২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬:৫৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৮
‘আড়াই কোটি টাকার দুর্নীতি কি হুলস্থুল ঘটিয়ে দিলো, অথচ লক্ষ কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চলে গেল, কি হয়েছে? একটা মামলা নিয়ে এমন ঘটনা আমার জীবনেও দেখিনি, আমার জীবন একেবারে ছোট নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।
শুকবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভি আইপি লাউঞ্জে নাগরিক ছাত্রঐক্যে আয়োজিত ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় বক্তব্য দেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, নাগরিক ছাত্র ঐক্যের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান, ছাত্রনেতা মোস্তাফা কামাল, ছাত্রনেতা রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
বর্তমান সরকারের সময়ে টাকা পাচার হচ্ছে উল্লেখ করে মান্না বলেন, ‘এক বছরে ৭০ হাজার কোটি টাকা যদি পাচার হয়, সবমিলিয়ে ছয় লাখ কোটি টাকার উপর পাচার করা হয়েছে। সেই জন্যই অর্থমন্ত্রীর কাছে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা কোনো কিছুই মনে হয় না।’
তিনি আরো বলেন, অনেক বড় বড় মামলার ঘটনাও দেখেছি। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার কাগজপত্র ছাত্ররা ছিনতাই করে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে ফেলেছিল। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা আপনারা জানেন। কিন্তু ৮ ফেব্রুয়ারি অবিস্মরণীয় একটি ঘটনা ঘটলো। একটি অঘোষিত সেমি কারফিউ টাইপের। এমনিতেই কয়েকদিন ধরে সরকারি দলের বিভিন্ন কথা-বার্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কথা-বার্তা মানুষের মধ্যে শঙ্কা সৃষ্টি করেছিল।
তিনি বলেন, আমাকে কেউ কেউ বলেছেন, পাকিস্তান আমলে ঢাকা যেমন ছিল, গতকাল ঢাকা তেমন ছিল।
জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বারকাতের সমলোচনা করে তিনি বলেন, ‘তিনি বলেছিলেন- যদি সঠিকভাবে খোঁজ নেয়া যায়, দেখা যাবে অর্ধেক ব্যংক দেউলিয়া। কিন্তু আজকে দেখা যাচ্ছে বারকাত নিজেই দেউলিয়া। কথায় আছে, চোরের মায়ের বড় গলা।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের যিনি গর্ভনর তিনি বাহির থেকে ফিরে এসে পদত্যাগ করলেন। আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলো উনি (গর্ভনর) একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। উনি এটা পারেননি ঠেকাতে, তাই পদত্যাগ করেছেন।
প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে কারা জড়িত সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলে মান্না বলেন, দুর্নীতিবাজাদের যখন শেয়ার কেলেঙ্কারী হয়েছিল, তখন অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন আমাদের হাত অতো শক্তিশালী নয়, ওদের ধরতে পারবো। অর্থমন্ত্রীর হাতের পরেও যদি শক্তিশালী থাকেন তারা কারা। ওরাই কি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মধ্যেও আছে। ব্যাংক সেক্টর শেষ হয়ে গেছে। অথচ দেশে উন্নয়নের বন্যা বয়ে যাচ্ছে।
এ সময় মান্না বলেন, বিএনপিতে গণতন্ত্রের চর্চা নেই বলেই উত্তারাধিকার হিসেবে খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি-আওয়ামী লীগ কেউ কখনো ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে চায় না। কারণ নির্বাচন দিলে তাদের সন্তানকে দলের উত্তারাধিকারী মনোনয়ন দিতে পারতো না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলো তালুকের মতো হয়ে গেছে উল্লেখ করে মান্না বলেন, ‘যে যখন ক্ষমতায় থাকে, তখন সে সেটার দখলে নেয়। অন্যান্য দলের কিছু করার থাকে না। এখানে শিক্ষার্থীরা কিসের গণতন্ত্র শিখবে?’
তিনি বলেন, দুঃখের বিষয় হচ্ছে- আজকে এর বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করছে না। আগের দিনে দেশে কোনো সমস্যার সৃষ্টি হলেও ছাত্ররা আন্দোলন করতো। তবে আজকে সেই পরিবেশ নেই। সরকারি দল দ্বারা আজকে সবকিছু নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। ছাত্ররাজনীতি আজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে, কারণ হচ্ছে ছাত্র সংসদ নির্বাচন কোথাও হচ্ছে না।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D