি ভিডিওতে গাড়ির কাঁচ ভাঙা দেখা যায় এবং গাড়ির অভ্যন্তরে দুইজন ব্যক্তির রক্তাক্ত হাত দেখা যায়। তবে কারো চেহারা দেখা যায়নি।

এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন যে রাত পৌনে ১১টার দিকে জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর বাজার এলাকায় তাদের উপর এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।

রাতে জৈন্তাপুর থেকে ফেরার পথে চলন্ত গাড়িতে ঢিল ছুঁড়ে গাড়ির গ্লাস ভেঙে দেওয়া হয় বলে সিলেট সার্কিট হাউজে এসে অভিযোগ করেন দলটির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। এতে তিনিসহ দুজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি দাবী করেন হরিপুর বাজারে পথসভা শেষ করে গাড়ীতে উঠে তিন মিনিট চলার পরই ডান দিক থেকে ইট দিয়ে ঢিল ছুড়া হয়। এতে তার গাড়ীর ডান পাশের জানালার কাচ ভেঙ্গে যায়। এতে ডান পাশে থাকা এক কর্মী ও তিনি আহত হন। এঘটনায় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দায়ী করেন। বলেন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের দেয়া উস্কানীতেই তার উপর হামলা করেছে বিএনপির লোকজন। তিনি বলেন, রক্তের বদলা রাজপথেই নেয়া হবে।

সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “আজকে আমাদের তিনটি প্রোগ্রাম ছিল। স্টেজ থেকে নেমে গাড়ি কয়েক মিনিট ক্রস করার পর বিকট একটি শব্দ হয়। আমাদের গাড়ির কাঁচ ভেঙে গিয়েছে, বড় একটি ইট পড়েছে, আমার হাতে ইটের আঘাতের দাগ আছে। মাথায় পড়লে মাথা ফাটতো নিশ্চিত।’

পুলিশের অস্বীকার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার পিছনে এএসপির গাড়ি ছিল, সামনে পুলিশের গাড়ি ছিল। পাশে মোটরকেড ছিল। এখনো গাড়ি ভাঙা আছে, ইট আছে, আঘাত আছে। আমরা আশা করবো যে পুলিশ ভাইয়েরা তাদের চরিত্র পরিবর্তন করবে। আমরা এসপিকে জানিয়েছি, পুলিশকে জানিয়েছি। আমি আদালতে বা কোথাও যাবো না, এটাকে পার্সোনালি নিলাম।’

তবে হামলার অভিযোগ সম্পর্কে জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, হামলার অভিযোগ সঠিক নয়। এরকম কিছুই ঘটেনি। সমাবেশ শেষে তাদের নিরাপদে সিলেট পৌছে দেওয়া হয়। পুরো রাস্তায় তাদের সাথে পুলিশ ছিল।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট