পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ৭ টাকা !

প্রকাশিত: ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০১৮

পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ৭ টাকা !

হিলি স্থলবন্দরে জটিলতার কারণে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম পাইকারি বাজারে বেড়েছে কেজিতে ৭ টাকা পর্যন্ত। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশি পেঁয়াজের দামও বেড়ে যাবে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। পেঁয়াজের পাশাপাশি দাম বেড়েছে সব ধরনের পোলাও চালের। ঈদের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছর বাজারে মসলার দাম লাগামহীনভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। দেশি রসুনের দাম এখন পর্যন্ত বাড়েনি। সয়াবিন ও আদার দাম রয়েছে আগের মতোই। গতকাল শুক্রবার (১০ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শ্যামবাজার, যাত্রাবাড়ী ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা যায়। : শ্যামবাজার পাইকারি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকা পাল্লা (৫ কেজি) অর্থাৎ কেজি ৫২ টাকা। চায়না আদা বিক্রি হচ্ছে ১৬০০ টাকা বস্তা (২০ কেজি) অর্থাৎ কেজি ৮০ টাকা। ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ টাকা পাল্লা (৫ কেজি) অর্থাৎ ৩৫ টাকা কেজি। ইন্দোনেশিয়ার আদা বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ টাকা বস্তা (২০ কেজি) অর্থাৎ কেজি ৬৫ টাকা। চায়না ও মিশরীয় রসুন বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা কেজি সেখানে দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা কেজি। শ্যামবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক খালিদ ইবনে সুফিয়ান বলেন, হিলি স্থলবন্দরে জটিলতার কারণে গত চারদিন ধরে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি না হওয়ায় দাম বেড়ে ২৮ টাকা কেজি থেকে ৩৫ টাকা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে আমদানি হওয়ার কথা রয়েছে। না হলে আরও এক দফা দাম বাড়তে পারে। এ অবস্থায় দেশি পেঁয়াজেও দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যান্য পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় দাম আগের মতোই রয়েছে বলে জানান তিনি। : শ্যামবাজারের পাশেই সূত্রাপুর খুচরা বাজার। সেখানে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬০ টাকা কেজি। ভারতীয় পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪২ টাকা কেজি। চায়না আদা বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা কেজি, ইন্দোনেশিয়ার আদা বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা কেজি। দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকা আর চায়না ও মিশরীয় রসুন বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা কেজি। যাত্রাবাড়ী পাইকারি কাঁচা ও মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রচুর পরিমাণে দেশি মাছের সরবরাহ বেড়েছে। দাম আগের চেয়ে কিছুটা বেশি। গত সপ্তাহে টেংরা মাছ (জীবিত) ৬০০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও গতকাল তা বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকায়। বোয়াল মাছ (বড়) বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে। কোরাল ৪০০ টাকা, শোল ৩০০ টাকা, বাইম ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, তারা বাইম ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পুঁটি, মলা ও কাচকি মাছ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকায়। : মাছ বাজারের সভাপতি দেওয়ান ফরিদ বলেন, ঈদে মাছের দাম বৃদ্ধি পাবে। আর সরবরাহ বেশি থাকলে দাম স্থিতিশীল থাকার কথা বলেন তিনি। যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারের সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল হক বলেন, কাঁচাবাজারে তেমন দাম বাড়েনি। কাঁচামরিচের দাম কমে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ছিল ১২০ টাকা কেজি। শসার দাম কমে ৮০ টাকা পাল্লা (৫ কেজি) হয়েছে। তিন দিন আগেও যা ছিল ১২০ টাকা পাল্লা। কারওয়ান বাজার মসলার দোকানে গিয়ে দেখা যায়, মসলার দাম বেড়েছে। বেড়েছে পোলাওর চালো দাম। তবে সয়াবিন, ডাল, চিনি বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই। কারওয়ান বাজার সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা বলেন, এলাচ বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ টাকা কেজি, দারুচিনি ৩৮০ টাকা, জিরা ৪০০ টাকা, লবঙ্গ ১৪০০ টাকা, গোলমরিচ ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। : কাঁঠালবাগান থেকে ফরিদ আহমেদ এসেছেন কারওয়ান বাজারে মসলা কিনতে। তিনি বলেন, বাড়িতে একটি গরু কোরবানি করতে হয়। তাই, মসলা কিনতে হয় অনেক। দুই মাস আগে যে দামে কিনেছেন এখন কিছুটা বাড়তি দামেই কিনতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। কারওয়ান বাজার কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন কুসুম বলেন, ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে। এছাড়া সব ধরনের কাঁচামালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে বাজার করতে আসা সকলেই মসলা কিনছেন। মসলার দাম না বাড়ায় সবাই খুশি। রাজধানীর শান্তিনগর, সেগুন বাগিচা, নাজিরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংস ৪৮০ টাকা, খাসি সাড়ে ৭০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৫০ টাকা, কর্ক ২৫০ টাকা, দেশি মুরগি ৪৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। পোলাও চাল গত সপ্তাহে ৭৬ থেকে ৭৮ টাকা বিক্রি হলেও ৭ দিনের ব্যবধানে তা বেড়ে ৮৬ থেকে ৯০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।