সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ১৫৭

প্রকাশিত: ৩:৪৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬

সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ১৫৭

সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১১৯ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন।

এ নিয়ে চলতি বছর বিভাগে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৭ জনে।

মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন সিলেটের এবং অন্যজন বিশ্বনাথ উপজেলার বাসিন্দা। দুজনেরই চিকিৎসা হয়েছিল সিলেট নগরের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে নতুন করে ১১৯ জন ভর্তি হয়েছেন।

নতুন রোগী ভর্তির পাশাপাশি বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৯৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২০৫ জন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ৪২ জন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২৯ জন এবং সিলেটের পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩১ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৩৬৩ জন, হবিগঞ্জে ১৫৩ জন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন। শনাক্ত রোগীদের মধ্যে দুজন রুবেলা রোগীও রয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে দেখা যায়, এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে সিলেটে ৬০ জন, হবিগঞ্জে ১৭ জন, মৌলভীবাজারে ১২ জন এবং সুনামগঞ্জে ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

অন্যদিকে নিশ্চিত হাম রোগে সিলেটে ৪ জন, হবিগঞ্জে ৪ জন, মৌলভীবাজারে ১ জন এবং সুনামগঞ্জে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সব মিলিয়ে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে সিলেট বিভাগে এ পর্যন্ত ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন করে কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে সন্দেহজনক রোগী হিসেবে বিপুলসংখ্যক মানুষের হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি, রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাব্যবস্থা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট