৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:০৬ পূর্বাহ্ণ, মে ২৩, ২০১৮
বাংলাদেশি অধ্যাপকের বিস্ময়কর আবিষ্কারে দুইটি নতুন প্রাণের অস্তিত্বের সন্ধান পেল পৃথিবী।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ বেলাল হোসেন নতুন দুটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী আবিষ্কার করেছেন। এগুলোর নাম হলো নিউমেনিয়া নোবিপ্রবিয়া (Neumania nobiprobia) ও অ্যারেনুরাস স্মিটি (Arrenurus smiti)। এর মধ্যে ‘নিউমেনিয়া নোবিপ্রবিয়া’ নামটি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) নাম থেকে নেওয়া হয়েছে। আর ‘অ্যারেনুরাস স্মিটি’ নামক অমেরুদণ্ডী প্রাণীটির নামকরণ করা হয়েছে নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত অ্যাকারোলজিস্ট হ্যারি স্মিথের নামে।
নতুন এ দুটি প্রাণীর সহ-আবিষ্কারক বেলাল হোসেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য ও সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। গত বছরের এপ্রিল থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত বেলাল হোসেন নোয়াখালীর বিভিন্ন পুকুর, খাল ও নদী থেকে মাইটসের নমুনা সংগ্রহ করেন। এতে সঙ্গী হন তাঁর ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য ও সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের মো. সাইফুল ইসলাম। উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী থেকে সংগৃহীত নমুনা প্রথমে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য ও সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের গবেষণাগারে শনাক্ত করা হয়। পরে ফলাফলের জন্য মধ্য ইউরোপের দেশ মন্টেনিগ্রোতে গবেষক ভ্লাদিমির পেসিকের কাছে পাঠানো হয়। ভ্লাদিমির নমুনাগুলো চূড়ান্তভাবে শনাক্ত করেন ও সিদ্ধান্ত নেন।
প্রাণিজগতে সম্পূর্ণ নতুন এ দুই প্রজাতির আবিষ্কারের পেছনে বাংলাদেশি বিজ্ঞানী বেলালের সঙ্গে সহগবেষক ছিলেন ভ্লাদিমির পেসিক, ভারতের তাপস চ্যাটার্জি, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. সাইফুল ইসলাম এবং পোল্যান্ডের আন্দ্রেজেঝ জাওয়াল। চার দেশের পাঁচজন গবেষকের সমন্বিত গবেষণায় সম্পূর্ণ নতুন দুটি প্রজাতি আবিষ্কৃত হয়।
প্রজাতি দুটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের জন্য গবেষণার ফলাফল লন্ডন ও নিউজিল্যান্ড থেকে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী সিস্টেমেটিকস অ্যান্ড অ্যাপ্লাইড অ্যাকারোলজিতে পাঠায় গবেষক দল। ১৫ মে ‘First records of water mites from Bangladesh (Acari, Hydrachnidia) with description of two new species by Vladimir Pesic, Mohammad Belal Hossain, Tapas Chatterjee, Md. Saiful Islam and Andrezej Zawal’ শিরোনামে সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি লাভ করে।
আবিষ্কার সম্পর্কে বেলাল হোসেন বলেন, প্রাণিজগতের প্রতিটি প্রাণীই ইকো সিস্টেমে তথা খাদ্যচক্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। এদের একটির অনুপস্থিতিতে খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ে। ফলে ইকো সিস্টেম তার স্বাভাবিক কার্যক্রম করতে পারে না। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের জলরাশি অত্যন্ত জীববৈচিত্র্যপূর্ণ। গবেষণার অপ্রতুলতা, মানবসৃষ্ট দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবিষ্কারের আগেই অনেক প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ থেকে উত্তরণ করা সম্ভব।’
এর আগে ২০১৬ সালে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে নেফটাইস বাংলাদেশি (Nephtys bangladeshi) নামে অমেরুদণ্ডী পলি কীটের নতুন একটি প্রজাতি এবং দেশের বাইরে ব্রুনাইয়ের সমুদ্র এলাকা থেকে ভিক্টোরিয়োপিসা ব্রুনেইয়েনসিস (Victoriopisa bruneiensis) নামে অমেরুদণ্ডী পলি কীটের নতুন দুটি প্রজাতি আবিষ্কার করেছিলেন এই শিক্ষক।
বেলাল হোসেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজ বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে যুক্তরাজ্যের হাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স এবং ব্রুনাই দারুসসালাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। সম্প্রতি তিনি অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়াম রিসার্চ ইনস্টিটিউট থেকে পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D