শাবিতে রুদ্র সেনের নামে স্কলারশিপ, নামফলক স্থাপনে কমিটি

প্রকাশিত: ৮:২৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৫, ২০২৬

শাবিতে রুদ্র সেনের নামে স্কলারশিপ, নামফলক স্থাপনে কমিটি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের ধাওয়ায় খালে পড়ে মৃত্যুবরণ করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) তৎকালীন ছাত্র রুদ্র সেন। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে রুদ্র সেন স্কলারশিপ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম।

তিনি বলেন- শহিদ রুদ্র সেন মেমোরিয়াল স্কলারশিপ নামে একটি বৃত্তি চালু করা হবে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট থেকে প্রাথমিকভাবে ১০ লাখ টাকা সংরক্ষণ করা হবে এবং প্রতি বছর ১৮ জুলাই শহিদ রুদ্র সেনের শাহাদাতবার্ষিকীতে এ বৃত্তি প্রদান করা হবে। এছাড়া শহিদ রুদ্র সেনের নামে নামকরণ করা লেকের উন্নয়ন, স্থায়ী স্মৃতিফলক নির্মাণসহ তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) শাবিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান উপাচার্য।

তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। শুধু বক্তৃতা দিলেই হবে না, শিক্ষার্থীদের এসব কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করতে হবে, যাতে তারা জানতে পারে দেশের মানুষ কত বড় ত্যাগ স্বীকার করেছে।”

গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা জোরদারের বিষয়ে তিনি বলেন, “প্রতিটি বিভাগে অন্তত পাঁচজন শিক্ষার্থীকে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ (টিএশিপ) দেওয়ার বিষয়ে আমরা কাজ করছি, যাতে গবেষণায় আগ্রহী শিক্ষার্থীরা শুরু থেকেই গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পায়।”

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন, বৃক্ষরোপণ, বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ, বিশেষ দোয়া, বিভাগভিত্তিক ফিস্ট এবং ক্যাম্পাসে আলোকসজ্জার আয়োজন করা হয়।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের নিচতলার গ্যালারি কক্ষে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা চত্বরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম। এরপর পতাকা চত্বর সংলগ্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়।

পরে প্রশাসনিক ভবন-১ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের সামনে এসে শেষ হয়।

এরপর বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাঈল হোসেন।

এছাড়া বক্তব্য দেন ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক অধ্যাপক ড. সালমা আক্তার, গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাহ আতিকুল ইসলাম, লাইব্রেরি প্রশাসক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম, বিজয়-২৪ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাকারিয়া, ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. হুসাইন আল মামুন, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, রাইটিং সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মুরাদ, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম, লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. আশরাফ সিদ্দিকী, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক আহমেদ মাহবুব ফেরদৌসী, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোখলেসুর রহমান, ইসলামী ছাত্রশিবির শাবিপ্রবি শাখার সভাপতি মাসুদ রানা তুহিন, ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সোহাগ, জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক রাশিদ আবরার, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি উসামা, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মুজাহিদুল ইসলাম, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ বিল্লাহ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আজাদ শিকদার, রিয়াজ হোসেন রিমন, জহিরুল ইসলাম, ফয়সাল হোসেন ও মাহবুবুল ইসলাম পবন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল কাদির, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম, ভৌত বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আহমেদ কবির চৌধুরীসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

আলোচনা সভা শেষে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

দিবসটি উপলক্ষে প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বর্তমান শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে বিভাগভিত্তিক বিশেষ ভোজ (ফিস্ট) আয়োজন করা হয়। আগে এ আয়োজন শুধু আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এবার আবাসিক ও অনাবাসিক—সব শিক্ষার্থী নিজ নিজ বিভাগের আয়োজনে অংশ নেন।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট