বাসিনা নদী’র পুনঃখনন সীমানা নির্ধারণ করেনি সিলেট পাউবো!

প্রকাশিত: ১:৪৪ অপরাহ্ণ, মে ২, ২০২৬

বাসিনা নদী’র পুনঃখনন সীমানা নির্ধারণ করেনি সিলেট পাউবো!

এককালের খড়স্রোতা ‘বাসিয়া নদী’র নাব্যতা আবারও ফিরিয়ে আনতে আজ (২রা মে, শনিবার) নদীর পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ইতিমধ্যে পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের জন্য প্রায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলেও, এখনও নদীর সীমানা নির্ধারণ করেনি সিলেটের পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)! তাই ভরাট হয়ে সরু হওয়া ‘বাসিয়া নদী’র মূল সীমানা নির্ধারণ ছাড়াই নদীর উৎসব মুখ’সহ চারটি স্থানে খণ্ড খণ্ড ভাবে পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হবে।

এদিকে বাসিয়া নদীর পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের সময় চলে এলে নদীর মূল সীমানা নির্ধারণ না করায় সিলেটের পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)’র ভ‚মিকা নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে নানান প্রশ্ন? জনসাধারণ মনে করছেন নদীর সীমানা নির্ধারণ না করেই পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হলে অবৈধ দখলদারদের দখলে থাকা নদীর ভূমির কি হবে কিংবা নদীর ভূমি অবৈধভাবে দখল করে তাতে নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনা কখনও কি উচ্ছেদ করা হবে, নাকি তা দখলদারদের হয়ে যাবে। আর অবৈধ দখলের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে নদীটি থাকবে, নাকি চিরতরে বিলীন হয়ে পড়বে।

জনসাধারণে মূল দাবী ছিল বাসিয়া নদীর মূল সীমানা নির্ধারণ করে নদীর পাড় সনাক্ত ও নদীর তীরে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করার মাধ্যমে পুনঃখনন কাজ করার। আর এতেই সঠিকভাবে বাসিয়া নদী ফিরে পেতো নিজের নাব্যতা এবং তাতে বাড়তো পানির প্রবাহ। এদিকে ইদানিং অনেকেই বাসিয়ার নামের সাথে ‘নদী’ না বলে ‘খাল’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। এতেও জনমনে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এটি ভূল করে কেউ বলছেন, নাকি অবৈধ দখলদারকে অবৈধ স্থাপনাগুলোকে ঠিকিয়ে রাখার জন্য জীবন্ত একটি নদীকে হত্যা করার অপচেষ্টা করছেন। তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অজানা এক রহস্য।

১৯৭৭ সালে প্রথম বারের মতো ‘বাসিয়া নদী’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করে ছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আর দীর্ঘদিন পর পিতার দেখানো পথ অনুসরণ করে নাব্যতা হারানো বাসিয়া নদীর যৌবন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বাসিয়া নদী পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে করে প্রায় ৯০ হাজার কৃষক প্রত্যক্ষ এবং আরোও ২ লাখ ৫০ হাজার কৃষক পরোক্ষ ভাবে উপকৃত হবেন। তাই এনিয়ে নদী পাড়ের কৃষক’সহ সর্বজনসাধারণের মধ্যে যেমন বইছে আনন্দের বন্যা। তেমনি বাসিয়া নদীর মূল সীমানা নির্ধারণ ছাড়াই পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন নিয়ে রয়েছে চরম হতাশাও।

সিলেট বিভাগের ‘সিলেট-সুনামগঞ্জ জেলা’র ৫টি উপজেলার মধ্যে দিয়ে বহমান প্রায় ৪০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ‘বাসিয়া নদী’টি আজ কালের বিবর্তনে ‘দখল-দূষণ ও পলি ভরাট’র ফলে বিপন্নের পথে। সিলেট সদর উপজেলার মাশুকগঞ্জ বাজার এলাকায় ‘সুরমা নদী’ থেকে উৎপত্তি হয়ে দক্ষিণ সুরমা, বিশ্বনাথ, ওসমানীনগর হয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বরাক বিলে গিয়ে মিলিত হয়েছে বর্ষাকালে নদীতে পানির প্রবাহ না থাকা ‘বাসিয়া নদী’।

গত ২৯ এপ্রিল সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভার ‘বাসিয়া নদীর পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের পূর্বে নদীর মূল সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে কি না’ স্থানীয় সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে সেই উপস্থিত থাকা সিলেটের পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও পুনঃখনন কাজের এসও জাহাঙ্গীর সেলিম জানান বর্তমানে নদীর পাড় যেখানে যে অবস্থায় রয়েছে, সেখানে ঠিক সেভাবেই পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন করা হবে। নদীর সীমানা নির্ধারণের বিষয়টি আমাদের না। তাই এব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারব না, আপনারা প্রকৌশলী মহোদরে সাথে কথা বলতে পারেন।

তিনি সভায় আরোও জানান, জনসাধারণের দাবির প্রেক্ষিতে ‘বাসিয়া নদী’র পাড়ের কৃষক ও জনগনের কথা বিবেচনা করে বাসিয়া নদীতে পানির প্রবাহ বাড়ানোর জন্য সরকারি ভাবে খণ্ড খণ্ড ভাবে নদীটি বহমান পাঁচটি উপজেলায় নদীর প্রায় ২৩ কিলোমিটার পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহন করেছেন সরকার। আর এতে প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ কোটি টাকা।

এদিকে বাসিয়া নদীর পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের সময় চলে এলে নদীর মূল সীমানা নির্ধারণ না করায় সিলেটের পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)’র ভ‚মিকা নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে নানান প্রশ্ন? জনসাধারণ মনে করছেন নদীর সীমানা নির্ধারণ না করেই পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হলে অবৈধ দখলদারদের দখলে থাকা নদীর ভ‚মির কি হবে কিংবা নদীর ভূমি অবৈধভাবে দখল করে তাতে নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনা কখনও কি উচ্ছেদ করা হবে, নাকি তা দখলদারদের হয়ে যাবে। আর অবৈধ দখলের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে নদীটি থাকবে, নাকি চিরতরে বিলীন হয়ে পড়বে। জনসাধারণে মূল দাবী ছিল বাসিয়া নদীর মূল সীমানা নির্ধারণ করে নদীর পাড় সনাক্ত ও নদীর তীরে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করার মাধ্যমে পুনঃখনন কাজ করার। আর এতেই সঠিকভাবে বাসিয়া নদী ফিরে পেতো নিজের নাব্যতা এবং তাতে বাড়তো পানির প্রবাহ।

বাচাঁও বাসিয়া নদী ঐক্যে পরিষদের আহবায়ক ফজল খান বলেন, একটি চক্র বাসিয়া নদীকে ‘খাল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে নিজের অবৈধ স্থাপনাগুলো বহাল রাখার অপচেষ্ঠায় ব্যস্থ রয়েছে। তাই কেউ না বুঝে, আর কেউ যেনে-শুনেই বাসিয়াকে নদী না বলে খাল হিসেবে উল্লেক করছেন। সবার কাছে অনুরোধ দখল-দূষণ ও ভরাটের হাত থেকে জীবন্ত বাসিয়া নদীকে বাঁচাতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসুন। বাসিয়া নদীকে ধ্বংস করার অপচেষ্ঠা থেকে বিরত থাকুন সবাই।

বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া বলেন, বাসিয়া নদীর মূল সীমানা নির্ধারণ না করে নদীতে পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হলে তাতে আমাদের উপকারে আসবে না। এটা হবে যে লাউ সেই কদু। আর নদীর সীমানা নির্ধারন করে পুনঃখনন করা হলে জনগণের উপকারের পাশাপাশি নদীটি নিজের নাব্যতাও ফিরে পাবে।

জানতে চাইলে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও পুনঃখনন কাজের তদারকি কর্মকর্তা (এসও) জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, এখনও নদীর মুল সীমানা নির্ধারণ করা সম্বব হয়নি। তবে মানুষের মুখে মুখে শুনেছি বাসিয়া নদীর প্রস্থ কোথাও ৩৩ মিটার আবার কোথাও ৩৫ মিটার রয়েছে। বর্তমানে যে অবস্থায় আছে সেই অবস্থাতেই পুনঃখনন কাজ শুরু করা হবে।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট