মালয়েশিয়ায় ৫৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসী আটক

প্রকাশিত: ৭:০০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

মালয়েশিয়ায় ৫৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসী আটক

মালয়েশিয়ায় চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৫৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে (পিএটিআই) আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। একই সময়ে সারাদেশে ৯ হাজার ৭০০টির বেশি অভিযান পরিচালনা করে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের (জেআইএম) উপমহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আটক হওয়া ৫৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীর মধ্যে ৩৫ হাজারের বেশি জনকে জেআইএমের নিজস্ব অভিযান থেকে আটক করা হয়েছে। বাকি ২২ হাজারের বেশি বিদেশিকে দেশের প্রবেশপথগুলোতে আটক করা হয়েছে অথবা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছ থেকে হস্তান্তরের পর আটক করা হয়েছে।

লোকমান এফেন্দি বলেন, ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৬০ দিনে সারাদেশে ৯ হাজার ৭০০টির বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ৩৭টি অভিযান চালানো হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে স্থানীয় একটি আবাসিক এলাকায় ফ্ল্যাট শ্রী কলামে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান। অভিযানে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এমকেএন), জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন) এবং মালয়েশিয়া সিভিল ডিফেন্স ফোর্স (এপিএম)-এর সদস্যরাও অংশ নেন।

ফ্ল্যাট শ্রী কলামের অভিযানে মোট ১৩৩ জন বিদেশি নাগরিককে পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অভিযানে প্রধানত নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান, বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা এবং অনুমোদিত উদ্দেশ্যের বাইরে পাস বা ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহার করার মতো অপরাধ শনাক্ত করা হয়েছে।

লোকমান এফেন্দি বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুধু বিদেশি নাগরিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত নিয়োগকর্তা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক এবং বাড়ি বা আবাসিক স্থাপনার মালিকদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, কোনো নিয়োগকর্তা বৈধ কর্মসংস্থান পাস ছাড়া অবৈধ অভিবাসীকে নিয়োগ বা আশ্রয় দিলে তার বিরুদ্ধেও মামলা করা হবে। একইভাবে অবৈধ অভিবাসীদের কাছে বাড়ি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাড়া দেওয়া মালিকদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

জেআইএমের এই কর্মকর্তা জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১ হাজার ৭২০ জন নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ২৬০ দিনের হিসাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ছয়জন নিয়োগকর্তা বা স্থাপনার মালিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

এদিকে অবৈধ অভিবাসীদের উপস্থিতি বা অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা নজরে এলে সাধারণ মানুষকে নিজের হাতে আইন তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন লোকমান এফেন্দি।

তিনি বলেন, বিদেশি নাগরিকদের কোনো অনিয়ম বা আইন লঙ্ঘনের ঘটনা দেখলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। সম্ভব হলে ছবি ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্যসহ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

লোকমান এফেন্দি বলেন, বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে মালয়েশিয়ার জনগণের সচেতনতা ও উদ্বেগকে তারা গুরুত্ব দেন। তবে কোনো ব্যক্তি নিজে আইন প্রয়োগ করতে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, ‘কোনো অনিয়ম দেখলে নিজেরা ব্যবস্থা নেবেন না। বরং পূর্ণাঙ্গ তথ্য, সম্ভব হলে ছবি দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করুন। এতে দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।’

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের সাম্প্রতিক এই পরিসংখ্যান দেশটিতে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকার চিত্র তুলে ধরছে। বিশেষ করে বিদেশি শ্রমিকদের পাশাপাশি তাদের নিয়োগকর্তা ও আবাসনদাতাদেরও আইনের আওতায় আনার বিষয়টি জোরদার করা হচ্ছে।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট