‘আইন পাশ করা হয়েছে যাতে কেউ বন্ধ করতে না পারে’

প্রকাশিত: ৭:১২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০১৮

‘আইন পাশ করা হয়েছে যাতে কেউ বন্ধ করতে না পারে’

হেফাজতে ইসলামের নেতা আহমদ শফীর সভাপতিত্বে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের সমাবেশ শেষ হয়েছে।

কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতির জন্য এই সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানানো হয়। খবর বিবিসি’র।

এসময় কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড গওহরডাঙ্গার চেয়ারম্যান ও গোপালগঞ্জের গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার মহাপরিচালক মুফতি রুহুল আমীন শেখ হাসিনাকে ‘কওমী জননী’ উপাধী দেন। আয়োজকরা এই সমাবেশকে ‘শোকরানা মাহফিল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সারাদেশ থেকে কওমি মাদ্রাসার হাজার হাজার ছাত্র-শিক্ষক এই সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। এ সংবর্ধনা দিয়েছে কওমি মাদ্রাসাগুলোর একটি সংগঠন আলহাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতুল কাওমিয়া বাংলাদেশ।

আলহাইয়াতুল ওলিয়াতিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অন্যতম সদস্য বেফাকুল মারারিসিল আরবিয়ার সহকারী মহাসচিব মুফতি নুরুল আমীন আল্লামা শফীর লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান। লিখিত বক্তব্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ‘আন্তরিক শুকরিয়া এবং মোবারকবাদ’ জানানো হয়।

‘আমি দ্ব্যার্থহীনভাবে বলতে চাই আমার কোন রাজনৈতিক পরিচয় নেই। রাজনৈতিক কোন প্ল্যাটফর্ম বা দলের সাথে আমার এবং হেফাজতে ইসলামের নীতিগত কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।’

এসময় উপস্থিত যারা ছিলেন তারা সমস্বরের তার এই বক্তব্যের সাথে একমত প্রকাশ করেন।

‘মনে রাখবেন মুসলমানদের ঈমান আকিদা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় হেফাজতে ইসলামের মূল লক্ষ্য। হেফাজতে ইসলামের নীতি ও আদর্শের ওপর আমরা অটল এবং অবিচল আছি।’

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, ‘আমার কর্মকৌশল এবং সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ নেই। আমার বক্তব্য এবং বিবৃতিকে কেন্দ্র করে অপব্যাখ্যা ও মিথ্যাচার করার অবকাশ নেই।’

ওয়ালামাদের নামে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় লিখিত বক্তব্যে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি যাতে না করা হয় সে ব্যাপারে নজর রাখার কথা বলা হয়।

আইন পাশ না করলে বাধ্যবাধকতা থাকতো না: শেখ হাসিনা
এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেন, ‘১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যা করে যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারাই ৭৭ সালে কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি বন্ধ করে দিয়েছিল।’

‘আমি যখনি সরকারে এসেছি তখনি চেষ্টা, এবং আমরা যে শিক্ষানীতিমালা ঘোষণা করেছি, সেই নীতিমালায় আমরা ধর্মীয় শিক্ষাকে স্বীকৃতি দিয়েছি।’

‘যখন বলা হল দাওরায়ে হাদিস মাস্টার্স ডিগ্রীর সম মর্যাদা পায় আমরা কিন্তু সেটা করে দিলাম পার্লামেন্টে আইন পাশ করে। কারণ আইন পাশ না করলে এটার বাধ্যবাধকতা থাকতো না।,’ বলেন শেখ হাসিনা।

তিনি আরো বলেন, ‘আজকে আমরা করে দিলাম আবার অন্য কেও ক্ষমতায় আলসে ঐ ৭৭ সালের মত বন্ধ করে দিতে পারে। সেটা যাতে বন্ধ করতে না পারে সে জন্য আমরা এটা করেছি।’

এসময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, নৌ ও পরিবহন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। আর প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব স্বাগত বক্তব্য রাখেন।