২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:৫৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩১, ২০১৮
রাজধানীতে মিছিল থেকে পুলিশের প্রিজন ভ্যানের তালা ভেঙে বিএনপির দুই কর্মী ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারাদেশে চলছে পুলিশের ধর-পাকড় অভিযান। এ ঘটনার জের ধরেই মঙ্গলবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে আটক করে পুলিশ।
এরপর বুধবার রাতে রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে বিএনপি নেতা আজিজুল বারী হেলালসহ ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়াও সারাদেশে শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ঢাকার মগবাজারের বাসা থেকে পুলিশ হেলালসহ ছয়জনকে তুলে নিয়ে যায় বলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন।
ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হেলাল বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক। তাকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গয়েশ্বর ও অনিন্দ্যকে গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশ স্বীকার করেছিল।
এদিকে বুধবার গয়েশ্বরসহ প্রায় ৭০ জনকে আদালতে হাজির করা হয়। এদের মধ্যে গয়েশ্বকে কারাগারে ও ৫৫ জন নেতা-কর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন অাদালত। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম মাহমুদুল হাসান এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গয়েশ্বরের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন বলেই গয়েশ্বর চন্দ্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আনিসুর রহমান ও সাবেক মন্ত্রী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের ছেলে অনিন্দ্য ইসলামকে ৩ দিন করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
শাহবাগ ও রমনা থানায় দায়ের হওয়া পৃথক চার মামলার অন্য আসামিদের পক্ষে বিএনপির আইন সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়াসহ বিএনপিপন্থী চারজন আইনজীবী আদালতকে বলেন, পুলিশের ওপর বিএনপির নেতা-কর্মীরা হামলা চালাননি। বরং পুলিশ নিজের লোক দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। যাদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে, তাদের কারও বিরুদ্ধেই সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আনতে পারেনি পুলিশ।
বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালতের কাছে দাবি করেন, আসামিদের মধ্যে কয়েকজন আছেন, যারা বৃদ্ধ। গতকালের হামলার ঘটনার সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন থানা ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করছে। তারই অংশ হিসেবে দু–তিন দিন আগে এসব আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গতকাল এ ঘটনা ঘটিয়ে তাদের এই মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
অপর দিকে রাষ্ট্রপক্ষে সরকারি কৌঁসুলি সাজ্জাদুল হক আদালতে বলেন, আসামিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পুলিশকে হত্যার উদ্দেশ্যেই ইটপাটকেল ছুড়ে আক্রমণ করেছে। নাশকতা চালিয়েছে। কেন পুলিশের ওপর এই আক্রমণ এবং কোন নেতারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে—তা খুঁজে বের করার জন্য এই আসামিদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন। আদালত সূত্র জানিয়েছে, পুলিশের ওপর আক্রমণের ঘটনায় শাহবাগ থানায় পৃথক দুই মামলায় ১৮ জনকে দুই দিন করে এবং রমনা থানায় দায়ের হওয়া মামলায় ৩৫ জনকে দুই দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন আদালত। সাবেক মন্ত্রী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের ছেলে অনিন্দ্য ইসলামকে ৩ দিন এবং কেন্দ্রীয় নেতা আনিসুর রহমানকে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
বিএনপিপন্থী আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ইকবাল হোসেন ও মোসলেম উদ্দিন জসিম বারবারই আদালতকে বলেন, এ মামলার আসামি পেয়ারা মোস্তফার বয়স ৬০। তার হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হয়েছে। তিনি ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না। অন্তত তার রিমান্ড আবেদন নাকচ করে জামিন দেওয়া হোক। শুনানি শেষে আদালত পেয়ারা মোস্তফারও ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D