|
প্রকাশিত: ১২:১৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০১৮
২১ নভেম্বর ২০১৮, বুধবার : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম দুইদিনের ধারাবাহিকতায় গতকালও দিনব্যাপী ধানের শীষ টিকিটপ্রত্যাশীরা মনোনয়ন বোর্ডে সাক্ষাৎকার দেন। দলের চেয়ারপারসন কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎকারে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নির্বাচন সম্পর্কে আলোচনার একপর্যায়ে অঙ্গীকার করানো হয় প্রার্থীদের। আহ্বান জানানো হয়, যেকোনো পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ থেকে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার।
সেই সঙ্গে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকার তাগিদও দেয়া হয়। মনোনয়ন বোর্ডে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের শীর্ষ নেতৃত্ব দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও ঐক্যবদ্ধ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। জনমত তৈরির জন্য দলের প্রত্যেক মনোনয়নপ্রত্যাশীকে নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ করার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন তারা।
একইসঙ্গে বিগত দিনে দলের ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তৃতীয় দিন মনোনয়ন বোর্ডের মুখোমুখি হওয়া সিলেটের কয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
সময় স্বল্পতার কারণে এবারের জাতীয় নির্বাচনে একক নয় গ্রুপ করে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছে বিএনপি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কয়েকটি আসন মিলেই ডাকা হচ্ছে সাক্ষাৎকারে। গতকাল বিকালে সিলেট জেলার ছয়টি আসনে ৩৬ জন প্রার্থীকে মনোনয়ন বোর্ডে ডাকা হয়। এসময় দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। ভোটাধিকার নেই। এই প্রতিকূল অবস্থায় আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপি এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, অন্যায়ভাবে গণতন্ত্রের মা খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করা হয়েছে। নির্বাচন ও আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করতে হবে। নির্বাচনে জনগণের রায় যাতে কেউ কেড়ে নিতে না পারে সেদিকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বলেন, আজ বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মী নির্যাতিত ও নিপীড়িত হচ্ছে। তারা বিভিন্ন মামলার আসামি। অনেকেই কারাগারে। যারা প্রার্থী হতে চাচ্ছেন তারা প্রায় সবাই একাধিক মামলার আসামি। নির্বাচনে জয়ী না হলে এই নির্যাতন চলতেই থাকবে। নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে, দেশ ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে বিএনপিকে জয়ী হতে হবে। এজন্য জনগণের রায় যাতে কেউ কেড়ে নিতে না পারে সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।
সাক্ষাৎকার শেষে সিলেট-৬ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম বলেন, আমরা সবাই ওয়াদা করেছি যাকেই প্রার্থী দেয়া হোক তার পক্ষে কাজ করবো। শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বলেছেন, দেশের এই দুর্দিনে, দুঃসময়ে ঐক্যের বিকল্প নেই। এই মুহূর্তে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও গণতন্ত্রের মাতা খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সবাইকে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থেকে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। সিলেট-৬ আসনের এই মনোনয়ন প্রার্থী বলেন, দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ আশ্বস্ত করেছেন, বিএনপির পক্ষে মানুষের ঢল দেখে সরকার শঙ্কিত, আতঙ্কিত। এটাই প্রাথমিক বিজয়। আরেকটু ত্যাগ ও সংগ্রামের মাধ্যমে পূর্ণ বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে যেতে পারলে অচিরেই আমরা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারবো।
সিলেট-১ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য ডাঃ শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সমর্থনে তিনি মনোনয়নপত্র কিনে জমা দিয়েছেন। তিনি জানান, দল যদি আমায় মনোনয়ন দেন তবে আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো। সিলেট-১ আসনে আমার ভোটের অভিজ্ঞতা রয়েছে। অতীতে জাতীয় নির্বাচনের পরিচালনা কমিটি ও সিলেটের উন্নায়নে আমি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলাম। সরকার গঠনসহ জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হেভিওয়েট প্রার্থীরাই বড় দলগুলোর হয়ে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিনের ছাত্র রাজনীতি থেকে বিএনপির রাজনৈতিক পথ পরিক্রমায় এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সামর্থ্য অর্জন করেছেন তিনি। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় দলের মনোনয়ন চাওয়া যেমন যৌক্তিক, তেমনি তা প্রাপ্য বলেও মনে করেন।
সিলেট-৩ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আসন্ন নির্বাচন ঘিরে সেই পুরানো দিনের মতো আবার ব্যবসায়িক সুবিধাভোগীরা বিএনপি’র টিকিট আদায়ে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। কোনঠাসা করতে চাইছে বর্ণাঢ্য রাজনীতির অধিকারী রাজপথের নেতাদের। সিলেটের ৬টি আসনের মধ্যে সিলেট-৩ আসনেও এরকম অবস্থা দৃশ্যমান। বিপুল কর্মী সমর্থক ও ধানের শীষে উর্বর এই আসনে ব্যবসায়ি ব্যক্তি মনোনয়ন লাভে দৌঁড়ঝাপ শুরু করে দিয়েছেন। এছাড়া আছেন প্রবাসে বসবাসকারী একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী। তাদের সাথে কর্মী সমর্থকের কোন সর্ম্পক নেই। সরকার বিরোধী মামলা বা হয়রানী তারা স্বপ্ন্ওে কল্পনা করতে পারেননি। কিন্তু সুদিনে ধানের শীষ বগলদাবা করতে তারা মরিয়া।
কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি আশাবাদী। তবে দল যাকে মনোনয়ন দেবে—আমরা তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবো। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া’র মুক্তি আন্দোলনের তীব্রতা আরও ত্বরান্বিত করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার জন্য প্রার্থীদের ওয়াদা করানো হয়েছে জানিয়ে সিলেট-১ আসনের মনোনয়ন প্রার্থী মহানগর বিএনপি নেতা রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, সেদিন বেশি দূরে নয় বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন। দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার ফিরে পাবেন।
সাক্ষাৎকার দিয়ে বের হয়ে আসা সিলেট-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী হতে আগ্রহী সিলেট জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ডাঃ আরিফ আহমেদ মোমতাজ রিফা বলেন- ‘দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একবার ভিডিও কনফারেন্সে এসেছিলেন। তিনি বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সেইসঙ্গে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে বলেছেন। আমরাও নেতাকে কথা দিয়েছি সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো। কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হবো না বলে আমরা অঙ্গীকার করেছি।
সিলেট-৬ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ফয়সল আহমদ চৌধুরী জানান তিনি প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট-৬ আসনের আওতাধীন দুটি উপজেলায় মানুষের সুখে-দুঃখে প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কাজ করে যাচ্ছেন।
বিএনপি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন পেলে তিনি এ দুই উপজেলার সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানের পথ খুঁজতে টিম গঠন এবং সে অনুযায়ী নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করবেন বলে জানিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এদিকে দলীয় সূত্রে জানা যায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয় এবং আশপাশে মনোনয়ন প্রত্যাশী ও আমন্ত্রিতরা ছাড়া অন্য কেউ থাকতে পারবেন না।
তবে সংশ্লিষ্ট জেলা ও মহানগর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ সাক্ষাতের সময় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে থাকতে পারবেন।
সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সিলেট জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন আমাদের প্রতিবেদককে বলেছেন, মূলত মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকা গুলশানে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা, মিছিল মিটিং, শো-ডাউন এড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম। কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেন সাজানো-গোছানো পরিবেশ নষ্ট না হয়।
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের শেষদিনের সাক্ষাৎকার চলছে
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য শেষদিনের মতো মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া শুরু করেছে বিএনপি। বুধবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাক্ষাৎকার গ্রহণ শুরু হয়। এদিন সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর বিভাগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের। প্রথমেই নেওয়া হবে ফরিদপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার। শেষ বেলা চলবে ঢাকা বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D