৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০১৮
ঢাবি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনে আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি এবং ছাত্রলীগের হামলার বিচারের দাবিতে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
রবিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন শেষে মিছিল বের করে আন্দোলকারীরা। এছাড়া কয়েকজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও আহত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আহত শিক্ষকদের মধ্যে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ফাহমিদুল হক ও আন্তর্জাতিক বিভাগের সহোযোগী অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু টাওয়ারের কাছে এলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দুই অংশে ভাগ হয়ে সামনে ও পেছন থেকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এসময় তারা শিক্ষার্থীদের মারধর করে। ব্যানার ফেস্টুন কেড়ে নেয়। ছাত্রীদের গায়েও হাত তোলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঢাবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় ছিল বেলা ১১টায়। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কাজী মোতাহার হোসেন ভবনের সামনে মানববন্ধন করে। একই সময় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমান্ডের ঢাবি শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা মানববন্ধন করে।
বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করতে এলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু, আইনবিষয়ক সম্পাদক আল নাহিয়ান খান জয়, ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক সম্পাদক ইয়াজ আল রিয়াদ, স্কুল কার্যক্রমবিষয়ক সম্পাদক জয়নুল আবেদিন, ঢাবি শাখার বঙ্গবন্ধু হলের সভাপতি রকিবুল ইসলাম বাঁধন, সাধারণ সম্পাদক আল আমীন রহমান, হাজি মুহম্মদ মুহসীন হলের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানী, কবি জসিম উদ্দিন হলের সভাপতি আরিফ হোসেন সেখানে ছিলেন।

এরপর শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারের পাদদেশে মানববন্ধন শুরু করলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের বিপরীত মুখে অবস্থান নেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মাইক মুখোমুখি অবস্থান নেয়। মানববন্ধনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ভাষায় কটূক্তি করতে থাকেন। তখন শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যের উত্তরে ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলতে শোনা যায়। এ সময় শহীদ মিনারে অস্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করে। প্রায় এক ঘণ্টা মানববন্ধনের পর সোয়া ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে জাতীয় সংগীত পরিবেশ করে।
এর কিছুক্ষণ পর শিক্ষার্থীরা দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একটি মিছিল নিয়ে রাজু ভাস্কর্যের উদ্দেশে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আসে। মিছিলটি রাসেল টাওয়ারের সামনে পৌঁছালে ছাত্রলীগ ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সন্তানরা তাদের সামনে ও পেছন দিক থেকে আক্রমণ করে। এতে শিক্ষার্থীদের ২০ জনের মতো আহত হয়। এ সময় শিক্ষকদেরও ধাক্কা দেয় ছাত্রলীগের নেতারা। এতে কয়েকজন শিক্ষককে মাটিতে পড়ে যেতে দেখা যায়। পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আবার শহীদ মিনারে গিয়ে অবস্থান নেয়।
এর আগে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমাবেশে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ফাহমিদুল হক, অধ্যাপক ড. আব্দুর রাজ্জাক, কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ রাশেদ খাঁনের মা সালেহা বেগম, আন্তর্জাতিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান, সমাজকর্মী রাখাল রাহা।
অধ্যাপক ড. ফাহমিদুল হক বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। তারা মু্ক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে শিক্ষার্থীদের হাতুড়িপেটা করছে। এ অবস্থায় আমাদের ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে ঐক্যের প্রয়োজন। এ সময় তিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতাদের মুক্তির দাবি করেন।
ফাহমিদুল হক আরো বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, নিপীড়ন, মামলা হয়েছে। কোনো জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার চাইতে গণতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলন করতেই পারে। তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে যদি হামলা হয় তখন আমরা শিক্ষক হিসেবে এর প্রতিবাদ করতেই পারি।’
এ মানববন্ধনে উপস্থিত হন কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ রাশেদ খানের মা সালেহা বেগম।
তিনি ক্রন্দনরত অবস্থায় বলেন, ‘আমার মানিক (রাশেদ) সাধারণ ছাত্র। সে সরকারের বিরুদ্ধে কোনো সময় জড়িত ছিল না। রাজনৈতিক কোনো দল বা দেশের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্রে জড়িত নয়। আমার মানিক এমনকি আমরা কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত না। আমার মানিক শুধু চাকরির জন্য দাবি করেছিল, কোটা কমানোর জন্য আন্দোলন করছিল। ও তো কোনো অপরাধ করেনি। তারপরও ওকে এমনভাবে হয়রানি করা হচ্ছে কেন?’
তিনি বলেন, ‘আমার আর চাকরি দরকার নেই। আমার মানিককে প্রধানমন্ত্রী ক্ষমা করে দিলে আমি ওকে বাড়ি নিয়ে যাব। ওকে আর কোনোদিন আন্দোলন করতে দেব না।’
তিনি বলেন, ‘আমি পরের বাড়িতে কাজ করে আমার মানিককে লেখাপড়া শিখাইছি। ওর আব্বা লোকের জমিতে কামলা দিয়ে বহু কষ্টে সংসার চালিয়েছে। ওর আব্বার পেটে পাথর জমেছে।’
রাশেদের মা সালেহা বেগমের বক্তব্যের সময় বিপরীত মুখে অবস্থান নেওয়া ছাত্রলীগের জহুরুল হক হল শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বুলবুল নানা কটূক্তি করেন।
মানববন্ধনে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আজ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানে ছাত্রলীগ বাধা দিচ্ছে। অথচ প্রশাসন বলছে তারা কিছুই জানে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নিশ্চুপ ভূমিকার নিন্দা জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহোযোগী অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান বলেন, ‘মস্তিষ্কহীন প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ আমাদের পরিচালনা করেছে। যার ফলে বারবার এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে।’
তিনি আরো বলেন, সবচেয়ে ভালো ছাত্ররাই ঢাবির শিক্ষক হন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের বিপদে সকলে এগিয়ে আসতে পারেন না। যারা ক্ষমতাসীন দলের শিক্ষক সব সময় শিক্ষার্থীবিরোধী হয়। শিক্ষার্থীদের পক্ষে দাঁড়ানো সকল শিক্ষকের নৈতিক দায়িত্ব। কারণ শিক্ষার্থী ছাড়া শিক্ষক হয় না।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D