৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৫:৪৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৯, ২০১৮
কোটা সংস্কারের দাবিতে থাকা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তাড়া খেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা থেকে সরে দোয়েল চত্বরের দিকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে পুলিশ।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমাবেশ লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে পুলিশ। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যরা পিছু হটেন। ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে সব সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দ্বিতীয় দিনের মতো জড়ো হতে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা দুপুর পৌনে ২টার দিকে টিএসসির সামনে থেকে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। পুলিশের টিয়ার শেলের জবাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল মারতে শুরু করে। এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীদের তাড়া খেয়ে দোয়েল চত্বরের দিকে সরে যায় পুুলিশ।
এরইমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের বাসভবনে ভাঙচুর চালানো হয়। আগুনও দেয়া হয়।
সোমবার ভোর নাগাদ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ফিরতে দেখা যায়। এরপরই পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর দুপুরের দিকে ফের জড়ো হন তারা।
আন্দোলনকারীদের দাবি চাকরির ক্ষেত্রে কোটা বিলুপ্ত নয়, যৌক্তিক সংস্কার দরকার।
এই দাবিতেই গতকাল পূর্ব ঘোষিত পদযাত্রা কর্মসূচি শুরু হয়। তবে সন্ধ্যা নামার কিছুক্ষণ পরই আন্দোলনকারীদের উপর চড়াও হয় পুলিশ। অবশ্য তার আগে দুপুর থেকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে ওই সড়ক ব্যবহারকারীদের।
প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন এরা কারা?
৫ দফা দাবিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলা সহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের ভেতরে তিনটি প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কোটা সংস্কারের এই আন্দোলনকে ষড়যন্ত্র হিসাবে দেখছেন। তিনি গত রোববার রাতে দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় দলের অপর নেতাদের কাছে জানতে চেয়েছেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামা এরা কারা? এদের পারিবারিক পরিচয় কী? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বহনকারী পরিবারের কোনও সন্তান এই আন্দোলনে জড়াতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী এদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিতে নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টদের।
এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে সকালে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার গভীর রাতে উপাচার্যের বাসভবনে হামলার ঘটনার পর ফোন করে তার খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার সকালে উপাচার্য এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসীরাই এধরনের হামলা চালিয়েছে, সাধারণ শিক্ষার্থী বা আন্দোলনকারীরা এ হামলা চালায়নি।
সরকারের সন্দেহগুলোর মধ্যে রয়েছে, প্রথমত বিএনপি-জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির সাধারণ ছাত্রের বেশ ধরে এই আন্দোলনে মিলিত হয়ে উস্কানি দিচ্ছে আন্দোলনে যাতে বেকায়দায় ফেলা যায় সরকারকে। দ্বিতীয়ত গত কয়েক বছরে ছাত্রলীগে যাদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে তারাও এই আন্দোলনে জড়িয়েছে সরকারের বিরুদ্ধে। তৃতীয়ত ছাত্রলীগের আসন্ন সম্মেলন বানচাল করতে চায় এমন একটি অংশও চক্রান্তে নেমেছে। এরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রলীগের মুষ্টিমেয় একটি অংশ বলে মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের দাবি, এ ধরনের অস্থিরতা থাকলে ছাত্রলীগের একটি অংশ মনে করছে সম্মেলন ঠেকানো সম্ভব হবে। ফলে তারাও কিছু শিক্ষার্থীকে মাঠে নামিয়েছে বলে মনে করে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সোমবার সকালে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বসতে চাইলেও সে বৈঠক আর হয়নি।
তবে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ব্যাপারে অনমনীয় অবস্থানে রয়েছে সরকার। ঢাকা ছাড়াও রাজশাহী, সিলেট, রংপুর, দিনাজপুর, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা এ আন্দোলনের পক্ষে বিক্ষোভ প্রতিবাদ করছে। আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে তাদের এ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা আন্দোলনকারীদের এ পথ থেকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D