৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:০১ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০১৭
কানাইঘাট থেকে আলিম উদ্দিন : কানাইঘাট উপজেলার ৬নং সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুন রশিদের বিরুদ্ধে ইউপির ৯জন সদস্যের আনিত অনাস্থা প্রস্তাবের অভিযোগটি কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুন্সী তোফায়েল হোসেন কতৃক তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ইং কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মামুন রশিদের বিরুদ্ধে তার পরিষদের ৯ জন সদস্য কতৃক আনীত অনাস্থা প্রস্তাবের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুন্সী তোফায়েল হোসেন সরেজমিন তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। উক্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে ইউপি চেয়ারম্যান পরিষদে অনুপস্থিত থাকার কারণে পরিষদের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এব্যাপারে পক্ষে-বিপক্ষে সাধারণ জনগন পরিষদের সদস্য, পরিষদের কর্মচারী বৃন্দ ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের স্বাক্ষাতকার নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে পক্ষে বিপক্ষে মতামত রয়েছে। তাই তিনি বিষয়টি সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে নিশ্চিত হতে পারেননী। অনাস্থা প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে তিনি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সক্রিয় নেতা হওয়ায় রাজনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য প্রায়ই ইউনিয়ন পরিষদে অনুপস্থিত থাকেন। এবিষয়টি নিয়েও পক্ষে-বিপক্ষে মতামত পাওয়া গেছে। অভিযোগ দাখিলের পুর্বে চেয়ারম্যান দায়িত্ব গ্রহনের পর মধ্যবর্তী প্রায় ১ বছর পরিষদ হতে কোন ভাতা প্রদান করা হচ্ছে না। উক্ত অভিযোগ পর্যালোচনা করে জানা যায়, পরিষদের আয় সন্তোষজনক না হওয়ায় চেয়ারম্যান বেতন ভাতা দিতে পারছেন না। বিভিন্ন খাতে আয়ের বিষয়টি মোটামুটি সন্তোষজনক হলেও হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের হার শূন্যের কোটায় থাকায় এ ব্যর্থতা।
এলজিএসপি-৩ এর আওতায় বরাদ্ধকৃত অর্থ নিয়ে আলোচনার শেষ প্রান্তে তার টেবিলে থাকা মাসিক রেজ্যুলেশন খাতাটি হঠাৎ করে উধাও হয়ে যায় এবং সে বিষয়ে একটি জিডি ৯০২ তারিখ ১৯/০৯/২০১৭ইং কানাইঘাট থানায় দাখিল করা হয়। এ বিষয়ে তদন্ত করে দেখা যায় রেজ্যুলেশন খাতাটি অভিযোগকারী সদস্যরা ও চেয়ারম্যান উভয়ের স্বার্থ জড়িত ফলে ২ পক্ষের মধ্য থেকে যে কোন এক পক্ষ রেজ্যুলেশন খাতাটি গোপন করেন। অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের ৩টি ব্যাংক একাউন্ট ষ্টেটমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সদস্যদের অভিযোগ ছিল চেয়ারম্যান ৩ টি ব্যাংক একাউন্ট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা উত্তোলন করেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা এ ব্যাপারে কোন সত্যতা পাননী। চেয়ারম্যান ভুয়া প্রজেক্ট বানিয়ে উনার মনগড়া মানুষ দিয়ে প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করেছেন এব্যাপারে কিছু গড়মিল পাওয়ায় অধিকতর তদন্ত ও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার বলে জানান। এতে উল্লেখ আছে, চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ইউনিয়ন পরিষদে অনুপস্থিত থাকায় গ্রাম আদালত কার্যক্রম প্রায় বন্ধ রয়েছে, বিষয়টি চেয়ারম্যান অস্বীকার করেন, এতে তদন্তকারী কর্মকর্তা সরজমিনে তদন্তকালে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের রেজিষ্টার/তালিকা যাচাই করলে চেয়ারম্যানের বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া যায়। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির কারণে সাধারণ নাগরিকগণ তাদের মৌলিক ও নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত হওয়ায় সদস্যদের আনা অভিযোগ চেয়ারম্যানের পক্ষে মতামত দিয়েছেন সাধারণ জনগন।
অভিযোগ সমুহের প্রেক্ষিতে পরিষদের ৯ জন সদস্য অভিযোগ আনলেও পরবর্তীতে অনাস্থা জ্ঞাপনকারী প্রতিবালা (সংরক্ষিত সদস্য ১,২,ও,৩) তার অনাস্থা প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেন। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনের ৩৯ ধারা মোতাবেক অনাস্থা জ্ঞাপন করেন। তৎপরবর্তীতে প্রতিবালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে অনাস্থা প্রস্তাব প্রত্যাহার করায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ১১ উপ ধারা মোতাবেক পুরোপরি বলে বিবেচিত হচ্ছেনা।
এবিষয়ে কানাইঘাট সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মামুন রশিদ জানান, অভিযোগ দেওয়া সহজ প্রয়োগ করা কঠিন। আমি সব সময় যথাসাধ্য চেষ্টা করি ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত থাকতে এবং গ্রাম আদালত পরিচালনা করতে। ব্যাংক একাউন্ট থেকে অর্থ আত্বসাতের কথাটি সম্পুর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমার উপরে ইউপি সদস্যদের আনিত অভিযোগের ব্যাপারে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম যে অভিযোগটি তদন্তে মিথ্যা প্রমানিত হবে। কৃষি অফিসারের তদন্তে অভিযোগটি মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে।
এদিকে অভিযোগকারীদের পক্ষে কানাইঘাট সদর ইউপির ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য আমিন উদ্দিন গত ২৯ নভেম্বর সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে উক্ত তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রত্যাখান করে একটি লিখিত নারাজি অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগকারী ইউপি সদস্য আমিন উদ্দিন বলেন, কানাইঘাট উপজেলা কৃষি অফিসার কতৃক প্রদানকৃত তদন্ত প্রতিবেদনটি বিধি সম্মত হয়নী। তাই আমরা পুনঃতদন্তের আবেদন করেছি। তদন্ত প্রতিবেদনটি অর্থের লেনদেনের মাধ্যমে হয়েছে। তিনি আরো বলেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের পক্ষে যতেষ্ট প্রমানাধি রয়েছে। তা আমরা প্রমান করতে সক্ষম হবো।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D