প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হল শারদীয় দুর্গোৎসব

প্রকাশিত: ১২:২২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০১৮

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হল শারদীয় দুর্গোৎসব
সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পাঁচ দিনের শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হলো প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। মর্ত্যলোক ছেড়ে বিদায় নেন মা। অশ্রুসজল চোখে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বিসর্জন দেন প্রতিমা। : গতকাল শুক্রবার সমাপন ঘটে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিন। শারদীয় দুর্গার বিদায়লগ্নের আনন্দ-বেদনা মেশানো অনুভূতি ভক্তদের মনকে সিক্ত করে দেয়। সারাবছরই তা অটুট থাকুক। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা অটুট থাক। : মণ্ডপে মণ্ডপে বিদায়ের সুর। দোলায় চড়ে মর্ত্য ছাড়েন দুর্গতিনাশিনী উমা। ফিরবেন কৈলাশে। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ ও কল্যাণ এবং সকল সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে নিরন্তর শান্তি ও সম্প্রীতির আকাক্সক্ষা নিয়ে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। ঢাকের তালে তালে নৃত্য থেমে যায়। সুর, কথা থেমে যায়। চোখে ঝরে জল। ব্যথাতুর হয়ে উঠে ভক্তরা বিসর্জনের ব্যথায়। সারাদেশে গতকাল ঐতিহ্যবাহী সর্বজনীন দুর্গাপূজার সমাপ্তি ঘটে দেবী দূর্গা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। ঢাকায় এ বিসর্জন বুড়িগঙ্গার ওয়াইজঘাট থেকে। তার আগে দুপুরে হয় সিঁদুর খেলা। রাজধানীতে বিকেল ৩টায় বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য যাত্রা শুরু হয় বলে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি সূত্রে জানা যায়। এর আগে রাজধানীর ২৩৪টি পূজাম-পের অধিকাংশই এসে জমা হয় পলাশীর মোড়ে। সেখান থেকে সম্মিলিত বাদ্যি-বাজনা, মন্ত্রোচ্চারণ ও পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিজয়ার শোভাযাত্রা। এর পর সদরঘাটের ওয়াইজঘাটের বুড়িগঙ্গায় একে একে বিসর্জন দেয়া হয় প্রতিমা। উলুধ্বনি আর অঞ্জলি। সঙ্গে ঢাকের বাদ্য, নাচ, সিঁদুর খেলা। ধান, দুর্বা, মিষ্টি আর আবির দিয়ে দেবীকে বিদায় জানান ভক্তরা। : রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ পূজাম-প, গুলশান বনানী সর্বজনীন পূজা পরিষদ ম-প, রমনা কালীমন্দির ও আনন্দময়ী আশ্রম, বারদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির ও শ্মশান, সিদ্ধেশ্বরী কালিমাতা, ভোলানাথ মন্দির আশ্রম, জগন্নাথ হল, ঋষিপাড়া গৌতম মন্দির, বাসাবো বালুর মাঠ, শাঁখারী বাজারের পানিটোলা মন্দির, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ম-পসহ অন্যান্য ম-পে দুর্গোৎসবে ছিল উপচে পড়া ভিড়। : শারদীয় দুর্গাপূজা কেবল আরাধনার উপলক্ষই নয়, তা আনন্দ-মিলনের সুযোগও। সেই আনন্দ ধর্ম সম্প্রদায়ের গ-ি ছাপিয়ে সমাজের সবাইকে আবাহন করে। কাছে ডেকে নেয়। দুর্গোৎসব তাই দিনে দিনে হয়ে উঠেছে বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম বৃহৎ সামাজিক উৎসব। : বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় এই উৎসব দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা গত সোমবার ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়। ভক্তরা ভয়-দুঃখ, শোক, জ্বালা-যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে প্রার্থনা করেছেন পূজায়। ভক্তদের বিশ্বাসে দুর্গা দেবী সব শক্তির উৎস। ব্রহ্মা, বিষ্ণু শিবের তেজ থেকে মা দুর্গার জন্ম। রাবনকে বধ করতেই মূলত শ্রীরামচন্দ্র শরতে অকালে আহ্বান করে দুর্গা দেবীকে মর্ত্যে নিয়ে আসেন। তাই শরতের এই শারদীয় দুর্গা উৎসবকে অকাল বোধন বলা হয়। ভক্তদের মতে, দেবী এবার এসেছিলেন ঘোটকে। আজ বিদায় নেবেন দোলায় চড়ে। যার ফলে জগতে মড়ক, ব্যাধি, প্রাণহানি বাড়বে বলে আশঙ্কা করা যায়। : এদিকে গতকাল নীলকণ্ঠ, নীল অপরাজিতা ফুল ও যজ্ঞের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয় নবমী বিহিত পূজা। নবমী পূজায় যজ্ঞের মাধ্যমে দেবী দুর্গার কাছে আহুতি দেয়া হয়। ১০৮টি বেল পাতা, আম কাঠ, ঘি দিয়ে এই যজ্ঞ করা হয়। সকালে নবমী বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পূজা শেষে অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় ভোগ আরতি। : বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে এবার ৩১ হাজার ২৭২টি ম-পে দুর্গাপূজা হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় পূজা হয়েছে ২৩৪টি ম-পে। গত বছর সারা দেশে ২৯ হাজার ৭৪টি ম-পে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। রাজধানী ঢাকায় ম-পের সংখ্যা ছিল ২২৫টি। : বিজয়া দশমী উপলক্ষে গতকাল সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বঙ্গভবনে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও রাষ্ট্রপতির স্ত্রী রশিদা খানম।