নিউজিল্যান্ডের শিক্ষার্থী ভিসায় চার পরিবর্তন, কাজের সুযোগ কমল যাঁদের

প্রকাশিত: ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০২৬

নিউজিল্যান্ডের শিক্ষার্থী ভিসায় চার পরিবর্তন, কাজের সুযোগ কমল যাঁদের

উচ্চশিক্ষার জন্য নিউজিল্যান্ডে যেতে চান, এমন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসার নিয়মে বড় পরিবর্তন এনেছে দেশটির সরকার। নতুন নিয়মে মাস্টার্স বাই রিসার্চের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সুযোগ কমিয়ে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৫ ঘণ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি ইংরেজি দক্ষতা যাচাই, ভিসার আবেদন স্থগিত এবং কোর্স শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত অবস্থানের সময়েও পরিবর্তন এসেছে। নতুন এসব নিয়মে বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও কাজের পরিকল্পনায় কী প্রভাব পড়বে?

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের শিক্ষার্থী ভিসা নীতিতে চারটি পরিবর্তন এনেছে নিউজিল্যান্ড। দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের নতুন নিয়মে মাস্টার্স পর্যায়ে গবেষণারত শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ভিসার শর্ত পূরণে ইংরেজি ভাষার দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনিয়মের অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভিসার আবেদন স্থগিত রাখা এবং কোর্স শেষে অতিরিক্ত অবস্থানের সময় বাড়ানোর বিধান যুক্ত হয়েছে।

দ্য ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন নিয়মগুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা ও কাজের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলবে।

১. মাস্টার্স গবেষণার শিক্ষার্থীদের কাজের সময় কমল
নতুন নিয়মে মাস্টার্স বাই রিসার্চের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৫ ঘণ্টা কাজ করতে পারবেন। তবে নির্ধারিত ছুটির সময়ে তাঁদের পূর্ণকালীন কাজের সুযোগ থাকবে।

আগে এ ধরনের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা ছিল না। নতুন নিয়মে সেই সুযোগ সীমিত করা হয়েছে।

ফলে যেসব শিক্ষার্থী নিউজিল্যান্ডে পড়াশোনার খরচের একটি অংশ চাকরি করে মেটানোর পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের নতুন সময়সীমা বিবেচনায় রেখে আর্থিক পরিকল্পনা করতে হবে।

২. ইংরেজি দক্ষতাকে দেওয়া হচ্ছে বাড়তি গুরুত্ব
ভিসার শর্ত পূরণে শিক্ষার্থীর ইংরেজি ভাষার দক্ষতাকে নতুন নিয়মে স্পষ্টভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ড বিবেচনা করবে, একজন শিক্ষার্থী ভিসার শর্তগুলো যথাযথভাবে মেনে চলতে পারবেন কি না। এ ক্ষেত্রে তাঁর ইংরেজি ভাষায় দক্ষতাও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

অর্থাৎ শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করাই যথেষ্ট নয়, ভিসার শর্ত মেনে চলার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

৩. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনিয়মে স্থগিত হতে পারে ভিসার আবেদন
নতুন নিয়মে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগের নিষ্পত্তি না হলে ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ড শিক্ষার্থীর ভিসার আবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত রাখতে পারবে।

আগেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল। তবে নতুন নিয়মে যেসব পরিস্থিতিতে আবেদন স্থগিত করা যাবে, তার পরিধি বাড়ানো হয়েছে।

এ পরিবর্তনের ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচনের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভর্তির আগে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম মেনে চলার রেকর্ড ও সংশ্লিষ্ট অনুমোদনের বিষয়গুলো যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।

৪. কোর্স শেষে অতিরিক্ত অবস্থানের সময় বাড়ল
নতুন নিয়মে নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে কোর্স শেষ হওয়ার পর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের অতিরিক্ত সময় এক মাস থেকে বাড়িয়ে দুই মাস করা হয়েছে।

আগের নিয়মে পড়াশোনার ধরন ও মেয়াদের ওপর নির্ভর করে শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ ৩১ মার্চ অথবা কোর্স শেষ হওয়ার এক মাস পর শেষ হতো।

নতুন নিয়মে প্রযোজ্য শিক্ষার্থীরা কোর্স শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত দুই মাস সময় পাবেন। তবে ৩১ মার্চ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার যে বিধান রয়েছে, সেটি অপরিবর্তিত থাকছে।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কী করণীয়?
নিউজিল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন এমন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নতুন নিয়মগুলো ভালোভাবে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

বিশেষ করে মাস্টার্স বাই রিসার্চে ভর্তি হতে আগ্রহীদের পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সুযোগ কমে যাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে আর্থিক পরিকল্পনা করতে হবে। একই সঙ্গে ইংরেজি দক্ষতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতা এবং ভিসার শর্ত সম্পর্কেও সতর্ক থাকতে হবে।

এ ছাড়া কোর্স শেষ হওয়ার পর দেশে ফেরা, চাকরি খোঁজা কিংবা পরবর্তী ভিসার আবেদন করার পরিকল্পনা থাকলে ভিসার প্রকৃত মেয়াদ ও অতিরিক্ত অবস্থানের সুযোগ যাচাই করা জরুরি।

সব মিলিয়ে, নিউজিল্যান্ডের নতুন ভিসা নীতিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাজ, পড়াশোনা ও ভিসা ব্যবস্থাপনায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। দেশটিতে পড়তে যেতে আগ্রহীদের আবেদন করার আগে ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ডের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নেওয়া উচিত।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট