২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৮
বাংলাদেশে বিরোধীদল বিএনপি অভিযোগ করেছে, তাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের দিন ৮ ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যাপক ধরপাকড় করা হচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, গত তিন দিনে এপর্যন্ত তাদের দু’শরও বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খবর-বিবিসি
সরকার বলছে, পুলিশের গাড়িতে হামলা করে আসামী ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় সুনির্দিষ্ট নাশকতার মামলায় শুধু অভিযুক্তদেরকেই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে গত ১২ ঘণ্টাতেই বিএনপির ২০ জনের বেশি নেতা-কর্মিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দলটি অভিযোগ করেছে। পুলিশ কাছ থেকে এই গ্রেপ্তারের সঠিক সংখ্যা জানা সম্ভব হয়নি।
তবে মঙ্গলবার গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারি হেলালসহ ৬৯ জনকে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করে তাদের প্রত্যেককে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ ৫৫ জনকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল গত মঙ্গলবার। গ্রেপ্তার আতংকে ঢাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির এবং মধ্যম সারির অনেক নেতা রাতে বাসায় থাকছেন না।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, পুলিশ তাদের অনেক সিনিয়র নেতাদের বাসায়ও হানা দিচ্ছে।
‘পুলিশ তিনদিন ধরে ক্রমাগত নির্বিচারে গ্রেপ্তার করছে। শুধু গ্রেপ্তারই নয় বিএনপির জাতীয় পর্যায়ের বর্ষীয়ান নেতৃবৃন্দের বাড়িতেও হানা দিচ্ছে । সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, তরিকুল ইসলাম,আব্দুল্লাহ আল নোমান, এ ধরণের অনেকের বাসায় পুলিশ হানা দিয়েছে।’
তিনি বলেছেন, ‘বিএনপি নেত্রীকে আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে। এই হাজিরাকে কেন্দ্র করে নেত্রীকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। এটাকেও তারা সহ্য করতে পারছে না।’
পুলিশ নাশকতার সুনির্দিষ্ট মামলায় অভিযুক্তদেরকেই গ্রেপ্তার করার কথা বলছে। কিন্তু গত সোমবার বিএনপির মিছিল থেকে পুলিশের গাড়িতে হামলা করে আসামী ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে যে তিনটি মামলা পুলিশ করেছে, তাতে কয়েকশ অজ্ঞাতনামাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বিএনপি বলছে বিপুল সংখ্যায় অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত করার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ধরপাকড় করে তাদের নেতা কর্মীদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করা হচ্ছে।
বিএনপির একজন নেত্রী রুমিন ফারহানা বলেন, তাদের নারী শাখারও বেশ কয়েকজন নেত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার শেষ পর্যায়ের শুনানিতে এসে খালেদা জিয়ার আদালতে যাওয়া আসার সময় বিএনপি রাজপথে তাদের নেতা কর্মীদের জমায়েত বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। রায়ের দিনেও তাদের এমন জমায়েত করার চিন্তা রয়েছে। সে কারণে সরকার আগে থেকেই গ্রেপ্তার করছে বলে বিএনপি নেতাদের অনেকে বলছেন।
তবে সরকার এই অভিযোগ মানতে নারাজ।
আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা এবং মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘মারমুখী যে আচরণ বিএনপি কর্মীরা করেছে পুলিশের প্রতি, এটা হতে পারে না। সরকার মারমুখী হয়নি। মারমুখী হয়েছে বিএনপি। এখানেতো ধরপাকড়ের কিছু নেই। সুনির্দিষ্টভাবে যারা পুলিশকে আক্রমণ করেছে, যারা পুলিশের কাছ থেকে আসামী ছিনিয়ে নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে, এবং সেটা তদন্ত করে অপরাধীদের ব্যাপারেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
‘একটা দেশে যখন আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হয়, তখন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কি যথাযথ দায়িত্ব পালন করবে না?’
এদিকে, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া তার বাসভবন গুলশান থেকে মহাখালী, ফার্মগেট হয়ে হাইকোর্টের সামনে দিয়ে যে রুট ব্যবহার করে আদালতে যাওয়া আসা করতেন, পুলিশের পক্ষ থেকে সেই রুট পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছে বলে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D