৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:৫৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩০, ২০১৯
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘আদর্শ ছাড়া, প্রচেষ্টা ছাড়া, বৃত্তি ছাড়া পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস ছাড়া শিক্ষা মূল্যহীন। তাই একজন শিক্ষককে হতে হবে আদর্শ ও ন্যায় নীতির প্রতীক।’
তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি গণমাধ্যমে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যেসব খবর ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে তা দেখে আচার্য হিসেবে আমি মর্মাহত। আজকাল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা যাচ্ছে শিক্ষকগণ প্রশাসনের বিভিন্ন পদ-পদবী পাওয়ার লোভে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে ঠিকমতো অংশ না নিয়ে বিভিন্ন লবিংয়ে ব্যস্ত থাকেন। অনেকে আবার নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করতেও পিছপা হন না। ছাত্র শিক্ষক সম্পর্ক ভুলে গিয়ে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট লেনদেনে সম্পৃক্ত হন। এটা অত্যন্ত অসম্মানের ও অমর্যাদাকর।’
শনিবার (৩০ নভেম্বর) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একাদশ সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্য প্রদান কালে বিশ্ববিদ্যালয় আচার্য ও রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ এসব কথা বলেন।
শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। সাধারণ মানুষ আপনাদের সম্মান ও মর্যাদার উচ্চাসনেই দেখতে চায়। তাই ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার জন্য নীতি ও আদর্শের সঙ্গে আপস করবেন না। আপনাদের মর্যাদা আপনাদেরই সমুন্নত রাখতে হবে। ব্যক্তি স্বার্থের কাছে আদর্শ যাতে ভূলুণ্ঠিত না হয়, সে দায়িত্ব আপনাদেরই নিতে হবে।’
শিক্ষক উন্নত জাতি তৈরির মহান কারিগর উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘একজন শিক্ষক নিছক একজন বক্তা নন, শিক্ষা গুরু। শিক্ষকের কথা কেবল বক্তৃতা নয়, তা বাণী। বক্তৃতা দেওয়া হয় প্রচারের জন্য, প্রশংসা পাবার জন্য আর ভোটের জন্য। বক্তৃতা উজ্জীবিত করার পাশাপাশি উত্তেজিত করে, পক্ষান্তরে বাণী শ্রোতার বুদ্ধি ও বিবেককে জাগ্রত করে। বাণী শ্রোতার অন্তরের জ্ঞানের মশাল প্রজ্বলিত করে। আপনারা রাজনৈতিকভাবেও খুবই সচেতন ব্যক্তিত্ব। রাজনৈতিক মতাদর্শ ও চিন্তা-চেতনায় একজনের সঙ্গে আরেকজনের পার্থক্য থাকতেই পারে কিন্তু এর নেতিবাচক প্রভাব যেন প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষার্থীর ওপর না পরে তাও নিশ্চিত করতে হবে।’
গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘তোমরা আজ গ্র্যাজুয়েট। তোমরা দেশের উচ্চতর মানবসম্পদ। দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে ও অগ্রগতি নির্ভর করছে তোমাদের ওপর। তোমাদের তারুণ্য, জ্ঞান, মেধা ও প্রজ্ঞা হবে দেশের উন্নয়নে প্রধান চালিকাশক্তি। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে একজন গ্র্যাজুয়েট হিসেবে সব সময় সত্য ও ন্যায়কে সমুন্নত রাখবে। নৈতিকতা ও দৃঢ়তা দিয়ে দুর্নীতি ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে। রাষ্ট্রের বিবেকবান নাগরিক হিসেবে তোমাদের কাছে জাতির প্রত্যাশা, তোমরা কখনো অর্জিত ডিগ্রির মর্যাদা ও সম্মান আর নৈতিকতাকে ভূলুণ্ঠিত করবে না। বিবেকের কাছে কখনো পরাজিত হবে না।’
দেশের সাধারণ মানুষদের অবদানের কথা স্বীকার করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গ্র্যাজুয়েটরা মনে রাখবে এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষ তাদের শ্রম ও ঘামের বিনিময়ে তোমাদের শিক্ষার ব্যয় ভার বহন করেছে। তাদের কাছে তোমরা ঋণী। এখন সময় এসেছে সেই ঋণ পরিশোধ করার। তোমরা তোমাদের মেধা কর্ম ও সততা দিয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পারলে সেই ঋণ কিছুটা হলেও শোধ হবে। দেশ ও এদেশের সাধারণ জনগণকে কখনো ভুলবে না।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সমাবর্তন বক্তা ছিলেন ভারতের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রঞ্জন চক্রবর্তী। এতে বক্তব্য দেন, রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আবদুস সোবহান। স্বাগত বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়া।
এছাড়াও অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য দেন- কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক একেএম মোস্তাফিজুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এমএ বারী। আরও উপস্থিত ছিলেন- রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D