সিলেট-ঢাকা ছয় লেন সড়ক পুরোপুরি প্রস্তুত হবে ২০২৯ সালে : বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৬:৪০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

সিলেট-ঢাকা ছয় লেন সড়ক পুরোপুরি প্রস্তুত হবে ২০২৯ সালে : বাণিজ্যমন্ত্রী

সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প ২০২৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে পুরোপুরি চলাচলের জন্য প্রস্তুত হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে সিলেটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সিলেট মহানগরের একটি কনভেনশন হলে মহানগর ব্যবসায়ী সমিতির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ এগিয়ে চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেটের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ হবে, যা বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

তিনি জানান, সিলেটে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আগামী সপ্তাহ বা তার পরের সপ্তাহে তাকে সিলেটে এনে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ করে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক তরুণ ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আয় করছেন। সিলেটের তরুণদেরও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ খাতে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করা গেলে তারা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, সিলেটে বিনিয়োগ বাড়াতে যোগাযোগব্যবস্থা, তথ্যপ্রযুক্তি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন জরুরি। একটি অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নে অবকাঠামো উন্নয়ন ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিকল্প নেই।

মন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে লাখ লাখ টাকা দাবি করা হয়, যা কোনো হিসাব বা রেকর্ডে থাকে না। ব্যবসা শুরুর প্রথম ধাপেই যদি এমন পরিস্থিতি থাকে, তাহলে নতুন বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হন।

তিনি জানান, এসব জটিলতা দূর করতে সরকার ব্যবসা সংশ্লিষ্ট নীতিমালা সহজীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনলাইন করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন পোর্টাল চালু করা হবে, যেখানে ব্যবসায়ীরা মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে আবেদন করতে পারবেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করে নির্ধারিত ফি জমা দিলেই সেখান থেকেই ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া যাবে। এজন্য কাউকে আর সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হবে না। জমা দেওয়া ফি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে যাবে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা শুরু করা সহজ হবে এবং নতুন বিনিয়োগ বাড়বে।

আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো এলাকায় মাদক বা কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা থাকলে সেখানে বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সিলেট নগরকে উন্নত প্রযুক্তির সিসিটিভির আওতায় আনার উদ্যোগের কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, এমন সিসিটিভি স্থাপন করা হবে যাতে মুখ শনাক্ত করা সম্ভব হয় এবং রাতেও কার্যকর নজরদারি চালানো যায়।

অনুষ্ঠানে মহানগর ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট