‘জঙ্গি ও রাজাকার মুক্ত সমাজ গঠনে সক্রিয় হতে হবে’

প্রকাশিত: ৮:৫০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০১৮

‘জঙ্গি ও রাজাকার মুক্ত সমাজ গঠনে সক্রিয় হতে হবে’

তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু দেশকে জঙ্গি ও রাজাকার এবং বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনের সংগ্রামে সক্রিয় হতে শ্রমিক-মজুরদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

তিনি শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয় শ্রমিক জোটের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ আহবান জানান। খবর-বাসস

‘স্বাধীন বাংলাদেশে গরিব কেনো, রাজাকার কেনো’-এ প্রশ্ন উত্থাপন করে ইনু বলেন, ‘শ্রমিকের কাজ, ন্যায্য মজুরি ও মর্যাদা নিশ্চিত করাসহ দেশকে জঙ্গি-সন্ত্রাসী-রাজাকার-তেঁতুলহুজুর থেকে মুক্ত করতেই হবে।’

তিনি বলেন, এই সংগ্রামে তার দলের সাথে দেশের শ্রমিক-মজুরেরা অংশ নেবে । তবে তিনি শিল্পমালিকদের সাথে শ্রমিকদের সম্পর্ক অটুটরাখার ব্যাপারেও গুরুত্ব দেন।

জাসদ সভাপতি বলেন, ‘সংবিধানের চার মূলনীতি -জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতাকে মূলমন্ত্র হিসেবে মেনে বৈষম্যবিনাশী সমাজতন্ত্রের লাল পতাকা হাতে এ সংগ্রাম চলবে। আর এ যুদ্ধে জিততে হলে এবং উন্নয়নের সুফল জনগণের দোর গোড়ায় পৌঁছাতে হলে জঙ্গি-রাজাকার ও তাদের দোসরদের রাজনীতি ও ক্ষমতার বাইরেই রাখতে হবে।’

যুক্তিবাদী মানুষই সমাজতন্ত্রের ধারক হতে পারে উল্লেখ করে মুক্তিযোদ্ধা হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘সমাজতন্ত্র ছাড়া গণতন্ত্র একটি পোড়া রুটির মতো, যা পুরোটা খাওয়া যায় না’।

শ্রমিক জোট সভাপতি শিরীন আখতার এমপি’র সভাপতিত্বে এবং জোটের সাধারণ সম্পাদক নাঈমুল আহসান জুয়েলের পরিচালনায় শ্রমিক-কর্মচারি ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দের মধ্যে সুলতান উদ্দিন আহম্মেদ, জাহিদুল হক মিলু, মো. মোকাদ্দেম হোসেন ও মেজবাহ উদ্দিন এ সম্মেলনে বক্তৃতা করেন।

এর আগে গত ১ জানুয়ারী তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, সেক্যুলারিজম আর সাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র আর সামরিক শাসন বা বাংলাদেশ ও পাকিস্তনের মধ্যে দোল খাওয়া বা মাঝখান দিয়ে হাঁটার দ্বৈততা বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র, সামরিকতন্ত্র আর ধর্মতন্ত্রের একটু করে নিয়ে খিচুড়িতন্ত্রের পথ পরিহার করতে হবে।

রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের বেগম সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ছায়ানীড় সাংস্কৃতিক দলের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ আহ্বান জানান। খবর বাসসের।

মন্ত্রী বলেন, যে টেকসই উন্নয়নের কাজ শেখ হাসিনা করছেন, তা অব্যাহত রাখতে হলে তাকে আবার নির্বাচিত করতে হবে। সকল দ্বৈততা থেকে মুক্ত হয়ে দেশকে তার নিজস্ব পথে এগিয়ে নিতে হবে’ উল্লেথ করে ইনু বলেন, শেখ হাসিনার সরকার নির্বাচিত হলেই টেকসই গণতন্ত্র আর টেকসই রাজনীতির ধারা অব্যাহত থাকবে।

মুক্তিযোদ্ধা ইনু বলেন, দুষ্টুচক্রের পৃষ্ঠপোষক খালেদা জিয়া-বিএনপিকে নয়, তেঁতুলহুজুর-রাজাকার-জংগিসন্ত্রাসী-সাম্প্রদায়িক চতুষ্টয় চক্রের হাত থেকে শিল্প-সাহিত্যকে রক্ষা করতে শেখ হাসিনার সরকারকেই আবার নির্বাচিত করতে হবে।

শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মীরা দেশের আত্মার মতো, উল্লেখ করে জাসদ সভাপতি বলেন, তারাই দেশকে কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা, লিংগ বৈষম্য থেকে মুক্ত করার অগ্রপথিক।

অর্থনীতিবিদ ড. এম এ ইউসুফ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বক্তৃতা করেন। তিনি জাতিগঠনে শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মীদের ভূমিকাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করেন।

সভায় জাতীয় পার্টির অতিরিক্ত মহাসচিব সাদেক সিদ্দিকী, ছায়ানীড়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার. জেনারেল. (অব) আব্দুস সবুর মিয়া ও বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অভ পিসের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী বিলকিস খানম পাপড়ি সম্পাদিত ‘স্বাধীনতা পুরস্কাপ্রাপ্ত বরেণ্য বাংগালি ও প্রতিষ্ঠান’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন। এ সময় ২২ জন লেখককে সম্বর্ধনা দেয়া হয়।